ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলাপাড়ায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি ক্রমশই বাড়ছে, রাতের ঘুম আসছে হারানো


কলাপাড়ায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি ক্রমশই বাড়ছে, রাতের ঘুম আসছে হারানো

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত ছয় হাজার পরিবারের জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে। বর্ষা শুরু হলেই এই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মনে এক অজানা আতঙ্ক ভর করে। আকাশে মেঘ জমা হওয়া, সাগরে নিম্নচাপ অথবা পূর্ণিমার জোয়ারের খবর এলেই বেড়িবাঁধের বাইরের গ্রামের মানুষ রাতের ঘুম হারায়। কারণ, যে কোনো মুহূর্তে জলোচ্ছ্বাসের পানি তাদের বসতভিটায় হামলে পড়তে পারে। ২০২৫ সালের বর্ষা মৌসুমে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। অস্বাভাবিক জোয়ার, নিম্নচাপজনিত জলোচ্ছ্বাস এবং টানা বর্ষণে কলাপাড়ার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নের উপকূলীয় জনপদে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবছর বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ারেও পানির উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে। তিন নম্বর সতর্ক সংকেতকালীন সময় জলোচ্ছ্বাসে বাড়িঘর ডুবে যায়। রান্নার চুলা পর্যন্ত ডুবছে। বাস উপযোগিতা হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন এসব মানুষ। অনেকে বলছেন তারা ৫০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। কিন্তু এখন পানির চাপ ক্রমশ বাড়ছে এবং ঘরের ভিটি উচু করেও শেষ রক্ষা হয় না।

টিয়াখালী পশ্চিম লোন্দা সেতুর পূর্বপাশে ধানখালীর লোন্দায় বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় ২৫০ পরিবারের বসবাস। তারা জানিয়েছেন, এবছর পানির চাপ এত বেশি যে বাড়িঘরে তারা থাকতে পারছেন না। সেখানে বাসিন্দা হালিমা আয়শা জানান, অমাবস্যা-পুর্ণিমার সময় তারা পানিবন্দী থাকেন। এখন নরমাল জোয়ারেও পানির উচ্চতা বাড়ছে। বাড়িঘর ডুবে যায়। আর তিন নম্বর সংকেত থাকলে তো সবই ডুবে যায়। তাদের প্রটেকশনের নিজস্ব রিং বেড়িবাঁধও ভেঙে গেছে। আজ শনিবার দুপুরেও অস্বাভাবিক জোয়ার বইছে। জোয়ারের সময় পানিতে সব থৈ থৈ করে। বাস উপযোগিতা থাকছে না। রাতের বেলায় জলোচ্ছ্বাসের ভয়ে জেগে থাকতে হচ্ছে। নীলগঞ্জের সলিমপুর গ্রামে বেড়িবাঁধের বাইরের বাসিন্দা শিক্ষার্থী নুরুল করিম জানান, এখন পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় জোয়ার জলোচ্ছ্বাসে পরিণত হয়। এটি গত তিন বছর ধরে একইভাবে চলছে। ক্রমশ পানির চাপ বাড়ছে। নরমাল সময়ে আগে এমন আর দেখেননি। সমস্যার যেন শেষ নেই।

ধানখালীর সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াজউদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, লোন্দা থেকে নমরহাট বাজার পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে প্রায় এক হাজার পরিবার। পুরো ইউনিয়নে রয়েছে আরও অন্তত পাঁচশত পরিবার। তিনি জানিয়েছেন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এই পরিবারগুলোতে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকছে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে মানুষগুলো বসবাস করছেন। তারা আগে বেড়িবাঁধের স্লোপে থাকতেন, এখন বাঁধের উন্নয়নসহ ওইসব এলাকা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। রাস্তাগুলো সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাঁধের স্লোপ থেকে এসব মানুষ উচ্ছেদ হয়ে গেছে। চম্পাপুর ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের বাইরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অন্তত ৬০টি পরিবার। তাদের বসবাস চরম ঝুকিপূর্ণ।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

