প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহী থেকে নেসকোর ইতালির স্বপ্ন ভেঙে কুমিল্লার ছয় যুবক বর্তমানে লিবিয়ায় জিম্মি রয়েছে, এমন খবর এসেছে। ২০ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা)। অভিজ্ঞান এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধানে, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলেন যাতে পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে পারেন। কিন্তু একটি নির্মম পরিহাসে, তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে এখন জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মুক্তির জন্য দাবি করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। মুক্তির জন্য টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতি দিন তাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। সন্তানের অসহায় আর্তনাদ শুনে স্বজনরা প্রতিদিন ভেঙে পড়ছেন।
জিম্মি হওয়া যুবকদের মধ্যে রয়েছেন খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২০), মানিকুল ইসলাম (২০), মো. সোহেল (২৭), তাজ মোহাম্মদ (২৫), ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (২১)।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলি অভিযোগ করছে যে, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে প্রতিজনের জন্য ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে ইতালিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা মানবপাচারকারীদের হাতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আট মাস আটকে রাখার পর সম্প্রতি তাদের অন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে, প্রত্যেকের জন্য ২৫ লাখ টাকা করে, মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
ছেলের নির্যাতনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দিশাবন্দ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে প্রায় নয় মাস আগে তার ভাই সামছুল আলম ২০ লাখ টাকা নেন। পরবর্তী সময়ে মানিকুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে তাকে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলের ওপরে নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। একই অভিযোগ করেছে সোহেলের বাবা হারুনুর রশিদ। তারা জানিয়েছেন, প্রায় আট মাস আগে সামছুল আলমের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেও ভিডিওর বদলে একটি দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ওপরও নির্যাতন চলছে।
পরিবারগুলি দাবি করছে যে, দালালরা ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের চাপ প্রদান করছে। ভিডিওতে যুবকদের আর্তনাদ এবং নির্যাতনের দৃশ্য দেখে পরিবারগুলোর সদস্যরা চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলম এবং তার পরিবার গত ১০ থেকে ১২ দিন আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল দালাল মানিকের সঙ্গেও এখন আর কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ইতোমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছে, সকলের জীবিত ও নিরাপদ দেশে ফিরে আসার জন্য। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনাসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে লিবিয়ায় জিম্মি থাকা ছয় যুবককে উদ্ধারের জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন