০৯:৫৪ পি.এম
বন্যার পানি নামতে শুরু করার পরেও সীতাকুণ্ডের কৃষকদের সংকট কিন্তু কাটেনি। বীজতলা তলিয়ে গেছে, নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার একর সবজিখেত ও আবাদি জমি। ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক নতুন করে চাষাবাদ করার সামর্থ্যও হারিয়েছেন। এ অবস্থায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে ধানের বীজ, কৃষি উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি গত শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী সীতাকুণ্ড উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে এ ঘোষণা দেন। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, সীতাকুণ্ড পৌরসভা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ইউনিয়নে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একইসাথে ভাটিয়ারী, সলিমপুর ও জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায়, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় উপজেলায় বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিখেত, বীজতলা ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক বীজ, সার ও চাষাবাদের পুঁজি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এবং তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি এসময় বলেন, দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার বাইরে রাখা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলতে থাকবে। তিনি আরও বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কৃষক। অনেকের বীজতলা, সবজিখেত ও আবাদি জমি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের হাতে ধানের বীজ, কৃষি উপকরণ এবং পুনরায় চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষক মাঠে ফিরে এলে, শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতিই পুনরুজ্জীবিত হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
আসলাম চৌধুরী জানান, বিগত বন্যায় অনেক সড়কের ক্ষতি হওয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গম এলাকায় কোনো পরিবার সহায়তা বঞ্চিত না হয়।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন জানান, বন্যার শুরু থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামতুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, নুরুল আনোয়ার চেয়ারম্যান, বদিউল আলম বদরুল, আওরঙ্গজেব মোস্তফা, মুক্তিযোদ্ধা মহররম আলী, মোস্তাফিজুর রহমান হিরু, ওহিদুর নবী শরিফ, আলা উদ্দিন মাসুম, আবুল কালাম আজাদ, শাহাবুদ্দিন রাজু, লোকমান হাকিম, মো. ইসমাইল হোসেন, আবু জাফর, শাহাবুদ্দিনসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণপ্রাপ্ত বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছানোর ফলে তাৎক্ষণিক সংকট কিছুটা কমেছে। আর কৃষকদের জন্য বীজ ও কৃষি সহায়তার ঘোষণায় তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন