বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০০ পি.এম
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে আজ বুধবার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। এদিন কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। সংশোধিত বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
পূর্বে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে ছুটির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার। তবে এই ছুটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পূর্বের ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে।
রোববার বিকালে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন আংশিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহমের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম কী: ‘ইয়াজদহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার মানে ১১। ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম হলো ১১তম দিনের ফাতিহা বা ফাতেহা শরিফ। প্রতি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ এই দিবসটি পালন করা হয়।
বড়পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানির (রহ.) ওফাত দিবস হিসেবে এটি পালন করা হয়। তিনি হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার বিশাল অবদান রয়েছে। একে অনেক সময় ‘গেয়ারভি শরিফ’ নামেও অভিহিত করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘আইকনিক সোর্সিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা নদী থেকে বালু তোলার জন্য আবেদন করেছে। আবেদনের প্যাডে উল্লেখিত ঠিকানা হলো: ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। তবে সরেজমিনে খোঁজ করেও ওই ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি, এই নাম সম্পর্কেও কারো কাছে কোনো তথ্য নেই। প্যাডে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। অথচ, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পদ্মা সেতুর নিকটবর্তী এলাকা থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে জোরেশোরে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যেখানে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেখানেই নদীভাঙন রোধে ৫২৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকা থেকে বালু তোলা হলে পদ্মা সেতুর নদীশাসন ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
এছাড়া, জানা যায়, এই বালু সরকারি কোনো প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে কি না, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। মূলত, বালুটি বিক্রির জন্য তোলা হবে। এই সুযোগ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তড়িঘড়ি করে অনাপত্তি দিয়েছে। এমনকি, ওই অনাপত্তির নথি অনুমোদন করতে রাতে সই করেছেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, ভূমি মন্ত্রণালয় প্রথমে অনাপত্তি বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছিল। পরে, সেই মন্ত্রণালয়ই প্রতিষ্ঠানটিকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার সম্মতি জানিয়ে আরেকটি চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠিতে কাটার সাকশান ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তোলার শর্ত দেওয়া হলেও, প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের ড্রেজার কোম্পানি হিসেবে বিআইডব্লিউটিএতে নিবন্ধিত নয়।
এদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছেন। যদিও, বালু তোলার ফলে অপরিকল্পিত খননের কারণে নদীভাঙন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব এবং মাছের প্রজনন সমস্যাসহ নানা আশঙ্কার কথা স্থানীয় পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রকাশ করেছেন। মুন্সীগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তারা এসব আশঙ্কা জানিয়েছেন। কারিগরি কমিটির প্রধান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, "কিছু বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। আমাদের ফাইন্ডিংস দিয়েছি। কী ধরনের সুপারিশ দিয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি তিনি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, "আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বালুমহাল ঘোষণা করে টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারাদার নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এ কার্যক্রম স্থানীয় জেলা প্রশাসন করে। বেসরকারি কাউকে এভাবে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সরকারি কোনো প্রকল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কখনো কখনো অনুমতি দেওয়া হয়।"
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী যুগান্তরকে জানান, "প্রতিষ্ঠানটি বালু তোলার আবেদন করেছে। আমরা আইনিভাবে দেখছি অনুমোদন দেওয়া সম্ভব কি না। তবে এখনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পদ্মা সেতু একটি কেপিআই (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা), নদীভাঙনপ্রবণতাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত পাইনি। তাই এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।"
বালু তোলা হলে পদ্মা সেতুর আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন ও জন-অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত দুজন প্রকৌশলী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা যুগান্তরকে বলেন, "নদীর বালু তুলে যারা ব্যবসা করে, তারা দেশীয় প্রযুক্তির ড্রেজার ব্যবহার করে। এতে একই স্থান থেকে বালু তোলায় গভীর খাদ তৈরি হয় এবং আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এখানেও তা-ই ঘটবে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে।"
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল ৯ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন, "পদ্মা সেতুর ভাটিতে লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় নদীভাঙন রোধে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা চরটি এরই মধ্যে মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ইমেজেও নদীভাঙন সুস্পষ্ট। চিঠিতে পদ্মা সেতুর ভাটিতে ১৬ কিলোমিটার ভাঙনপ্রবণ হলেও ৯ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ওই প্রকল্প চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৬.৯ কিলোমিটার এলাকার নদীতীর সংরক্ষণে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (চাহিদাপত্র) দিয়েছেন।
