প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হবিগঞ্জ জেলা কারাগার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে-এমন অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমানসহ একটি সিন্ডিকেট বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য এবং বন্দিদের খাবার চড়া দামে ক্যান্টিনে বিক্রির মত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি, জেল ফেরত মো. সামছুদ্দিন নামে একজন ব্যক্তি এসব অনিয়মের অভিযোগ এনে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ঢাকাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সামছুদ্দিন হচ্ছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে সিট বাণিজ্য মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের জন্য একটি আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের হাসপাতালে ভর্তি হতে অসুস্থ হওয়া বা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণের প্রয়োজন হয় না; বরং প্রতি মাসে ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা দিতে হয়। অভিযোগের দাবি, কেউ যদি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তাহলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সিট বাণিজ্যের মাধ্যমেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কারাগারের আরেকটি অনিয়মের অভিযোগ সাক্ষাৎ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। কারাবিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হলে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে অর্থের বিনিময়ে সেই নিয়ম উপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়া হয়। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিলেই বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া যায় এবং প্রতিদিন অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি এ সুবিধা পেয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কারাগারের খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই অভিযোগ রয়েছে। বন্দিদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করার পাশাপাশি ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ক্যান্টিনের বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকারি খাদ্যনীতির যথাযথ অনুসরণ করা হয় না এবং বন্দিদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইরে যখন কাঁচা মরিচের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা, তখন ক্যান্টিনে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। একইভাবে বাজারে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থাকলেও ক্যান্টিনে ১ কেজি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযোগে এও বলা হয়েছে, খাবারসহ অন্যান্য পণ্যে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জেল সুপার মুজিবুর রহমান, সুবেদার বিলাল, সুবেদার মিজান, প্রধান রক্ষী ইকবালসহ একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগকারী সামছুদ্দিন বলেন, কারাগারের ভেতরে এমন কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি নেই, যা ঘটে না। টাকা দিলে সবকিছু মেলে। সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, বন্দিদের খাবার চড়া দামে বিক্রি এবং প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।
জাকির হাসান নামে জেল ফেরত এক যুবক জানান, সম্প্রতি আমি একটি রাজনৈতিক মামলায় দেড় বছর হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলাম। সেখানকার খাবারের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তা খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু টাকা দিলে জেলে বাসাবাড়ির মতো আরামেও থাকা যায়।
হাবিব মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ জানান, কারাগারের ভেতরে কর্তৃপক্ষের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের অনিয়ম সেখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেউ যদি প্রতিবাদ করে, তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন