বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:২৮ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৭ জুলাই সংঘটিত সহিংসতায় মারধরের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর একটি আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
দায়ের করা মামলায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৭-১৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন— রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত এবং সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অভিযুক্তরা ছুরি, লোহার রড, বেল্ট এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে মাহমুদুলকে ধাওয়া করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ও বাইরে ঘিরে ফেলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুলের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। সালমান সাব্বিরও তার মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে মাহমুদুলের বাম চোখে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতঃপর অভিযোগ করা হয়, চারজন আসামি মাহমুদুলকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।
মামলায় বলা হয়েছে, পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা মাহমুদুলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা उसे জোরপূর্বক অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করে। পরবর্তীতে মাহমুদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাহমুদুলের বাবা জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনার খবর জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়েও তিনি ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইতে পরামর্শ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হযরত আলী বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, মাহমুদুলের বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী তার নিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় হুমকির অভিযোগ আনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের সঙ্গে ওইদিন রাতে একটি সভায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের আনাস, একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন সেখানে যান। পরে তারা অভিযোগটি অস্বীকার করে প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে একটি সভা ডাকেন প্রক্টর। সভায় রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইল ফোন চেক করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আনাসের ছবি খুঁজে পান। এরপর তাকে প্রক্টর দপ্তরে আম্মার এবং সালমান সাব্বির মারধর করেন। পরে দুপুরেই প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দেন এবং আনাসসহ বাকিরা প্রক্টর দপ্তর থেকে চলে আসেন।
এ ঘটনার জেরে বিকাল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে ঢুকে আম্মারসহ কয়েক জনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।
হামলা চালানোর পর আনাসসহ সঙ্গীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নেন। পরে শিবির ও রাকসু নেতারা পাঠকক্ষের ফটক থেকে প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে পাঠকক্ষে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকেই তারা ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করার লক্ষ্যকে অর্জন করতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্য ফার্স্ট হেলথ ক্যাডার ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা বর্তমানে এখনও অপর্যাপ্ত হয়ে রয়েছে। এদিকে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই, নিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্য খাতকে কার্যকর করবার জন্য সরকার এবং চিকিৎসকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে সৃষ্ট নানা অসঙ্গতি দূর করে সরকার একটি আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এজন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের তাদের কর্মস্থলে থেকে দায়িত্বশীলভাবে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও চিকিৎসকদের সমস্যা সমাধানে তিনি সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৪তম ‘ড্র’ আগামী রোববার (২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পুরস্কার বিজয়ী পাবেন ৬ লাখ টাকা।
অনেকেই সারাজীবন আয় করা অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করবেন তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন। কেউ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করেন, আবার কেউ সঞ্চয়পত্র বা বিভিন্ন ব্যবসায় নিবেদন করেন। তবে মধ্যবিত্তদের জন্য সঞ্চয়ের অন্যতম স্মার্ট মাধ্যম হল প্রাইজবন্ড।
সরকার সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’ নামে এই বন্ড চালু করেছে। এই বন্ড যেকোনো সময় কেনা ও ভাঙানো যায় এবং এর ১২৪তম ‘ড্র’ আগামী ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কার বিজয়ী ৬ লাখ টাকা তো পায়, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীর জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী পান এক লাখ টাকা করে এবং চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী ৫০ হাজার টাকা করে পায়। পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ীরা প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে পান। প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের জন্য ঘোষিত সংখ্যার প্রতিটি সিরিজের সেই সংখ্যার বন্ড একই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত।
ড্রয়ের নির্ধারিত তারিখের ৬০ দিন আগে (সংশ্লিষ্ট বিক্রির তারিখ ধরে ও ড্রয়ের তারিখ বাদ দিয়ে) যেসব প্রাইজবন্ড বিক্রি হয়েছে, সেগুলো এ ড্রয়ের আওতায় পড়ে। প্রাইজবন্ডে পুরস্কারের অর্থ থেকে ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে, যা আয়কর আইন ২০২৩ এর ১১৮ ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী।
উল্লেখ্য যে, বছরের ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর তারিখে ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারিত আছে। যদি নির্ধারিত তারিখে সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটি পড়ে, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কনটেন্ট অপসারণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বার্তা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, এ অভিযোগের ভিত্তিতে টেলিগ্রাম সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৪৬ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার বা ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি জানান। অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় টেলিগ্রাম তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তা নিয়ে এক বছরব্যাপী তদন্তের পর এ মামলা করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের অভিযোগের পরেও টেলিগ্রাম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মৃত্যুদণ্ডের ভিডিও এবং গণগুলির হামলার ফুটেজ সরাতে কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়েছে। তাছাড়া এসব কনটেন্ট ছড়ানো অ্যাকাউন্ট, চ্যানেল ও গ্রুপ বন্ধ করতেও ব্যর্থ হয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
