ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৬ জুলাই: আবু সাঈদ-ওয়াসিমসহ নিহত হন ৬ জন, আন্দোলন নতুন মোড় নেয়


১৬ জুলাই: আবু সাঈদ-ওয়াসিমসহ নিহত হন ৬ জন, আন্দোলন নতুন মোড় নেয়

১৬ জুলাই বাংলাদেশে আন্দোলন শুরু হয় এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে। ওইদিন পুলিশের গুলি লেগে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। গুলির সামনে দুই হাত প্রসারিত করে যে দৃশ্য আবু সাঈদের মৃত্যু ঘটেছিল, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ছাত্রনেতাদের মতে, ১৬ জুলাই থেকেই আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেদিন সারাদেশে ছাত্রলীগ এবং পুলিশের হামলায় ৬ জন নিহত হন, এবং কয়েকশ শিক্ষার্থী আহত হন। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যে ছাত্র সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিনি বলেন, 'রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন। যে রাজাকার নাতিপুতিরা সবকিছু পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।' উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে রাত থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। একপর্যায়ে মধ্যরাতে হলের গেট ভেঙে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন। ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে মেয়েরা হলের তালা ভেঙে আন্দোলনে যুক্ত হন। শেখ হাসিনার সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসজুড়ে স্লোগান ওঠে। সেদিনই প্রথম রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহার করা হয় এবং শেখ হাসিনাকে 'স্বৈরাচার' আখ্যা দেয় শিক্ষার্থী সমাজ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি দলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল একটি স্লোগান তৈরি করার জন্য, যাতে শেখ হাসিনাকে 'স্বৈরাচার' হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে। তৎকালীন জিয়া হল ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমন্বয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক রিজভী আলম রাজু প্রথম স্লোগান দেন-‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার।’ এরপর আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিতে শুরু করে আওয়ামী লীগ। ১৫ জুলাই সকালে ছাত্রলীগ ও সরকারের মন্ত্রীরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছিলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকার যারা হতে যাবে, তাদের কোনো দাবি মানা হবে না।' সেদিন দুপুর থেকে ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের খুঁজতে থাকে। বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্থানে গুলিও ছোড়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানান, হাসপাতালে হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রতিরোধের পরিকল্পনা হয়েছে। সে অনুসারে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ১৫ জুলাই রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়ে ওঠে। ওই রাতেই বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, সেদিন থেকেই আন্দোলন নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর সব বাধা ভেঙে যায়। ওই রাতেই প্রতিটি হলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্রলীগকে হলগুলো থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করা হয়। ১৬ জুলাই সকালে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু হয়। অধিকার আদায়ের দাবিতে বুক উঁচু করে দাঁড়িয়ে যান রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ। বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আবু সাঈদ। একই দিনে চট্টগ্রামে নিহত হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় আবারও হামলা করে ছাত্রলীগ। মূলত ১৬ জুলাই আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। সেদিনই সারাদেশে ৬ জন নিহত হন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলেন, আবু সাঈদ এবং ওয়াসিম আকরামের মৃত্যু আন্দোলনে নতুন গতি আনে। এরপর আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ এবং দুই হাত প্রসারিত করে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আন্দোলনের একটি প্রতীকী মুহূর্তে পরিণত হয়। এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশিদ বলেন, আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুর খবর একসঙ্গে পাওয়ার পর তারা বুঝতে পারি, আন্দোলন আর শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সামনে আরও বড় পরিসরে ভাবতে হবে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনার ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই থেকেই মূল গণঅভ্যুত্থানের গতি শুরু হয়। এদিকে, ১৬ জুলাই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি প্রজ্ঞাপনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির একটি কারখানার মেশিনে কাটা পড়ে বাংলাদেশি যুবক নি হ ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


সৌদির একটি কারখানার মেশিনে কাটা পড়ে বাংলাদেশি যুবক নি হ ত

সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতে গিয়ে মেশিনের দ্বারা কাটা পড়ে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায়।

নিহত যুবকের নাম মো. নাদিম হোসেন (২৭), তিনি কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে নাদিম প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য এবং বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় নাদিম একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করতে গেলে তিনি মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সে সময়ে, বাইরের কয়েকজন সহকর্মী মেশিনটি চালু করে ফেলে। ফলে, তিনি মেশিনের ভেতরে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নাদিমের মৃত্যুর খবর যদুপুর গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানকার পরিবেশ শোকে ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক আবহ তৈরি হয়েছে।

নিহতের বাবা সামাদ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমি সন্দেহ করছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে আইনগতভাবে দ্রুত আমার পুত্রের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন মন্তব্য করেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। প্রবাসে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুবিধা রয়েছে। পরিবার এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করলে প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৮ নদ-নদীর পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


বরিশালে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৮ নদ-নদীর পানি

অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের প্রায় সকল নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতের সময় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার নিচু এলাকায় দেখা গেছে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও বুধবার (১৫ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে বরিশাল অঞ্চলে এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু অমাবস্যা ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া বিভাগের আমতলী উপজেলায় বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জে তেঁতুলিয়া, উজিরপুরে সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ায় লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। মো. জাবেদ ইকবাল আরও জানান, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীটির বিপৎসীমা ২ দশমিক ১০ মিটার, কিন্তু পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ১২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা-সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি ১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী-খাকদন নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ০৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল। এ দিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর অবিচারক মিলন হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি জানিয়েছেন, ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


মেসি জানিয়েছেন, ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বললেন

আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয় অর্জন করে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর, কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি ব্যক্ত করেছেন, এই জয় তিনি ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করছেন। সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজকের জয়টি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। তার জন্য আজকের দিনটি বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে তিনি ভালো লাগছেন। এটাও ম্যারাডোনার জন্য একটি উপহার বলে মনে করেন তিনি।

৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। ঐ ম্যাচে তার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং পরবর্তী অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ ঘিরে সেই স্মৃতিগুলি নতুন করে উন্মোচিত হয়। যদিও গোল করেননি, মেসি আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তার নেতৃত্বের জন্যই নাটকীয় লড়াই শেষে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগঘন পরিবেশ সম্পর্কে মেসি আলোকপাত করেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংগীতের সময় তিনি বিশেষ কিছু অনুভব করেছেন। দর্শকদের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছিলাম, এটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, আর সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধের স্মৃতি এবং ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের ফলস্বরূপ, এই দ্বৈরথ বরাবরই বাড়তি আবেগের সৃষ্টি করে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার' লেখা ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।

এদিকে, এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে মেসি আরও কয়েকটি রেকর্ডের সামনে পৌঁছে গেছেন। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামলে এটি হবে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে আসবে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগের পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে তার।

এখন ফুটবল বিশ্বের নজর রোববারের ফাইনালে। ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের

পাবনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে দুজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ৮টার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের ছলিম প্রামাণিকের স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) এবং অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রাজ মিয়া (২৬)। আপাতত রাজের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

পাবনা মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেয়া খাতুন নামের একটি ছোট শিশুর মৃত্যু ঘটে। তিনি জানান, তার আত্মীয়-স্বজনরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহটি রাজশাহী থেকে পাবনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন অ্যাম্বুলেন্সটি পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গি এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রাজ এবং শিশুর নানি বুলু খাতুন ঘটনাস্থলে মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%