ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাহাড়ে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে বাস করছেন হাজারো মানুষ


পাহাড়ে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে বাস করছেন হাজারো মানুষ

প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারে গত ছয় দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। এরপরও বাধ্য হয়ে পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

পাহাড়ধসের এই ঝুঁকি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক নয়; এর সঙ্গে মানুষের আচরণ, আস্থার সংকট এবং আশ্রয়কেন্দ্রের বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলোও নিবিড়ভাবে জড়িত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস নিরুৎসাহিত করা এবং সংস্কৃতিসংবেদনশীল মানুষবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলেই প্রাণহানির ঘটনা কমানো সম্ভব।

৫০ বছর বয়সী ছৈয়দা খাতুন। তিনি অসুস্থ স্বামী এবং পরিবারের ১৬ সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার শহরের বাঘঘোনা এলাকার একটি পাহাড়চূড়ার বসতিতে বাস করছেন, যা তার শেষ আশ্রয়। প্রতিবছরই বর্ষায় পাহাড় ধসে তার ঘর ভেঙে যায়, তবুও যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই তাদের। এবারও বসতির পাশের পাহাড়ে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে; যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে সবকিছু। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও তাই পাহাড় ছেড়ে যেতে পারছেন না তিনি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ছৈয়দা খাতুন বলেন, ‘পাহাড়ের ওপর বসতি করে প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাঁচ-ছয়বার করে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়। একবার পাহাড়ধসে আমাদের পুরো বসতি তছনছ হয়ে গিয়েছিল। পরে ফিরে এসে দেখি ঘরের সবকিছু চুরি হয়ে গেছে। আরেক বছর প্রবল বর্ষণের সময় ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিরাপদে স্বজনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আমি একা ঘরে ছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ধসে একটি বাঁশ এসে আমার শরীরে আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই।’

তিনি আরও জানান, ‘এতবার জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও আমরা কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। দিনমজুরির আয়েই কোনোরকমে সংসার চলে। আমার স্বামী বয়স্ক ও অসুস্থ। তিনি আর কাজ করতে পারেন না। কয়েক দিন আগে ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি পরিষ্কার করতে গিয়ে আঘাত পান। গত সাত-আট দিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী।’

অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়েই পাহাড়ে বসবাস করছি। কারণ যাওয়ার মতো আমাদের আর কোথাও কোনো জায়গা নেই।’

শুধু ছৈয়দা খাতুন নন; কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ, পূর্ব ও পশ্চিম লারপাড়া, ডিককুল, গুচ্ছগ্রাম, শুকনো ছড়ি, দরিয়ানগরসহ ২০টিরও বেশি পাহাড়ে হাজারো মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুঝ Risiko নিয়ে বসবাস করছেন। অনেক এলাকায় এখনও চলছে পাহাড় কেটে নতুন বসতি নির্মাণ। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের ভাষ্য, দারিদ্র্য, ভূমিহীনতা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকার অসহায়ত্বই তাদের পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে জীবন বাজি রেখে বসবাসে বাধ্য করেছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘঘোনা এলাকার মাহিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায় অবস্থায় আছি। আয়-রোজগার কম, নিজের জমি বা নিরাপদ জায়গা নেই। অনেক কষ্ট করে পাহাড় কিনে সেখানে ঘর করে বসবাস করছি। এখন পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে থাকা যাচ্ছে না, আবার ছেড়ে যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গাও নেই। আমাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।’

ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম লারপাড়া এলাকার সাবেকুন্নাহার বলেন, ‘প্রশাসন যখন পাহাড় ছেড়ে যেতে বলে, তখন আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। কারণ পাহাড় ছেড়ে গেলে পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে জীবন চালাব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা ঝুঁকিমুক্তভাবে বাঁচতে চাই; কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার পথও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

পাহাড়ধসে প্রাণহানির অন্যতম কারণ শুধু প্রাকৃতিক ঝুঁকি নয়, বরং মানুষের অনীহা, সামাজিক বাস্তবতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা। ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিগার সুলতানা সময় সংবাদকে বলেন, ‘পাহাড়ধস শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে সামাজিক ও আচরণগত সমস্যার। ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী হন; কারণ এসব কেন্দ্রে তাদের বাস্তব চাহিদা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো অনেক সময় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়া হয় না।’

তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রের অস্বস্তিকর পরিবেশ, নারী-পুরুষের একসঙ্গে অবস্থান, খাদ্য ও শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন এবং পরিবারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার উদ্বেগ মানুষকে সেখানে যেতে নিরুৎসাহিত করে। তাই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে আরও মানবিক, কমিউনিটি-ভিত্তিক ও সংস্কৃতিসংবেদনশীল করতে হবে।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ড. নিগার সুলতানা আরও বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুর্যোগ-পূর্ব ও দুর্যোগ-পরবর্তী প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষকে আগে থেকেই সচেতন করতে হবে যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস ও পাহাড় কাটা কতটা বিপজ্জনক। মানুষের আস্থা ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচারণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন সময় সংবাদকে বলেন, ‘পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। খুব শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যানার টাঙানো, হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন করা, যাতে তারা সতর্ক থাকে এবং প্রয়োজনের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতেও উদ্বুদ্ধ হয়।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুকন্যাকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে মায়ের ঝাঁপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


শিশুকন্যাকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে মায়ের ঝাঁপ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশুকন্যা নিয়ে সুগন্ধা নদীতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন লাকী আক্তার নামের এক মা। স্থানীয়দের সক্রিয় তৎপরতার কারণে মা এবং মেয়ে দুজনেই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

শুক্রবার রাতে, ১০ জুলাই, নলছিটি ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে তারা নদীতে ঝাঁপ দেন। লাকী আক্তার নলছিটি উপজেলার হাঁড়িখালী গ্রামের অধিবাসী।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে লাকী আক্তারের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পরে থেকেই পাঁচ বছরের শিশুকন্যাটি মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছে। কিন্তু নলছিটি উপজেলা শহরের থানা সড়ক এলাকার প্রাক্তন স্বামী সাইদুল ইসলাম শিশুটিকে নিজের কাছে নেয়ার জন্য লাকী আক্তারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এই পরিস্থিতিতে লাকী আক্তারের বাবা এবং প্রাক্তন স্বামীর পরিবারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ও বিবাদ বেড়ে যায়।

এই পারিবারিক কলহ এবং মানসিক চাপের কারণে শুক্রবার রাতে মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন লাকী। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে সিরিঞ্জেসহ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ব্যাপারে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, 'ওই নারী ও তার মেয়ে বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভাগ্নেকে হত্যার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভাগ্নেকে হত্যার অভিযোগ

বগুড়া শহরে আরিফ শেখ (৩৫) নামে একাধিক মামলার একটি আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, পাওনা টাকার কারণেই মামা ভাড়াটে খুনি দিয়ে আরিফকে খুন করিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, হত্যার মূল কারণ এখনও নিশ্চিত নয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সময় শহরের কলোনি লতিফপুর এলাকার প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।

নিহত আরিফ শেখ একই এলাকার আজিজ শেখের ছেলে। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আরিফের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আরিফের সাথে টাকাসহ আরো কিছু বিষয়ে তার ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর ফলে শুক্রবার বিকেলে একদল দুর্বৃত্ত আরিফকে খোঁজার জন্য বের হয়েছিল। পরে রাতে লতিফপুর এলাকায় তাকে একা পেয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে এবং মরদেহ ফেলে রেখে যায়। রাত ১টার সময় স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন।

আরিফের বোন রুমি জানান, ‘আমাদের মামা বাদলের কাছে ১০ লাখ টাকা পেত আরিফ। মামা টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। এই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সেলিম, জীবন, নাহিদসহ আরো কয়েকজন আরিফকে হত্যা করে। মামা একজন লোক ভাড়া করে আমার ভাইকে হত্যা করিয়েছেন।’

হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার মূল কারণ পুলিশ এখনও জানে না। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৮ পি.এম


ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল সিএনএন

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা সম্পর্কিত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ প্রতিষ্ঠান সিএনএন। তারা একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পুনর্নির্মাণের আলামত দেখা গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির সহযোগিতায় সিএনএনের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই চিত্র অনুযায়ী, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করা হয়ে থাকতে পারে ইরানের পক্ষ থেকে।

প্রতিবেদনে পারচিনের একটি স্থানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিস্ফোরক উপাদান মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওই স্থানটি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। জুন ও জুলাই মাসের নতুন স্যাটেলাইট চিত্র সম্পর্কে সিএনএনের কেটি পোলগ্লেস বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইরান ওই স্থানটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছিল বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হামলার ফলে তৈরি হওয়া গর্তগুলোর ওপর অস্থায়ী ঢাকনা বসানো হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পরে, যখন সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকছে, তখন ঢাকনাগুলো সরিয়ে সেখানে একটি জাল বসানো হয়েছে। কাছাকাছি কংক্রিট মেশানোর ট্রাকও দেখা গেছে।’

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব ট্রাক থেকে অনুমান করা যাচ্ছে যে, ইরান গর্তগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। পিক্যাক্স মাউন্টেনে অবস্থিত আরেকটি সন্দেহভাজন পরমাণু স্থাপনার সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে টানেলের ভেতরে ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে বাড়ছেই প্রাণহানি, নিহত ৪ হাজার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৯ পি.এম


ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে বাড়ছেই প্রাণহানি, নিহত ৪ হাজার ছাড়াল

ভেনেজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ১১৮ জনে পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৭৪০ জন। হাজার হাজার মানুষ এখনো গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা করছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) ভেনেজুয়লার পার্লামেন্টের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

হোর্হে রদ্রিগেজ উল্লেখ করেছেন, ২৪ জুন পরপর আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১১৮ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন। উপকূলীয় লা গুয়াইরার পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৪৬২ জনকে। ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৫৬টি ভবন। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। গৃহহীন মানুষের জন্য ৮৯টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের খবর অনুযায়ী, গত ২৪ জুন ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রা ও ৭ দশমিক ২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।

এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকার বিপুল ক্ষতি হয়েছে এবং বহু উঁচু ভবনের আবাসিক ব্লক সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়াদের মধ্যে জীবিত থাকার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলো ‘জীবিত’ মানুষদের সন্ধানে অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে এখনও ধ্বংসস্তূপে খোঁজ চালাচ্ছেন তাদের পরিবার সদস্যরা। তারা আশা করছেন, জীবিত নয় হলেও অন্তত মরদেহ অথবা দেহাবশেস উদ্ধার হলে প্রিয়জনদের মর্যাদাপূর্ণভাবে দাফনের সুযোগ পাবেন।

এদিকে শুক্রবারও দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির রাজধানী কারাকাসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি সুউচ্চ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করে দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ভেনেজুয়েলার জন্য এই বিপর্যয়ের পর পুনর্গঠন কার্যক্রম একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ বুধবার ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দেশটির জন্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।

বর্তমানে লা গুয়াইরা রাজ্যের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ রান্নাঘর, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এই রাজ্যেই ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।

জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, বাড়িঘর ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ পুনরুদ্ধার করে তা ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্বাসন কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকে থাকা ভেনিজুয়েলার প্রায় ৩০ টন সোনা ছাড় করতে তিনি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে অনুরোধ করেছেন।

দেলসি রদ্রিগেজ জোড়া ভূমিকম্পের পর সরকারের জরুরি তৎপরতার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দেশটি আর সামাজিক অস্থিরতার দিকে যাবে না।

তবে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল আসার আগে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যক্রম যথেষ্ট ছিল না। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%