বালিয়াতলীর চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তার ইউনিয়ন বালিয়াতলীর চরনজীব থেকে বাবলাতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় দুইশত পরিবার বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থান করছে। তাছাড়া পক্ষিয়াপাড়া বাজার থেকে শনিবারের বাজার পর্যন্ত আরও সাত আটটি পরিবার বাঁধের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জেহাদী জানিয়েছেন, ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ডালবুগঞ্জে ৪১টি ঘর আছে। গাববাড়িয়া বাঁধ থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত ৪৫টি পরিবার। ডালবুগঞ্জ, থানখোলাস্লুইস, রসুলপুর, পেয়ারপুর, ফুলবুনিয়ায় ৪০টি এবং মনষাতলী, খাপড়াভাঙ্গা ও বরকুতিয়ায় আরও ৩০টি পরিবার বেড়িবাঁধের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে। মিঠাগঞ্জের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানিয়েছেন, ইউনিয়নের তেগাছিয়া বাজারের আশপাশে ২৫টি পরিবার, মিঠাগঞ্জে তিনটি, মেলাপাড়া ৪০টি, উত্তর চরপাড়া ৬৮টি, দক্ষিণ চরপাড়া প্রায় ১০টি এবং মধুখালীর লেকের দুই পাড়ে অন্তত ৬০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে। লতাচাপলীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এই ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার অস্বাভাবিক জোয়ারের সময় পানিবন্দী থাকে। এসব পরিবার বেড়িবাঁধের বাইরের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে। মম্বিপাড়া, দক্ষিন মুসুল্লিয়াবাদ, নাইয়রিপাড়া, গোড়া আমখোলা পাড়া, লক্ষীর বাজার এলাকা এসব পরিবারের বসবাসের ক্ষেত্র।

ধুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, এখানকার গঙ্গামতি, চরগঙ্গামতি ও কাউয়ারচরে অন্তত দুই হাজার পরিবার খুব ঝুকিপূর্ন অবস্থায় বসবাস করছে। এদের বর্ষা মৌসুমে অস্বাভাবিক জোয়ারে বাড়িঘর ছাড়তে হয়। সিডরের সময় এখানে প্রাণহানি ঘটে চার জনের। লালুয়ার চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস জানিয়েছেন, বেড়িবাঁধের বাইরের ঝুঁকিপুর্ণ সহস্রাধিক পরিবার বসবাস করছে। এক যুগ ধরে বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব পরিবারে এখন জীবিকার দুর্ভোগ পরিণত হয়েছে পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে। তাদের ভোগান্তি যেন অন্তহীন। একই দৃশ্য ১২টি ইউনিয়নের সর্বত্র। এইভাবে অন্তত ছয় হাজার পরিবার বেড়িবাঁধের বাইরের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। এসব পরিবারের কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে। তাদের অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাটে বিনিদ্র রাত। জলোচ্ছ্বাস আতঙ্কে রয়েছে এসব হাজার হাজার পরিবারের মানুষ। আর এখন এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এসব পরিবারের পুনর্বাসনে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, বেড়িবাঁধের বাইরের বাসিন্দাদের জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী একটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কাজ শুরু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর নির্মাণাধীন স্বপ্নের ভবন ধসে পড়েছে কচুয়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


প্রবাসীর নির্মাণাধীন স্বপ্নের ভবন ধসে পড়েছে কচুয়ায়

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামে একটি পুকুরে মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে পানি কমানোর ফলে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার কারণে প্রবাসী ভবন মালিক ও পুলিশের এএসআই মহিউদ্দিন মানিকের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, বলছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের মজুমদার বাড়ীর একটি পুকুরে পুনরায় মাছ চাষের জন্য পানি কমাতে গিয়ে মাছ বিক্রির কাজ চলছিল। এ সময় পুকুরের পূর্ব পাশের নির্মাণাধীন ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে ভবনের একটি বড় অংশ ধসের ঘটনায় পতিত হয়। এই ধসের কারণে ভবনটি এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং পরিবারটির সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন যাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন মজুমদার এবং আবুল হাসানাত মজুমদারকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করে পুকুরের পানি কমিয়ে মাছ বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে যান। এর ফলে ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে ধসের ঘটনাটি ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আরো জানান, এই ঘটনায় তাঁদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন মজুমদার ও হাসানাত মজুমদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, এলাকাবাসীর দাবি, অপরিকল্পিতভাবে পুকুরের পানি নিষ্কাশনের কারণে ভবন ধসের মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতকানিয়ায় মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বন্যার্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


সাতকানিয়ায় মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বন্যার্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৩ এর সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগম বলেছেন, "দুর্যোগে দেশের এক অঞ্চলের মানুষ কষ্ট পাবে, আরেক অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উৎসবে মেতে থাকবে-এটি কখনও কাম্য নয়। সবাইকে সম্মিলিতভাবে বিপদ মোকাবেলা করতে হবে। বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বিপদগ্রস্থদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় দেশ ও জাতি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছবে ইন শা আল্লাহ।" শনিবার (১৮ জুলাই) দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বাজালিয়া ও পুরানগড় ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে নগদ দুই হাজার টাকা হারে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

