ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৮ নদ-নদীর পানি


বরিশালে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৮ নদ-নদীর পানি

অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের প্রায় সকল নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতের সময় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার নিচু এলাকায় দেখা গেছে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও বুধবার (১৫ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে বরিশাল অঞ্চলে এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু অমাবস্যা ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া বিভাগের আমতলী উপজেলায় বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জে তেঁতুলিয়া, উজিরপুরে সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ায় লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। মো. জাবেদ ইকবাল আরও জানান, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীটির বিপৎসীমা ২ দশমিক ১০ মিটার, কিন্তু পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ১২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা-সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি ১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী-খাকদন নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ০৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল। এ দিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর অবিচারক মিলন হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি জানিয়েছেন, ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


মেসি জানিয়েছেন, ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বললেন

আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয় অর্জন করে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর, কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি ব্যক্ত করেছেন, এই জয় তিনি ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করছেন। সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজকের জয়টি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। তার জন্য আজকের দিনটি বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে তিনি ভালো লাগছেন। এটাও ম্যারাডোনার জন্য একটি উপহার বলে মনে করেন তিনি।

৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। ঐ ম্যাচে তার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং পরবর্তী অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ ঘিরে সেই স্মৃতিগুলি নতুন করে উন্মোচিত হয়। যদিও গোল করেননি, মেসি আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তার নেতৃত্বের জন্যই নাটকীয় লড়াই শেষে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগঘন পরিবেশ সম্পর্কে মেসি আলোকপাত করেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংগীতের সময় তিনি বিশেষ কিছু অনুভব করেছেন। দর্শকদের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছিলাম, এটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, আর সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধের স্মৃতি এবং ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের ফলস্বরূপ, এই দ্বৈরথ বরাবরই বাড়তি আবেগের সৃষ্টি করে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার' লেখা ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।

এদিকে, এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে মেসি আরও কয়েকটি রেকর্ডের সামনে পৌঁছে গেছেন। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামলে এটি হবে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে আসবে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগের পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে তার।

এখন ফুটবল বিশ্বের নজর রোববারের ফাইনালে। ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের

পাবনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে দুজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ৮টার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের ছলিম প্রামাণিকের স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) এবং অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রাজ মিয়া (২৬)। আপাতত রাজের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

পাবনা মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেয়া খাতুন নামের একটি ছোট শিশুর মৃত্যু ঘটে। তিনি জানান, তার আত্মীয়-স্বজনরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহটি রাজশাহী থেকে পাবনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন অ্যাম্বুলেন্সটি পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গি এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রাজ এবং শিশুর নানি বুলু খাতুন ঘটনাস্থলে মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কচুরিপানার নিচে ১০ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিল দুই গরুচোর,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০২ এম


কচুরিপানার নিচে ১০ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিল দুই গরুচোর,

জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার নিচে ১০ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকার পর ২ গরু চোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালাতে গিয়েছিল। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নাটোরের সিংড়া থানার চৌগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বেতাকুড়-আতারামপুর এলাকার হাবিবুর রহমান (৪২) এবং জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার মইপুর গোপালপুর এলাকার ফেরদৌস (২৬)।

সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানিয়েছেন, গত ১০ জুলাই ওই থানা এলাকায় গরুচুরির মামলা হয়। ওই মামলায়, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নওগাঁর আত্রাই থানার কাশিয়াড়ী এলাকার আসলাম দেওয়ানকে (৪৩) আটক করে র‍্যাব। এরপর আসলাম দেওয়ানের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৫টার দিকে সিংড়া চৌগ্রাম এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায় রানীনগর থানার পুলিশ।

এ সময় আসলাম দেওয়ানের গ্রুপের আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের ৫-৬ জন সদস্য একটি মিনিট্রাকে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ পরে, তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌগ্রাম-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এই সময় চোর চক্রের ওই দুজন রাস্তার পাশের কচুরিপানাপূর্ণ খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে লুকিয়ে যায়।

স্থানীয় এক যুবক বলেন, "ওরা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এলাকাবাসী খাল ঘিরে রাখায় শেষ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়।"

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, "আটক দুইজনকে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।"

সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানিয়েছেন, আটক ২ চোরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আটক চোরদের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা হবে। আবার রানীনগর থানা পুলিশও তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখাবে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ওই চোরদের আদালতে চালান দেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড্রেন পরিষ্কারে কোটি টাকা ব্যয়, তবুও বর্ষায় জলমগ্ন যশোর শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


ড্রেন পরিষ্কারে কোটি টাকা ব্যয়, তবুও বর্ষায় জলমগ্ন যশোর শহর

বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে ড্রেন তৈরি হয়েছে। বিপুল অর্থ রক্ষণাবেক্ষণেও ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ সামান্য বৃষ্টিতে যে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর, সেটি ডুবছে।

