বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৪৬ পি.এম
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস শুরু হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিটি এসইসি ভেন্যুতে বোলস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এবারের কার্যক্রম শুরু হয়।
সাধারণত, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়া ইভেন্ট শুরু হয়ে থাকে, তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় গত সপ্তাহে বোলসের একটি অতিরিক্ত সেশন যোগ করা হয়েছে। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই মাঠে গড়াতে পারে প্রতিযোগিতা।
বৃহস্পতিবার এই দিনটিকে আয়োজকরা নাম দিয়েছেন ‘ডে জিরো’। পুরুষ একক ও নারী জোড়া বিভাগ দিয়ে শুরু হয়েছে বোলসের লড়াই। চারটি রিঙ্কে একসঙ্গে খেলাগুলি চলেছে।
গ্যালারিতে দর্শকের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের গ্যারি কেলি প্রথম দিনেই জয় অর্জন করেছেন। তিনি নিয়ের ফ্রেডেরিক তাফাতুকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন।
জয়ের পর গ্যারি কেলি বলেন, ‘আমাদের খেলাটিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার এটি দারুণ সুযোগ। এই গেমসে অংশ নেওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও ম্যানেজারের জন্যই এটি সম্মানের।’
অস্ট্রেলিয়ার নারী জোড়া দল ডন হেইম্যান ও কেলসি কটরেলও জয় দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করেছে। তারা জাম্বিয়ার ফস্টার বান্ডা ও গারট্রুড সিয়ামেকে পরাজিত করে।
প্রথমবার কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়া ডন হেইম্যান বলেন, ‘আমি এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করছি। অন্য কোনো খেলা শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নামতে পারাটা দারুণ অনুভূতির।’
ওয়ার্ল্ড বোলসের সভাপতি ব্রেট ও’রাইলি বলেন, কমনওয়েলথ গেমসের প্রথম খেলা হিসেবে বোলসের শুরু হওয়া খেলাটির জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। এবারের আসরে বোলসে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা রেকর্ডে পৌঁছেছে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্লাসগোর ওভিও হাইড্রোতে অনুষ্ঠিত হবে কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে কেটি টানস্টল, নাথান ইভান্স, ক্যালাম বিটি ও নিনা নেসবিটসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী পারফর্ম করবেন।
এবারের কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিচ্ছে ৭৪টি দেশ। প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলিট ১০টি খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং মোট ২১৫টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই হবে।
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরের আলাউদ্দিন আহমেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে এসব মালামাল ভ্যানে করে নেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়ের গুদামঘরে সংরক্ষিত প্রায় ১০ মণ পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বলে জানা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া–রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের পূর্ব পাশে একটি টিনশেড গুদামঘর রয়েছে। সেখানে কিছু ভাঙা বেঞ্চ ও পুরোনো রড পড়ে থাকলেও দরজার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি রড এবং একটি লোহার দরজা নেই।
বিদ্যালয়ের একটি সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, মঙ্গলবার রাতে প্রধান শিক্ষক, নৈশ্যপ্রহরী ও একটি ভ্যান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিছু সময় পর প্রায় আধাঘণ্টার জন্য সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার ফুটেজে একটি ভ্যানে মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়, তবে চালকের পরিচয় স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব দাবি করেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তিনি বিদ্যালয়ের গুদামঘরের সামনে প্রধান শিক্ষক, নৈশ্যপ্রহরী এবং এক ভ্যানচালককে রড ভ্যানে তুলতে দেখেছেন। তাঁর ভাষ্য, এর আগেও রাতের বেলায় বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন পুরোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাহাত ঘটনাটি সম্পর্কে বলেন, ওই রাতে বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে গেলে প্রধান শিক্ষক তাঁদের কিছু সময়ের জন্য সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি ভ্যানে করে রড নিয়ে যেতে দেখেন বলেও দাবি করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর অনুরোধ করা হলে বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া ফুটেজ দেখানো সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার সময় কিছুক্ষণ সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আগের ও পরের ফুটেজে কিছু দৃশ্য দেখা গেলেও সবকিছু স্পষ্ট নয়।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের খোঁজখবর নিতে রাতে যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নৈশ্যপ্রহরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত নৈশ্যপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, তার স্বামী বাড়িতে নেই। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এবং খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শামসুন্নাহার হাই স্কুল সংলগ্ন খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান। পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু জানান, পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে, যা অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ। একই সাথে, খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাহান্দার আলী জাহান বলেন, মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের শিকার হয়ে এসেছে। অতীতে কিছু খাল বরাদ্দ দেওয়ার কারণে অনেক খালের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ নেই বলে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। তাই, খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের মাধ্যমে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা হবে। এই সময় মাদারীপুর পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু, পৌরসভার প্রকৌশলী, জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, পৌরসভার কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় একটি নারীর উপর ধর্ষণের অভিযোগ করে দায়ের করা মামলায় শফিকুল ইসলাম (৪০) নামে একটি ব্যক্তিকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) রাতে উপজেলার বর্ণি গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত শফিকুল ইসলাম আসলে বর্ণি গ্রামের আব্দুল আজিজ শেখের পুত্র।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলে পাঠানো হয়। সেইসাথে ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজিব আল রশিদ এর মাধ্যমে জানানো হয়, উপজেলার ছায়েরাবাদ গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী একটি নারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে- শফিকুল ইসলাম তার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর, তাকে কাউকে জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা আছে।
ওসি আরো জানান, মামলার দায়েরের কিছুক্ষণ পরে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালায় এবং বুধবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার তদন্ত বর্তমানে চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকার একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ (সাবমার্সিবল) পানি পাম্প বসানোকে কেন্দ্র করে হামলাসহ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুদ খান, রাহুল, ফরিদা ইয়াসমিন, আমেনা আক্তার সিমিসহ মোট অজ্ঞাতনামা ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. মাহফুজ।
গতকাল বুধবার দুপুরের সময় ভুক্তভোগী মাহফুজ থানায় লিখিত অভিযোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. মাহফুজের বক্তব্য, তিনি প্রায় ২০ বছর আগে মাসুদ খানের বাবা কামাল খানের কাছ থেকে ৮.২৫ শতাংশ জমি কিনে স্বাভাবিকভাবে ভোগদখল করে আসছেন। এরপর ওই জমিতে গভীর নলকূপ (সাবমার্সিবল) পানির পাম্প বসানোর কাজ শুরু করেন।
এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে তার কাজের বাধা দেন। তারা নিজেদের দাবি করেন যে, তারা এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন এবং জমির কাগজপত্র নিজেদের কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ করে কাজ বন্ধ করতে বাধা দেন। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা হামলা চালিয়ে তাকে এবং তার ভাড়াটিয়াকে মারধর করেন। এই হামলায় মাহফুজ এবং মোস্তফা গুরুতর আহত হন। হামলার সময় হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ছাড়াও প্রাণনাশের এবং গুরুতর জখমের হুমকিও প্রদান করেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেন এবং এটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেন। গাছা থানার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