পাওয়া যায়নি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব: ৪ মে আইকনিক সোর্সিংয়ের প্রোপ্রাইটার সৈয়দ সাদাব মাহবুব বিআইডব্লিউটিএতে বালু তোলার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা সেতুর মূল ঠিকাদারের ক্রেন চলাচল ও পলি অপসারণের জন্য দেশীয় ড্রেজার দিয়ে চ্যানেল তৈরির অনুমোদন দিলে নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি করবেন। এছাড়া ডিসি (জেলা প্রশাসক) অফিসের মাধ্যমে বালি/মাটির নির্ধারিত ফি সরকারকে দেবেন। তবে উত্তোলিত বালু কোথায় ব্যবহার হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির সাদামাটা প্যাডে অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। প্যাডে প্রতিষ্ঠানের সিল, ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা কী ধরনের কাজ করে, তার কোনো উল্লেখ নেই। ফর্মে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ। সরেজমিন বছিলা রোডে গিয়ে ১১৫/১ নামের কোনো হোল্ডিং পাওয়া যায়নি। তবে ১১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে টিন দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছোট মুদি, লাইব্রেরি, মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও চায়ের দোকান রয়েছে। সেখানকার হাফসা টেলিকমের মালিক মিয়া হোসেন জানান, "১১৫/১ নামে কোনো হোল্ডিং নেই। ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের নামও শোনেননি তিনি।" এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরকারি দপ্তরে অনুমোদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দ সাদাব মাহবুবের ভাই পরিচয় দেওয়া কাজী মো. লিয়াকত। তিন দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাদাব মাহবুবের মোবাইল নম্বর বা প্রতিষ্ঠানের সঠিক ঠিকানা দিতে রাজি হননি। ভুয়া ঠিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যেই মাধ্যমে আপনি তথ্য পাচ্ছেন, তারাই ভালো বলতে পারবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়, তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীরা ১ অক্টোবর তারিখে তাদের বেতন-ভাতা পাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের একটি সূত্র বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেতনের ডাটা আইবাসে পাঠানো হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠান থেকে লগইন করে দেখা যাচ্ছে।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবলের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৮ দিনের মধ্যে যদি এ প্রস্তাব অনুমোদন হয়, তাহলে ১ অক্টোবর শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংকে টাকা জমা হবে। তবে প্রস্তাব অনুমোদনে বিলম্ব হলে বেতন পেতে দেরি হতে পারে।’
প্রতিষ্ঠানপ্রধান প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব পাঠান। অনলাইন বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে পাঠায় কর্তৃপক্ষ।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত প্রদান নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ আরও স্বচ্ছ হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে কামরুল হাসান রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসেন। তিনি প্যাডেলচালিত তিন চাকার ভ্যান শিকল দিয়ে তালা লাগিয়ে বাজারে প্রবেশ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাজার ঘুরে তিনি কিছুই কিনতে পারেননি।
কামরুল যুগান্তরকে জানান, "গতকাল ভোররাত থেকে পণ্য পরিবহণ শেষে ৬৬৫ টাকা ইনকাম করেছি। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ভ্যান নিয়ে বের হতে পারি। এই টাকার মধ্যে ভ্যান মালিকের জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের ৫ সদস্যের জন্য খাবার কিনতে হবে। কিন্তু বাজারে পণ্যের যে দাম, তা শুনেই মাথা ঘুরছে। শুক্রবার বাজার করতে এসেছিলাম। এখন এসে দেখি অনেকগুলো পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।"
মঙ্গলবার রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা, যা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগের দিন অর্থাৎ শনিবার ছিল ৫৫ টাকা। প্রতিকেজি বেগুন আকার ও মানভেদে ৯০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০-১২০ টাকা। প্রতিকেজি শসা সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু এই একই শসা শনিবার সর্বনিম্ন ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১২০ থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা, যা দুই দিন আগে ছিল সর্বনিম্ন ৮০ টাকা। প্রতি ডজন (১২ পিস) ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়, যা আগে ১৫০ টাকা ছিল। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৮০ টাকা, যা আগে ১৬০ টাকা ছিল।
খুচরা পর্যায়ে বড় দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা, যা আগে ৯০-১০০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৮ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতিকেজি খোলা ময়দা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, যা আগে ৬৫ টাকা ছিল। খোলা পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৭০ টাকা, যা আগের দিনও ১৬৬ টাকা ছিল। প্যাকেটজাত তরল দুধ প্রতিলিটার বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা, যা আগে ১০০ টাকা ছিল।
বিক্রেতারা বলছেন, "সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে, তাই পণ্যের দাম বেড়েছে। মনে হচ্ছে একটা সময় আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতারা এই বৈশ্বিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে প্রায় তিন বছর পূর্ণ করতে চলা এই সংঘাতের কারণে ইসরাইল মারাত্মক কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।
সম্মেলনে বিশ্বনেতারা গাজার পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’, ‘গণহত্যা’ এবং ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ০৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গাজাকে ‘শিশুদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম কবরস্থান’ ও ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে অভিহিত করেছেন। কাতার এবং জর্ডানের শীর্ষ নেতারাও গাজার ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যা ও ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কাতারের আমীর অবিলম্বে ইসরাইলকে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এটি শুধু আরব বা মুসলিম দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়, পশ্চিমা মিত্ররাও ইসরাইলের নীতির খোলামেলা সমালোচনা করেছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক করিডোর না খোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলি নীতি নিরাপত্তার বদলে উলটো হুমকি বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ০৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানালেও, তিনি বলেন যে, এটি গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয় না। এছাড়া ব্রাজিল, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নেতারাও কড়া ভাষায় ইসরাইলি সরকারের সমালোচনা করেছেন।
বক্তৃতার মঞ্চের বাইরেও এই ক্ষোভ এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। কাতার, মিশর, জর্ডানসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার মানবিক সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
এছাড়া ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরাইলি বসতি অঞ্চল থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