রাশিয়া টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। রাশিয়ার অভিযোগ, তিনি ‘সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার’ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন।
ই-সেফটির দাবি, টেলিগ্রাম ২০১৯ সালের নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও এবং ২০২২ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে গণগুলির হামলার ভিডিওসহ কিছু পরিচিত সন্ত্রাসী কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারেনি।
এসব কনটেন্ট প্রায় তিন মাস প্ল্যাটফর্মে থাকা অবস্থায় সরানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুবাই ও ফ্রান্স—উভয় দেশেই বসবাস করেছেন ৪১ বছর বয়সী দুরভ। ২০২৪ সালে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফরাসি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ফরাসি কর্তৃপক্ষ তার ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তিনি ফ্রান্স ছেড়ে চলে যান।
ফরাসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্টধারী দুরভের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে টেলিগ্রাম ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্র্যান্ট বৃহস্পতিবার বলেন, নোটিশ দেওয়ার পরেও টেলিগ্রাম সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে নেয়নি।
এর মধ্যে ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভিডিও, গণহত্যার ভিডিও এবং 'সাম্প্রতিক ইতিহাসে পরিচিত উগ্রপন্থী সহিংসতার সবচেয়ে কুখ্যাত কয়েকটি ঘটনার' ভিডিও।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সরাসরি সম্প্রচার করা হামলার ভিডিও এবং ২০২২ সালে নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের গুলিবর্ষণের ভিডিও-সংক্রান্ত কনটেন্টও ছিল।
সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোনো প্ল্যাটফর্মকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কনটেন্টের বিষয়ে অবহিত করা হলে, তাদের অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্ডি ট্র্যাজেডির সাম্প্রতিক ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তিনি গত বছর সিডনির একটি সমুদ্র সৈকতে ইহুদি বিদ্বেষীর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি উল্লেখ করেন, যাতে ১৫ জন নিহত হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত টেলিগ্রাম একটি বড় বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ বার এটি ব্যবহার করা হয়। সূত্র: এএফপি, আনাদোলু এজেন্সির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ হয়ে পড়ছে কর্মব্যস্ত। আর এই কর্মব্যস্ত জীবনে প্রযুক্তি সহজতা নিয়ে এসেছে। সংসারের বিভিন্ন বিষয়কে সহজতর করার জন্য প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য। রেফ্রিজারেটর হলো প্রযুক্তির একটি চমৎকার আবিষ্কার। এর ফলে আপনি নিয়মিত বাজার করার ঝামেলাও এড়াতে পারেন।
অনেকে একসাথে প্রচুর বাজার করে চিন্তিত হয়ে পড়েন, যে ফ্রিজে রাখা মাছ অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে কি না! মাছ ফ্রিজে কতদিন রাখা যাবে? আদতে কতদিন এটি ভালো থাকবে? মাছকে নিরাপদে কতদিন পর্যন্ত রাখা যায় তা জানা প্রয়োজন। আজকের প্রতিবেদনেই এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই।
মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রথমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক প্যাকেটজাত করার গুরুত্ব রয়েছে। মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে একটি এয়ারটাইট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে শক্তভাবে সিল করে রাখা উচিত। এতে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না এবং মাছের দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। ফ্রিজে রাখার সময় মাছটি বরফযুক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখা হলে এটি কিছুটা বেশি সময় তাজা থাকে।
তাজা মাছ, চিংড়ি, স্ক্যালপ বা স্কুইড টাইপ সামুদ্রিক খাবার সাধারণভাবে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে রান্না করে ফেলা নিরাপদ। তবে কিছু বড় আকারের মাছ, যেমন টুনা, স্যামন, ট্রাউট বা সোর্ডফিশ তুলনামূলকভাবে একটু বেশি সময়, প্রায় তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তৈলাক্ত মাছ যেমন ম্যাকারেল, সার্ডিন বা ব্লুফিশ সাধারণত তিন দিনের বেশি ফ্রিজে না রাখাই ভালো। অতিরিক্ত সময় রাখলে স্বাদ, গন্ধ এবং নিরাপত্তা তিনটি বিষয়ই নষ্ট হতে শুরু করে।
যদি আপনার দুই দিনের মধ্যে মাছ রান্না করার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে তা ফ্রিজারে রাখা উত্তম। ফ্রিজারে রাখার আগে মাছকে আর্দ্রতা প্রতিরোধক ফ্রিজার পেপার বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে শক্তভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে এবং ভিতরে বাতাস প্রবেশ করতে দিতে হবে না। সঠিকভাবে মোড়ানো মাছ ফ্রিজারে দীর্ঘদিন ভালো থাকে, তবে ব্যবহারের সময় ধীরে ধীরে বরফ গলানো জরুরি। রান্নার আগের রাতে মাছটিকে ফ্রিজারের পরিবর্তে রেফ্রিজারেটরের নিচের তলাতে রেখে গলে নেয়ার পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো।
রান্না করা মাছও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব, তবে এরও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। সাধারণত রান্না করা মাছ ফ্রিজের ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় দুই থেকে তিন দিন পরিমাণ ভালো থাকে। এই সময়ের বেশি রাখলে স্বাদ খারাপ হয়ে যায় এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অনেকের ধারণা রয়েছে, ফ্রিজে রাখা মাছের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। বাস্তবে, সঠিকভাবে হিমায়িত করলে মাছের প্রোটিন, চর্বি এবং ভিটামিন এ ও ডি-র মতো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে হিমায়িত করার কারণে মাছের স্বাদ এবং গঠনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একবার মাছ গলে গেলে তা আর কখনোই পুনরায় ফ্রিজে জমায়েত করা উচিত নয়। এতে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া বেড়ে যেতে পারে এবং খাবারটি নিরাপদ থাকে না।
সবশেষে, ভালো মাছ সংরক্ষণের শুরু সঠিকভাবে ভালো মাছ কেনার মাধ্যমে হয়। তাজা মাছের রং উজ্জ্বল থাকে, গন্ধ স্বাভাবিক এবং ফিলে আর্দ্র ও টানটান দেখায়। তাই ধূসর, নিস্তেজ বা শুকনা দেখতে মাছ থেকে এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে তাজা এবং হিমায়িত- দুই ধরনের মাছই পুষ্টিকর এবং নিরাপদে খাওয়া সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