ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন


ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : সদ্য প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

 

তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

 

আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

 

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

 

শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চিত্র তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো আমরা সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, ফলাফল ঠিক সেভাবেই এসেছে। এরফলে ফলাফলের ভালো বা মন্দের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

 

বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

 

শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রম পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন চারটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'স্টার্টআপ কম্পিটিশন' এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ক্রীড়া-সংস্কৃতির সন্নিবেশ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক সংমিশ্রণে (টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন) শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

 

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

 

একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে, তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরে অনুপ্রেরণা দিন। আর যেসব জায়গায় ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন  আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে আবেদন করতে হলে প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার জন্য প্রথমে শিক্ষার্থীদের rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ওই সাইটের নির্ধারিত স্থানে শিক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করতে হবে। এরপর ড্রপডাউন থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের একটি মোবাইল ফোন নম্বর প্রদান করতে হবে, যেহেতু পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।

শিক্ষার্থীরা পরবর্তী স্ক্রিনে তাদের বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখতে পাবেন। এক বা একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে এবং দ্বিপত্রবিশিষ্ট কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।

যে স্ক্রিনে বিষয় নির্বাচন করা হবে, সেখানে মোট প্রদেয় ফিয়ের পরিমাণও প্রদর্শিত হবে। শিক্ষার্থীরা বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে পারবেন। ফি পরিশোধের বিস্তারিত পদক্ষেপ ওই পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করলে জানা যাবে।

ফি পরিশোধের পরে শিক্ষার্থীদের আবার আবেদনের পোর্টালে ফিরে গিয়ে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেয়ার পর অতিরিক্ত কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা একই প্রক্রিয়ায় তা করতে পারবেন। তবে নতুন করে মোবাইল ফোন নম্বর প্রদান করার প্রয়োজন হবে না।

অন্যদিকে, যদি ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়, তবে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য ফি দেয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে।

তবে একবার কোনো বিষয়ের ফি জমা দেয়ার পর সেটি বাতিল করা যাবে না। কোন অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেয়া হবে না। পুনর্নিরীক্ষণের জন্য কোনো ধরনের ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ হয়েছে। এ বছর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর হার গতবারের তুলনায় কমেছে। এবার গড়ে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন পরীক্ষার্থী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকার স্বর্ণ উ/দ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকার স্বর্ণ উ/দ্ধার

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে গোলচত্বর এলাকায় একটি গাড়ি থেকে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর ১৪টি স্বর্ণের বার ও ১২টি স্বর্ণের পাত উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১ হাজার ৮১২ গ্রাম, এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৮৯২ টাকা।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল বেলায় গোয়ন সংবাদ প্রাপ্তির ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর এলাকার একটি গাড়ি তল্লাশির জন্য থামানো হয়। এ সময়ে গাড়ির চালক মো. শামীম মিয়া গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যান।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গাড়িটিতে তল্লাশি করেন। তল্লাশির সময় তারা ১৪টি স্বর্ণের বার ও ১২টি স্বর্ণের পাত খুঁজে পান। গাড়িটি আরও ভালোভাবে তল্লাশি করার সময় তিনটি মোবাইল ফোন, এর মধ্যে একটি নতুন আইফোন ১৭ প্রো, দুটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নগদ ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮৫ টাকা, একটি ব্যবহৃত ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের আটটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, দুটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরবর্তীতে কাস্টমস হলে গাড়িতে পাওয়া সব পণ্যের ইনভেন্টরি করেন। কাস্টমস হাউস, ঢাকার স্বর্ণ পরীক্ষার যন্ত্রে পরীক্ষা করে উদ্ধার করা স্বর্ণের মান ২৪ ক্যারেট হিসেবে পাওয়া যায়। স্বর্ণগুলোর মোট ওজন ১ হাজার ৮১২ গ্রাম, যা ১৫৫ দশমিক ৩৫ ভরির সমান। আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৮৯২ টাকা।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গাড়ির চালক মো. শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে শতভাগ সফলতা জিপিএ-৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে শতভাগ সফলতা জিপিএ-৫

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে। এ বছর কলেজটির ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রোববার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম আজিজুল হক।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আল্লাহর অশেষ রহমতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছে। কলেজটির ভালো ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাডেটদের শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখা হয় না। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং খেলাধুলার অনুশীলন করানো হয়ে থাকে। একই সঙ্গে সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হয়।

এদিকে, ভবিষ্যতেও সাফল্যের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে সকলের আন্তরিক দোয়া কামনা করেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীর হাজীমুলের বাঁশের তৈরি পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


নীলফামারীর হাজীমুলের বাঁশের তৈরি পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

 

 এক সময় গ্রাম-গঞ্জ ও শহরের প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের তৈরি ডালা, চালুনি-কুলাসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এখন আর আগের মতো ওইসব পণ্যের কদর নেই বললেই চলে। প্রযুক্তির কল্যাণে এর বাজার দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের পণ্য।

ওইসব পণ্যের কদর না থাকলেও বাঁশের সিলিংয়ের ব্যবহার এবং গুরুত্ব রয়েছে সর্বত্র। বাঁশের তৈরি পণ্যে কদর কমতে থাকায় কষ্টে জীবন চলতো নীলফামারীর হাজীমুল ইসলামের।

