বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৫ পি.এম
ইবনে সিনা ট্রাস্ট জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: মেডিকেল অফিসার (আইসিইউ)
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিবিএস ডিগ্রি
অন্যন্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর বৈধ নিবন্ধন।
অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে, প্রার্থীদের আইসিইউ বা ক্রিটিক্যাল কেয়ারে ন্যূনতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: হাসপাতালে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: ট্রাস্টের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাসভাড়ার পর এবার লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন যে, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "রেল মন্ত্রণালয় থেকে রেলের ভাড়া বাড়ানোর চাপ আছে, নাহলে লোকসান আরও বাড়বে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা ১০ বছর রেলের ভাড়া বাড়াইনি। জনগণের প্রতি আমাদের মনোযোগ, দায়বদ্ধতা আছে। এবার ভাড়া বাড়ানোর খুব চাপ আছে। কারণ, নাহলে আরও লোকসান হবে।"
মন্ত্রী আরও জানান, "তবুও এখনও রেলের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি। বলেছি ভাড়া না বাড়িয়ে যা আছে তা যাতে রাখা যায়। ফলে আপাতত আগের ভাড়া থাকছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রেলের ভাড়া না বাড়ানোর।" তিনি বলেন, "একান্তই যদি ভাড়া বাড়ে, সেটি যৌক্তিক বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি।"
লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রীদের স্বার্থে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূর্বে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৩২ টাকা, যা বর্তমানে ৩৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, "ভাড়া বৃদ্ধি কাম্য না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এজন্য জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমরা সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেছি।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কাউকে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দেইনি।"
এছাড়া, মন্ত্রী জানান, সিএনজির দাম বাড়েনি। তাই সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। যদি কারও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাহাড়ি জনগণের প্রধান জীবিকা ও ঐতিহ্যবাহী পেশা হিসেবে জুম চাষ পরিচিত। বান্দরবানের সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে এখন সোনালি রঙের পাকা জুমধান দেখা যাচ্ছে। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে জুমধানের মৌ মৌ গন্ধ। পাহাড়ে চলছে জুমধান কাটার ধুম। কিন্তু যেসব পাহাড়ে একসময় জুম চাষ করা হতো, সেসব পাহাড়ের বেশির ভাগে বর্তমানে চাষ হচ্ছে মাল্টা, ড্রাগন, কপি, আনারস, কমলাসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল। ফলে জুমধানের পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী ও লাভজনক ফসল হিসেবে মিশ্র ফল চাষে চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসছে।
তবে আদি পদ্ধতিতে জুম চাষের কারণে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জুম চাষের জন্য পাহাড়ের ঝাড়-জঙ্গল পুড়িয়ে ফেলার ফলে সরকারি রিজার্ভ ফরেস্টসহ অনেক সবুজ পাহাড় বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে। এর ফলে প্রতিবছর পাহাড়ে জুমের আবাদ কমে আসছে।
মৃত্তিকা সম্পদবিষয়ক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, জুম চাষের স্থান পরিবর্তন ও জঙ্গল পোড়ানোর কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাহাড়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। টেকসই বিকল্প কৃষি পদ্ধতি, মিশ্র ফল চাষ এবং জুমের পরিবর্তে আম, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে, লিচু ও কফি চাষের মাধ্যমে পাহাড়ের মাটির ক্ষয় রোধ করা সম্ভব। একই জমিতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসল চাষ করা হলে মাটির উর্বরতা ধরে রাখা সম্ভব বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
স্থানীয় জুম চাষিরা জানান, জুম চাষে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের ফলন পাওয়া যায় না। এ কারণে তারা জুম চাষের পরিবর্তে বিকল্প চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন। পাহাড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং জনসংখ্যার চাপের কারণে ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের ফলন দিন দিন কমে যাচ্ছে।
চাষিরা আরও জানান, পাহাড়ের ঢাল কেটে ধাপ তৈরি করে চাষ করলে মাটির ক্ষয় কমে এবং ফলন ভালো হয়। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসলের বীজ ব্যবহার করা যায়। জুমের পরিবর্তে মিশ্র ফলের বাগান করে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, জুম চাষে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চাষিরা বিকল্প ও লাভজনক চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। জুম চাষে অতিরিক্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত লাভ না আসায় দীর্ঘদিনের পেশা পরিবর্তন করে মিশ্র ফলের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা এবং এতে তারা লাভবানও হচ্ছেন।
জনপ্রতিনিধিরা বলেন, একই স্থানে বারবার জুম ধানের চাষ করা যায় না। পাহাড়ে অতিরিক্ত জায়গাও নেই। একই স্থানে পুনরায় জুম চাষ করতে হলে প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। তাই জুমের পরিবর্তে চাষিরা মিশ্র ফলের বাগানে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক মমতাজ আহম্মদ বলেন, পাহাড়ের পরিবেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ জুম চাষ। এক একর জায়গায় জুম চাষের জন্য যে পরিমাণ গাছ পোড়ানো হয়, সেই পরিমাণ জুমধান উৎপাদন হয় না। তবে সম্প্রদায়ভিত্তিকভাবে তাদের পুনর্বাসন করা হলে রিজার্ভ এলাকা আবার গভীর অরণ্যে পরিণত হতে পারে।
মৃত্তিকা সম্পদ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, আদিকাল থেকেই পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়িরা জুম চাষ করে আসছেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়া জুম উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তিতে জুম চাষাবাদ করতে হবে। এতে ভূমির ক্ষতি কম হবে এবং জৈব পদার্থ যোগ হবে। এভাবে জুম চাষ করলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আবু নাঈম মো. সাইফুদ্দিন বলেন, পাহাড়ে আগে থেকেই তাদের ঐতিহ্যগত জুম চাষ রয়েছে। তবে জুমের চেয়ে সবজি চাষে লাভ বেশি। বাজারের চাহিদা, দ্রুত ফলন এবং একই জমিতে একাধিকবার ফসল ফলানোর সুবিধা রয়েছে। এসব কারণে চাষিদের মধ্যে জুমের পরিবর্তে মিশ্র ফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে ৮ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরের তুলনায় জুমের আবাদ কিছুটা কমে আসছে এবং মিশ্র ফলের আবাদ বাড়ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশি তাহমিদ চৌধুরী। এই পুরস্কার সংগঠন, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট, তরুণ নেতৃত্ব ও জনসেবায় সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তরুণদের নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা, তৃণমূল সংগঠন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে থাকে। প্রতিবছর এই পুরস্কার সাধারণত মিশিগানের বিভিন্ন কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে সক্রিয় তরুণ নেতাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় মানুষকে সম্পৃক্ত করা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করা, তরুণদের নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাদের এই স্বীকৃতির জন্য বিবেচনা করা হয়। চলতি বছর তাহমিদ চৌধুরীসহ ১৩ জন এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট’ অনুষ্ঠানে তাহমিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মিশিগানের লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেক্রেটারি অব স্টেট মনোনীত প্রার্থী গারলিন গিলক্রিস্ট এবং ওয়াশটেনো কাউন্টি প্রসিকিউটর ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনীত প্রার্থী এলি সাভিত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ার কার্টিস হার্টেল, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান হিলারি স্কলটেন এবং মিশিগান সিনেটের মেজরিটি লিডার ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোনীত প্রার্থী উইনি ব্রিংকস।
সিলেটের ছেলে তাহমিদ প্রায় এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ম্যাকম্ব কাউন্টি এবং মিশিগানের ১০ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টজুড়ে বিভিন্ন নাগরিক ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। তাহমিদের কাজের অন্যতম লক্ষ্য হল কমিউনিটি আউটরিচ, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে তাদের কমিউনিটিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
পুরস্কার গ্রহণের পর তাহমিদ বলেন, "মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি সত্যিই সম্মানিত। এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়। যেসব মেন্টর, সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি লিডার, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে শেখার, সেবা করার এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, এই অর্জন তাদেরও। আমার এই পথচলার অংশ হওয়া প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।"
অনুষ্ঠানে তাহমিদকে সমর্থন জানাতে মিশিগানের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের (বাম) প্রেসিডেন্ট জাবেদ চৌধুরী এবং উপদেষ্টা সুমন কবির উল্লেখযোগ্য।
তাহমিদ বলেন, "এই স্বীকৃতি কমিউনিটি এনগেজমেন্ট, জনসেবা এবং আগামী প্রজন্মের তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার কাজ আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার লক্ষ্য সবসময়ই খুব সহজ মানুষের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা, কঠোর পরিশ্রম করা এবং কমিউনিটির সেবা করা। সামনে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে, এবং মিশিগানজুড়ে যেসব অসাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাদের সঙ্গে সেই কাজ চালিয়ে যেতে আমি উচ্ছ্বসিত।"
এই সম্মাননার জন্য তাহমিদ মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও মিশিগান ১০তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট’ অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও অভিনন্দন জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গ্রামীণ সড়কের সদ্য সম্পন্ন কার্পেটিং নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার পরের দিনেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচের আস্তরণ উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পা দিয়ে চাপ দিলে কার্পেটিং আলগা হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকির অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি নির্মাণকাজ চলাকালে নিয়মিত তদারকি করতেন, তাহলে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা অনুপযুক্ত পরিবেশে কার্পেটিং করার সুযোগ থাকত না।
উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় থেকে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৩৯৮ মিটার সড়কের প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্প্রতি শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ। তবে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে আসার অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় এলাকায় সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচ ও কার্পেটিংয়ের স্তর উঠে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সময়ে বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চালিয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে প্রচারিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকন আল ইবনে মাহাদী ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও তদারকি ছিল না। তাদের দাবি, কাজের প্রতিটি ধাপে উপকরণের মান, স্তরের পুরুত্ব, মিশ্রণের অনুপাত এবং কার্পেটিংয়ের উপযুক্ততা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রকৌশলীদের নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্মাণের সময়েই কাজের ত্রুটি শনাক্ত করে সংশোধনের সুযোগ ছিল। এখন কাজ শেষ হওয়ার পর কার্পেটিং উঠে আসায় পুরো প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি লেভেল করার পর প্রয়োজনীয় ইটখোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের সঙ্গে কার্পেটিংয়ের যথাযথ বন্ধন তৈরি হয়নি। এ কারণে সামান্য চাপেই পিচ উঠে আসছে বলে তাদের দাবি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট যানবাহন চলাচল করলেই চাপ পড়ছে। ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে সড়কটি আরও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আতাহারুল ইসলাম বলেন, "পা দিয়ে চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। নতুন সড়কে কোনোভাবেই এমন হওয়ার কথা নয়। নির্মাণকাজের সময় আমরা প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজে আসেনি।"
স্থানীয় বাসিন্দা মো. এখলাস আলী বলেন, "সড়কে প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, ট্রাক চলাচল শুরু হলে সড়কে কিছুই থাকবে না।"
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়ক যদি নির্মাণের পরপরই নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলে কিছুদিন পর আবার সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। এতে জনগণের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। কার্পেটিং উঠে গেলে আমার কি করার আছে। কিছু বুঝার বাকি থাকলে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।"
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. যুবায়েত হোসেন বলেন, "সড়কের অনিয়মের বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে অবগত আছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