জানা যায়, শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। পরিকল্পনার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং খাল-ড্রেন সংযোগের দুর্বলতায় প্রতি বছরই একই ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঘটছে, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারিয়ে তোলা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর দেশের প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এ পৌরসভার পানি নিষ্কাশনে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার। এসব ড্রেনের প্রায় অর্ধেক শত কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা কমাতে পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে দুই কোটির অধিক বরাদ্দ থাকে। বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হলেও যশোর পৌরসভার বাসিন্দাদের মধ্যে কোনো স্বস্তি নেই। সামান্য বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে যেতে দেখা যায় জলাবদ্ধতা।

বিশেষ করে ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘরে এবং বাইরে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় তাদের জীবন বিষিয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ হলো, প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং খাল-ড্রেন সংযোগের দুর্বলতায় প্রতি বছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এর ফলে মানসিক ও অর্থনৈতিক দুইভাবেই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।

শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা অপু আহমেদ বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। পুরো শহরের পানি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে হরিণার বিলের দিকে যায়। মাঝখানে একটি দীর্ঘ রেললাইন রয়েছে। সেখানে ছোট দুটি রেল কালভার্ট আছে, তবে তা দিয়ে পর্যাপ্ত পানি বের হয় না। তারপরে রয়েছে মহাসড়ক, যেখানে মাত্র একটি কালভার্ট। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তার সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো ঠিকমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় না। বছরে দুই থেকে তিনবার যদি ড্রেন পরিষ্কার করা হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা কমে যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পানি জমে চরম ভোগান্তি বাড়ছে। ঘরের ভেতরে ময়লা পানি জমে রয়েছে, বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। বাড়ির বাচ্চাসহ সবাই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও পরিকল্পনার অভাবে তা কাজে আসছে না।’

শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা শাহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অপেক্ষাকৃত নিচু। দুই দশক ধরে আমরা বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার শিকার। বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি উপচে সড়ক ও বাড়ি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ আমাদের ময়লা পানির মধ্যে থাকতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ জলাবদ্ধতার একটাই কারণ, তা হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শহরের ড্রেনগুলো ভৈরব নদীর দিকে মুখ না করে হরিণার বিলমুখী করা হয়েছে। বিলের পাশ দিয়ে বাইপাস মহাসড়ক, বিলের ভিতর বাসস্ট্যান্ড, মেডিকেল কলেজ, বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। ফলে ড্রেনের পানি বিলে নামতে পারছে না। এছাড়া ড্রেন অপ্রশস্ত ও অগভীর হওয়ায় তা উপচে পানি সড়ক ও বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ না নিয়ে প্রতিবছর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার নামে কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে; যা কোনো কাজে আসছে না। এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, ‘বর্তমানে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ ঘরে পানি জমে আছে। ড্রেন থেকে পানি ক্লিয়ার হচ্ছে না, জ্যাম হয়ে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্থান নির্মাণ না করেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা ড্রেন তৈরি করা বা পরিষ্কার করানোর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এটা হচ্ছে সেই ‘গাড়ির আগে ঘোড়াজুড়ে দেয়ার’ মতো অবস্থা। আমরা বৃষ্টিতে কী অবস্থায় আছি, তা দেখতে পারছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরের বুকের ওপর দিয়ে একটি নদী এবং আমাদের বগলের তলা দিয়ে আরেকটি নদী ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী গেছে। আমাদের পানি ভৈরব-মুক্তেশ্বরীতে গিয়ে পড়বে, সেই যাওয়ার জায়গাটা তৈরি করতে হবে। নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে।’

জিল্লুর রহমান ভিটু আরও বলেন, ‘পাশাপাশি আরেকটি কাজ রয়েছে—নাগরিকদের সচেতন করার উদ্যোগ দরকার। আমরা দেখি অনেকে ড্রেনের মধ্যে ময়লাটা ফেলে দিচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যদি এর জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয়, তাহলে পরিকল্পিতভাবে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। কিন্তু পৌরসভা থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।’

এ সময় পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল হাসান দাবী করেছেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন অল্প সময়ের মধ্যে পানি নেমে যাবে। ফলে এই বছর জলাবদ্ধতা কম হবে। শহরের যেসব এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা হচ্ছে, সেগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত শহরের পানি হরিণার বিল হয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে যায়। পৌরসভার সীমানা শেষে জমির মালিকরা তাদের জমিতে পানি প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

তিনি জানান, অনেক স্থানে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে। মুক্তেশ্বরী নদীতে পানি নিতে হলে জমি অধিগ্রহণ করা জরুরি। কিংবা মহাসড়কের পাশ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে ভৈরব নদীতে নিতে হবে; যা ব্যয় বহুল। স্থানীয় এমপি ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকার থেকে বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।

প্রসঙ্গত, যশোর পৌরসভায় ১৪ দশমিক ৭২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার এই ত্রুটি দ্রুত দূর করার দাবিতে রয়েছে নগরবাসী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%