ইতোমধ্যে তিনি বাঁশের তৈরি সিলিংসহ বিভিন্ন ধরনের নান্দনিক পণ্য তৈরি করে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে ফেলেছেন। বলা যেতে পারে এখন তিনি বাঁশজাত হস্তশিল্পের একজন সফল উদ্যোক্তা।

হাজীমুলের কারখানায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নান্দনিক বাঁশের পণ্য। পরিবেশবান্ধব এসব পণ্য এখন স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরেও। তার এ উদ্যোগে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় অন্তত ২০ নারী-পুরুষের।

ছবি: বাসস

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনাখুলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাজীমুল ইসলামের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটিও বেশ সংগ্রামের। বাঁশের সিলিং (টিনসেড ঘরের রুমের সিংলিং) তৈরির মিস্ত্রি থেকে তার এ সংগ্রামের পথ শুরু। উপায় খুঁজতে থাকেন বাঁশের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর। সেই স্বপ্নে স্থাপন করেন ছোট পরিসরে বাঁশের পণ্য তৈরির কারখানা। 

এরপর কারখানায় তৈরি পণ্যের বাজার ও কাঁচামাল সংগ্রহে পড়তে হয়েছে নানা বিরম্বনায়। কিন্তু থেমে যায়নি স্বপ্ন, ধীরে ধীরে বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের প্রচার, স্থানীয় ক্রেতাদের আস্থায় বাড়তে থাকে তার ব্যবসার প্রসার। এতে করে টিকে থাকে তার স্বপ্ন। এখন নজরকাড়া ডিজাইনে বিভিন্ন বায়ারের মাধ্যমে এসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে দেশের বাইরে।

সরেজমিনে সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনাখুলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা কারখানায় গিয়ে দেখা মেলে বাঁশের তৈরি করা নজরকাড়া পণ্য। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। কর্মচারীরা যেমন ব্যস্ত বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজে। তেমনি হাজীমুল ব্যস্ত পণ্যের নকশা ফুটিয়ে তুলতে। সকলের দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকাজে সাধারণ বাঁশ হয়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন সামগ্রী হিসেবে।

হাজীমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তার ওই কারখানায় বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ১২০ প্রকার পণ্য। এসবের মধ্যে ঝুড়ি, ট্রে, টেবিল ল্যাম্প স্ট্যান্ড, সাবানদানি, কলমদানি, ফুলদানি, টিস্যুবক্স, সোফা সেট, একতারা ও ম্যাগাজিন ফাইল হোল্ডারসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ উল্লেখযোগ্য। তৈরি পণ্যের একটি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হলেও বিভিন্ন বায়ারের মাধ্যমে যাচ্ছে বিদেশে।

হাজীমুল ইসলামের কারখানায় বর্তমানে স্থানীয় নারী ও পুরুষ মিলে প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতায় তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য। শ্রমিকের মজুরি, বাঁশ, বেত ও কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় খরচ বাদে বিক্রি ও রপ্তানি থেকে মাসে গড় আয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি। এ আয় দিয়ে বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে তার সংসারসহ ৩ সন্তানের লেখাপড়া। 

ছবি: বাসস

কাঁচামাল হিসেবে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে ‘ভুতুম’ জাতের বাঁশ (লম্বা ও মোটা আকৃতির) সংগ্রহ করেন। প্রতিটি বাঁশে পরিবহনসহ গড়ে খরচ হয় ৭শ’ টাকা। এসব বাঁশ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় বিভিন্ন পণ্য।

তিনি কাঁচামালের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত মূলধন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাজীমুল ইসলাম চায় তার এ উদ্যোগকে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে। এজন্য কারখানায় সংযোজন করতে চান আধুনিক যন্ত্রপাতি। নিত্য নতুন ডিজাইনের পণ্য তৈরি করে কারখানায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান আরো অধিক মানুষের। কিন্তু এসবের বড় বাধা পুঁজির যোগান।

তিনি বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ পেলে আমার এ ছোট উদ্যোগকে অনেক বড় করা সম্ভব হবে। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একাজে সম্পৃক্ত করা হলে কমবে বেকারত্ব, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাঁশের পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হলে দেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হবে’।

নীলফামারী বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মো.নূরেল হক বাসসকে বলেন, ‘হাজীমুলের বাঁশদিয়ে তৈরি ১২০ প্রকার পণ্য এখন শুধু একটি কুটির শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র নয়, এটি এক জীবন্ত স্বপ্নের নাম। বাঁশের প্রতিটি বুননে লেখা হচ্ছে তার আত্মনির্ভরতার গল্প। জানিয়ে দিচ্ছে গ্রামীণ বাংলার বাঁশজাত শিল্পের সম্ভাবনার কথা। এখানে শুধু পণ্য তৈরি হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের পরিধি পেরিয়ে যাচ্ছে দেশের সীমানা’।

বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাঁশ, বেত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে নীলফামারীর মতো অঞ্চলে বাঁশভিত্তিক কুটির শিল্পের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা’।

হাজীমুল ইসলামের উদ্যোগকে সফল করতে বিসিকের পক্ষ থেকে বিনা সুদে এক লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে এগিয়ে নিতে বিসিক সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে বলেও জনান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%