ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সাক্ষাৎ


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সাক্ষাৎ

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমান।

এ সাক্ষাৎ বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

লিউ হাইশিং সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আরও পড়ুন: বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

লিউ হাইশিং আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। চীনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন চীনা মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাদের দায়িত্ব।

সরকার প্রধান আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে এবং জীববৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।

আরও পড়ুন: তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া তরুণী দিশা আবারও রিমান্ডে

লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী।

এই সময় তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি Regional Comprehensive Economic Partnership—(RCEP) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার আশিক সাঈদ

লিউ হাইশিং জবাবে বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন।

বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়িতে আগুন ও দুই সাংবাদিক আহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক জনজীবন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ২৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গাজীপুরের চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, পোড়াবাড়ি, মাস্টারবাড়ি বিদ্যুৎ এলাকা, তেলিপাড়া, সফিপুর, চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর এলাকায় ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাষাঢ়া, ঝালকুড়ি ব্রিজ, বিসিক শিল্প এলাকা ও কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে।

মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শ্রমিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিল্পাঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্তমানে পোশাক শ্রমিকরা কত বেতন পান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


বর্তমানে পোশাক শ্রমিকরা কত বেতন পান?

দেশের পোশাকশ্রমিকদের জন্য বর্তমানে সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর সরকার সর্বশেষ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে এই বেতন নির্ধারণ করে। তবে, শ্রমিকরা বর্তমান মজুরি কাঠামো পরিবর্তন করে সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন কয়েক দিন ধরে। রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৩ সালে ঘোষিত মজুরি কাঠামো অনুযায়ী, পোশাকশ্রমিকদের জন্য পাঁচটি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের শ্রমিকদের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক মজুরি ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ১৩ হাজার ৫৫০ টাকা, চতুর্থ গ্রেডে ১৩ হাজার ২৫ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পোশাকশিল্পের কর্মচারীদের জন্য চারটি মজুরি গ্রেড রয়েছে। সর্বোচ্চ গ্রেডে মাসিক মজুরি ১৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং শিক্ষানবিশ কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত মজুরি ৯ হাজার ৯৫০ টাকা।

শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশোধিত ১৩৯ ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড সুপারিশ করে। সরকার বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করে এবং পরে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।

এর আগে ২০১৮ সালে পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে সাতটি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা।

দেশে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। ওই বছর প্রথম মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করে। এরপর ২০০৬ ও ২০১০ সালে কয়েক দফায় মজুরি বাড়ানো হয়। ২০১৩ সালে সর্বনিম্ন মজুরি ৭৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এদিকে, শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত ১ নভেম্বর পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের ডক্টর রেড্ডিজের এইচআইভির নতুন ওষুধের অনুমোদন, ভাইরাস ধ্বংস করবে দুটি ইনজেকশনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


ভারতের ডক্টর রেড্ডিজের এইচআইভির নতুন ওষুধের অনুমোদন, ভাইরাস ধ্বংস করবে দুটি ইনজেকশনে

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) লেনাকাপাভিরের জেনেরিক সংস্করণের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে, যা বছরে মাত্র দুবার প্রয়োগ করতে হয়। ভারতের ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ এই অনুমোদন লাভ করেছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এই অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এইডস ত্রাণবিষয়ক জরুরি পরিকল্পনা (পিইপিএফএআর)-এর আওতায় দেওয়া হয়েছে। অন্তত ৩৫ কেজি ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য এই জেনেরিক ইনজেকশনটি যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে এইচআইভি-১ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গিলিয়েড সায়েন্সেসের স্বেচ্ছা-লাইসেন্সের অধীনে ১২০টি দেশে প্রতি ব্যক্তির জন্য বছরে ৪০ ডলারে ইনজেকশনটি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রথম চালান বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২০২৭ সালে আরও বিস্তৃত পরিসরে ওষুধটি সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

লেনাকাপাভির একটি দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ, যা মূলত গিলিয়েড সায়েন্সেস দ্বারা তৈরি। এটি এইচআইভি-১ ক্যাপসিড ইনহিবিটর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। শরীরে এইচআইভির বংশবিস্তার ও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ভাইরাসের জীবনচক্রের একাধিক পর্যায়ে কাজ করে লেনাকাপাভির। অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সাধারণত ভাইরাসের জীবনচক্রের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়কে লক্ষ্য করে কাজ করে।