এছাড়াও, তিনি বাজালিয়া স্টেশনের নিকটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কওমী মাদরাসা নাজমুল উলুম মাদরাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা পরিদর্শণ করেন। পরিদর্শণ শেষে তিনি সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি উক্ত মাদরাসার সকল এতিম শিক্ষার্থীর পরিবার জন্য এক হাজার হারে নগদ টাকা এবং মাদরাসার জন্য নগদ টাকা ও চাল প্রদান করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় শাখার উদ্যোগে এবং মানবিক সংগঠন আলোকিত পুরানগড়ের আয়োজনে ও তামাদ্দুন তাহজীব নামক সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচী পালিত হয়।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান গুলশান আরা হোসাইন, উত্তর সাতকানিয়া সাঙ্গু সাংগঠনিক উপজেলা জামায়াত আমীর মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, বাজালিয়া ইউনিয়ন জামায়ত আমীর আলহাজ মাসুকুর রহমান, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ইসমাইল মুহাম্মদ রাশেদ, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন জামায়ত সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুল হাই সিকদার, ফিরোজ আহমদ, মাওলানা কাইছারুল হক, সমাজসেবক আবু জাফর সিকদার, সাইফুল্লাহ মুহাম্মদ সায়েম, ইসমাইল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, হেলাল কিবরিয়া প্রমূখ। এছাড়াও, বাজালিয়া এবং পুরানগড়ের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাজালিয়া নাজমুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মামুনুর রশিদের মুনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচী সমাপ্ত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিভাবক সমাবেশের পাশাপাশি হাফেজে কুরআন শিক্ষার্থীদের পাগড়ি প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


অভিভাবক সমাবেশের পাশাপাশি হাফেজে কুরআন শিক্ষার্থীদের পাগড়ি প্রদান

সেনবাগের আল-জাহিদ ইসলামিয়া কমপ্লেক্সের আওতাধীন আল-জাহিদ ইসলামিয়া হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার নতুন ভবনে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন, অভিভাবক সমাবেশ, হাফেজে কুরআন ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান, এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি শনিবার নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আল-জাহিদ ইসলামিয়া কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ জাহিদুল ইসলাম। আল-জাহিদ ইসলামিয়া কমপ্লেক্সের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব বশির উল্লাহ চৌধুরী রিপনের সভাপতিত্বে এবং বোরহান সাদী’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদরাসা এসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ জুবায়ের এবং হাজ্বী নজির আহমদ। উদ্বোধনী বক্তারা কুরআনের আলোকে আদর্শ, নৈতিক ও সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তাল জোয়ারে ক্ষয় হচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


উত্তাল জোয়ারে ক্ষয় হচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপ

জোয়ারের উত্তাল ঢেউয়ে বিলীন হচ্ছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ।

কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল, সাইড়পাড়া, পূর্ব তাবালেরচর এবং বড়ঘোপ রোমাইপাড়া সীমান্ত এলাকায় পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা বেড়িবাঁধ ভাঙনের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জোয়ারের উত্তাল ঢেউ প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ে বসতঘর, উঠান ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন করে দিচ্ছে। বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বড়ঘোপ রুমাই পাড়া ও আলীআকবর ডেইল সাইট পাড়া এলাকায় ভাঙনের মুখে কয়েকটি বসতঘরের বড় অংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো রকমে ত্রিপল টানিয়ে জীবনের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। একই রকমভাবে পূর্ব তাবালেরচর শফিকুল ইসলামের বাড়িও চলে গেছে সমূদ্র গর্ভে।

অনেকের বাড়ির সামনে নদির ভাঙন চলে এসেছে, যেকোনো মুহূর্তে অবশিষ্ট অংশও সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সংস্কার বা টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এমনকি ইমার্জেন্সী ওয়ার্কের জন্য ২ কোটিরও বেশী টাকা বরাদ্দ হলেও এখনো এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোন কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা এবং বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ এত পরিবারকে সর্বস্বান্ত হতে হতো না।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিদিন চোখের সামনে আমাদের ভিটেমাটি সাগরে চলে যাচ্ছে। আমরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব? শুধু আশ্বাসে আর কতদিন?”

এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং উপকূল রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

অন্যথায় আলী আকবর ডেইল, সাইড়পাড়া, পূর্ব তাবালেরচর ও বড়ঘোপের রুামাই পাড়ার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা অচিরেই সাগরের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ভাঙন শুধু কয়েকটি বাড়ির ক্ষতি নয়, এটি উপকূল রক্ষায় দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকা যাবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%