বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৫ পি.এম
আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতাল জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: সিনিয়র স্টাফ নার্স
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা
অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীদের বৈধ বিএনএমসি (BNMC) সনদ থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই
কর্মস্থল: ঢাকার উত্তরার সেক্টর ১০
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যদিকে, অন্যান্য সুবিধার মধ্যে প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট এবং বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রদান করা হবে।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে গিয়েছিলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ মতিউর রহমান (২৫), যিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে দেশে রেখে সেখানে পাড়ি দিয়েছিলেন। প্রবাসে যাওয়ার তিন মাস পর তার একটি ছেলেসন্তান জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু সেই ছেলেকে কোলে নেওয়ার আগেই সৌদিতে ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু ঘটে।
সৌদি আরবের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী রিয়াদের হারা এলাকায় ভাড়া বাসায় তাকে হত্যা করা হয়। রান্না নিয়ে রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদিতে অবস্থানরত এক স্বজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত মতিউর রহমান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘারপাড় গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সৌদি আরবে যান। রিয়াদের হারা এলাকায় একটি বাসার একটি কক্ষে ছয়জনের সঙ্গে তিনি ভাড়া থাকতেন।
মতিউরের ভাই সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে রান্না নিয়ে একই কক্ষে থাকা দুই ভাই নজরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মতিউরের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে দুই ভাই মিলে মতিউরকে মারধর করেন। পরে ছুরিকাঘাতের ফলে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় মতিউরকে হাসপাতালে না নিয়ে রুমমেটরা পালিয়ে যান। পরে কোম্পানীগঞ্জের একজনের মাধ্যমে তারা বিষয়টি ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে জানতে পারেন। এরপর সৌদিতে থাকা এক স্বজনকে জানালে তিনি পুলিশ নিয়ে মতিউরের মরদেহ উদ্ধার করেন।
সাইফুর রহমান গণমাধমকে বলেন, "আমার ভাই পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য সৌদিতে গিয়েছিল। মাত্র ছয় মাস হয়েছে। দেশে তার তিন মাসের একটি ছেলে আছে। ছেলেটা এখনো বাবাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি। অথচ বাবা মারা গেল।" তিনি আরও জানান, মতিউরের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই তার স্ত্রী বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক বছর আগে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল ১৩ বছরের বাংলাদেশি এক কিশোরী, দালালের মাধ্যমে। ভারতে গিয়ে সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।
পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর, এক বছরের কারাবাস শেষে সন্তানসহ দেশে ফিরেছে ওই কিশোরী। তার মতো ভারতে পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার আরও ১৫ কিশোর–কিশোরীসহ মোট ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরে।
ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ‘রাষ্ট্রীয় ট্রাভেল পারমিট’–এর মাধ্যমে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। পুনর্বাসনের জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’–এর জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করেছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন জানান, ‘ভারত থেকে ফেরত আসা নারী ও শিশুদের বেনাপোলে আমাদের সংস্থার একটি নিজস্ব শেল্টার হোমে (নিরাপদ আশ্রয়) রাখা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুবিধাজনক সময়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এক বছরের সন্তানসহ এক কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত করুণ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে খুলনার নিজ এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। পরে সামাজিক লজ্জা ও লোকলজ্জার ভয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়।
সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে ভারতের একটি স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় সন্তানসহ ওই কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় পারমিটের ভিত্তিতে বুধবার তাকে অন্যদের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতের বন্দিদশা থেকে ফেরত আসা ১৮ জনের মধ্যে মাত্র দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি ১৬ জনই শিশু–কিশোর।
তিনি বলেন, ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল। বুধবার সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। মাথায় একাধিক সেলাই রয়েছে। পিঠ ও দুই পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে। ১১ বছরের এক শিশুর দুর্বল শরীরের কারণে ঠিকমতো উঠে বসার শক্তি নেই।
কখনো সে চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির বিরুদ্ধে। বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।
শিশুটির অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এইভাবে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।
শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। মা মারা গেছেন। অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান বাবা। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে সেই ঠিকানা সম্পর্কে তিনি জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তাকে বলেছিলেন, মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের ফাকে পড়াশোনার সুযোগও পাবে।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তার বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ শিশুটির।
শিশুটি জানায়, বাসার গৃহকর্তা রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটনের বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল। গৃহকর্ত্রী ও তার মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে সে। মারধরের পাশাপাশি গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় টয়লেটে আটকে রাখার অভিযোগও করেছে শিশুটি।
শিশুটির বাবা বলেন, মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছে এ বিষয়েও তিনি কিছু জানতেন না। কয়েক দিন আগে মেয়ের মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে যান শিশুটির বাবা। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকার কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান অনেকে।
এদিকে, শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তার স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হলে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য রাখার পর মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ গায়ক এড শিরান তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।
এড শিরান এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার পক্ষে ছিল না; বরং এই সিদ্ধান্তটি সফরের আয়োজক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের দ্বারা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরানের অনুসারীর সংখ্যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ লাখের বেশি কমেছে বলে জানা গেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। এড শিরানের সফরের অংশ হিসেবে মঞ্চে ওঠেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করে বলেন, "তাদের কথা ভুলে যাওয়া হয়নি।" এরপর তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন।
পরদিনও মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনকে ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের পর একটি ইসরায়েলপন্থী মার্কিন সংগঠন তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে আবেদন শুরু করে।
এরপর সফরের পরবর্তী অনুষ্ঠানস্থলগুলোর কয়েকটির মালিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ম্যাকলমোরকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে রাজি নয়। সফরের আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, ম্যাকলমোরকে রাখা হলে কিছু অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে সফরের বাকি আয়োজনগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোর দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের চাপ ছিল। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের নামও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ক্রাফট বলেন, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং তার আগের কিছু বক্তব্য ও প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি আঘাতের আশঙ্কা থেকেই তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি ও সব মানুষের কষ্টের অবসানের পক্ষে থাকার কথা বলেন।
বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে শিরান বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তার ভাষ্য, "দুই পক্ষের মানুষের কষ্ট বা দুর্ভোগই মানবিক বিপর্যয়।"
শিরান জানান, ম্যাকলমোর গত বছর তার সফরে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অন্য সহযোগী শিল্পীদের মতো ম্যাকলমোরকেও নিজের পছন্দের পরিবেশনা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
তবে শিরানের দাবি, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আয়োজক ও অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের। তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।
শিরান আরও বলেন, তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ও মঞ্চকে বিভিন্ন পটভূমি ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করার জায়গা হিসেবে রাখতে চান। ব্যক্তিগতভাবে এই সংঘাত নিয়ে তাঁর মতামত থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর বিষয়টি আরও বড় আকার নেয়। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে এড শিরানের সফরের একাধিক সহযোগী শিল্পী পরবর্তী আয়োজনগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং আইরিশ দল বেওগা সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন শিরানের পুরো সফরকেই বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে।
এদিকে ম্যাকলমোরও তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও গাজাবাসীর অধিকারের পক্ষে কথা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে তিনি সফর থেকে পাওয়া প্রায় ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তায় দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান , দ্য রয়া নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