এই ওষুধটি এইচআইভির চিকিৎসা ও প্রতিরোধ—দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী এর প্রয়োগপদ্ধতি ও মাত্রা ভিন্ন। এইচআইভি প্রতিরোধে বছরে দুবার ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়, ফলে প্রতিদিন প্রতিরোধী ওষুধ খেতে অসুবিধা হয়—এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) এইচআইভি প্রতিরোধের নির্দেশিকায় বছরে দুবার প্রয়োগযোগ্য লেনাকাপাভির ইনজেকশনের সুপারিশ করেছে। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সাময়িকী সায়েন্স ২০২৪ সালের ‘বছরের সেরা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি’ হিসেবে ওষুধটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এফডিএর অনুমোদন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এফডিএর প্রাথমিক অনুমোদনের ফলে যোগ্য দেশগুলোতে ড. রেড্ডিজের সাশ্রয়ী জেনেরিক সংস্করণ সরবরাহের পথ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গিলিয়েড সায়েন্সেস ড. রেড্ডিজকে স্বেচ্ছা-লাইসেন্স দেওয়ার পর এ উদ্যোগ এগিয়ে যায়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পণ্য উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া এবং ওষুধটির বিস্তৃত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ইউনিটেইড, উইটস রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ অ্যান্ড এইচআইভি ইনস্টিটিউট (উইটস আরএইচআই) এবং ক্লিনটন হেলথ অ্যাকসেস ইনিশিয়েটিভের (সিএইচএআই) সঙ্গে চুক্তি করে ড. রেড্ডিজ।

সিএইচএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিল বাডি শাহ বলেছেন, এইচআইভি প্রতিরোধের পদ্ধতি সহজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এইচআইভির ঝুঁকিতে থাকা একজন ব্যক্তিকে এমন একটি রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন ওষুধ খেতে বলা কঠিন, যে রোগটি তার নেই। বছরে দুবার ইনজেকশন—যে ওষুধটি এইচআইভি প্রতিরোধে প্রায় ১০০ শতাংশ কার্যকর—এই বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে দেয়।’

তিনি আরও জানান, আফ্রিকায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ লেনাকাপাভির ব্যবহার শুরু করেছেন। জেনেরিক সংস্করণের অনুমোদনের ফলে আরও লাখো মানুষের কাছে ওষুধটি পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বছরে দুবারের ইনজেকশন কীভাবে এইচআইভি প্রতিরোধে সহায়তা করবে? এইচআইভি প্রতিরোধের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিয়মিত প্রতিরোধী ওষুধ গ্রহণ নিশ্চিত করা। সম্ভাব্য সংস্পর্শের আগে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ওষুধ গ্রহণের পদ্ধতিকে প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা প্রিইপি (PrEP) বলা হয়।

প্রতিদিন খাওয়ার প্রিইপি কার্যকর হলেও জীবনযাপন, ওষুধের প্রাপ্যতা, গোপনীয়তা কিংবা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের অভ্যাস বজায় রাখার অসুবিধার কারণে অনেকের জন্য তা কঠিন হতে পারে। বছরে দুবার ইনজেকশন এসব বাধা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

কম মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ: প্রতিদিন প্রতিরোধী ওষুধের বদলে বছরে দুবার ইনজেকশন নিলেই চলবে। এতে বারবার ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজন কমবে।

সহজ ব্যবহার: প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার সময়সূচি মেনে চলতে অসুবিধা হয়—এমন ব্যক্তিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন সুবিধাজনক হতে পারে।

গোপনীয়তা: কেউ কেউ বাড়িতে প্রতিদিন এইচআইভি প্রতিরোধী ওষুধ রাখার পরিবর্তে বছরে দুবার ইনজেকশন নেওয়াকে বেশি পছন্দ করতে পারেন।

সহজলভ্যতা: বছরে ৪০ ডলারের পরিকল্পিত মূল্য সীমিত স্বাস্থ্যসেবা-সম্পদ থাকা দেশগুলোতে এ প্রতিরোধী পদ্ধতিকে আরও সহজলভ্য করতে পারে।

প্রতিরোধের বিকল্প: যারা প্রতিদিন খাওয়ার প্রিইপি নিতে চান না বা নিতে পারেন না, তাদের জন্য লেনাকাপাভির আরেকটি বিকল্প হতে পারে।

তবে লেনাকাপাভির শুরু করার আগে এবং প্রতিটি পরবর্তী ইনজেকশনের আগেও ব্যক্তির এইচআইভি-নেগেটিভ অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ওষুধটি এইচআইভি প্রতিরোধের জন্য; যৌনবাহিত অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর বিকল্প নয়।

ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের এপিআই ও সার্ভিসেস বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক সাপ্রা মন্তব্য করেন, ‘ড. রেড্ডিজের সবার জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। জরুরি প্রয়োজনের ওষুধকে সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছাতে লেনাকাপাভিরের মতো জটিল দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন তৈরি ও উৎপাদনের জন্য শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এবং উৎপাদন-দক্ষতার প্রয়োজন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএর অনুমোদন সেই কাজের স্বীকৃতি এবং স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে বছরে দুবারের এইচআইভি প্রতিরোধী ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পথে আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গালিবাফ: মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


গালিবাফ: মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অথবা বিবেকের তাড়নায় মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যদি যুদ্ধ চালানো হয়, তাহলে ওয়াশিংটন ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হবে।

গালিবাফ বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে, আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে না বলেছে। আমরা তাদের এই অবস্থানকে সমর্থন করি।"

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মার্কিন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থদাতা ও ব্ল্যাকমেইলারদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর কথায়, ইরানের ‘না’ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।

এবারের নির্বাচনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

গালিবাফের এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরানের রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%