০৬:৩৫ পি.এম
তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে কার্যকরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে রংপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে প্রতিবছর ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
রবিবার দুপুরে রংপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচিটি পালন করেছে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শতাধিক বাসিন্দা। তারা একটি মিছিল বের করে কার্যালয় ঘেরাও করেন এবং পরে প্রধান ফটকের সামনে এক ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, তারা কয়েক বছর ধরে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে চলতি বর্ষায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ৪৬টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন ও ফজলু মিয়াসহ অন্যান্যরা। তারা অভিযোগ করেন যে, ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র পরিদর্শন ও আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেছেন, তিস্তা নদীর ডান তীরে শহর, বসতি এবং আবাদি জমি থাকায় সেখানে বাঁধ নির্মাণ করে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাম তীরে নদীটি কয়েকটি চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য জিওব্যাগ ফেলা, বাঁশের পাইলিংসহ বিভিন্ন অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাহী প্রকৌশলীর দেওয়া আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
স্থানীয়দের জানানো হয়েছে যে, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ অনেক কমে যায়। যার ফলে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় চর জেগে ওঠে এবং তিস্তা সেচ প্রকল্পও পানির সংকটে পড়ে। আবার বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ কয়েক লাখ কিউসেকে পৌঁছালে তীব্র স্রোতে নদীভাঙন দেখা দেয় এবং নদীতীরবর্তী জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন