সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৬ পি.এম
নতুন আইফোনের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী পুরোনো বা ব্যবহৃত আইফোন কেনার দিকে ঝুঁকছেন। কম দামে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়ার সুযোগ থাকলেও, ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা অপরিহার্য। ব্যাটারির অবস্থা, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, ফেস আইডি এবং অ্যাক্টিভেশন লক এসব বিষয়গুলোর প্রতি অসতর্ক হলে পরবর্তীতে বাড়তি খরচের সম্মুখীন হতে হতে পারে।
ব্যাটারি হেলথ যাচাই করুন
পুরোনো আইফোন কেনার আগে ব্যাটারির সক্ষমতা পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘Battery’ এবং ‘Battery Health’ বা সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি হেলথ অপশন থেকে ব্যাটারির সর্বোচ্চ সক্ষমতা দেখা সম্ভব। যদি ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যায়, তাহলে চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই ফোন কেনার পূর্বে ব্যাটারির অবস্থা যাচাই করে সম্ভাব্য পরিবর্তন খরচ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত।
মডেল ও ডিভাইসের তথ্য মিলিয়ে নিন
আইফোনটি আসলে কোন মডেলের, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সেটিংসের ‘General’ থেকে ‘About’ বিভাগে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে মডেলের নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করা উচিত। বিক্রেতার দেওয়া তথ্য এবং ডিভাইসের তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অ্যাপলের অফিসিয়াল সাপোর্টের মাধ্যমে প্রযোজ্য ডিভাইস-সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
ডিসপ্লে ও টাচস্ক্রিন পরীক্ষা করুন
ফোনের স্ক্রিনে ফাটল, দাগ, কালো অংশ বা অস্বাভাবিক রং রয়েছে কি না, তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। স্ক্রিনের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করে টাচস্ক্রিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা উচিত। ডিসপ্লে যদি আগে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, সেটিও জানা প্রয়োজন। কারণ নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ ডিসপ্লে ফোন ব্যবহারে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ক্যামেরা, স্পিকার ও মাইক্রোফোন পরীক্ষা করুন
আইফোন কেনার আগে সামনের এবং পেছনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে দেখা প্রয়োজন। ক্যামেরার ফোকাস, ছবির মান এবং লেন্সের অবস্থা যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ডিংয়ের শব্দ, ইয়ারপিস, লাউডস্পিকার এবং মাইক্রোফোন পরীক্ষা করা উচিত। এসব ফিচারে সমস্যা থাকলে ফোনের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হতে পারে।
ফেস আইডি ও সংযোগব্যবস্থা যাচাই করুন
ফেস আইডি-সমর্থিত মডেলে মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা উচিত। একই সঙ্গে পাওয়ার বাটন, ভলিউম বাটন, চার্জিং পোর্ট, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং জিপিএস পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সম্ভব হলে নিজের সিম ব্যবহার করে কল করা এবং চার্জার সংযুক্ত করে চার্জিংয়ের কার্যকারিতাও যাচাই করা উচিত।
অ্যাক্টিভেশন লক সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
ব্যবহৃত আইফোন কেনার ক্ষেত্রে অ্যাক্টিভেশন লক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি আগের মালিকের অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ফোনটি যুক্ত থাকে, তাহলে নতুন ক্রেতা সেটি সক্রিয় করতে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই বিক্রেতার উপস্থিতিতে নিশ্চিত হতে হবে যে ফোনটি আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট থেকে সরানো হয়েছে। ফোনটি মুছে নতুন করে সেটআপ করার সময় আগের মালিকের অ্যাকাউন্টের তথ্য চাইছে কি না, সেটিও খেয়াল করতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত টাকা পরিশোধ না করাই নিরাপদ।
আইএমইআই ও যন্ত্রাংশের ইতিহাস দেখুন
ফোনের আইএমইআই নম্বর ডিভাইসের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। সেটিংসের ‘Parts and Service History’ বিভাগে সমর্থিত মডেলগুলোতে যন্ত্রাংশ পরিবর্তন বা মেরামতের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বদলানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটির কারণ, ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ধরন এবং মেরামতের ইতিহাস সম্পর্কে বিক্রেতার কাছে জানতে হবে।
সব মিলিয়ে, পুরোনো আইফোন কেনার সময় শুধুমাত্র মডেল বা কম দামকে প্রাধান্য না দিয়ে ফোনের সামগ্রিক অবস্থা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যাটারি, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, ফেস আইডি, সংযোগব্যবস্থা, যন্ত্রাংশের ইতিহাস এবং অ্যাক্টিভেশন লক পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইস কেনার ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতের বাড়তি খরচ কমানো সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশ নারীবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- নারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সেবা ডেস্কের আধুনিকীকরণ এবং নারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন জানান, "লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং বুলিং বা হেনস্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ও সংবেদনশীল করে তোলার লক্ষ্যে চলমান পুলিশ সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং সম্প্রসারণে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি বিভাগীয় শহরে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাঁদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৫-এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এর তত্ত্বাবধানে উত্তরায় একটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে।
এ ছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ৬৪টি জেলার সদর থানার নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সেবা ডেস্কগুলোকে ‘মডেল’ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগও নিয়েছে পুলিশ।
প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিটের চাহিদা অনুযায়ী আরও মোতায়েন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইউএনএফপিএ’র অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেসপন্স ফর জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন অ্যান্ড গার্লস (প্রিভিল)’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, কক্সবাজার, বান্দরবান, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বরগুনা, জামালপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাটসহ ১০টি জেলার ৯২টি থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নারী, শিশু ও প্রবীণদের অধিকার এবং আইনি সহায়তা বিষয়ে প্রাথমিক সচেতনতা ও প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৪টি জেলা সদর থানার নারী, শিশু ও প্রবীণ সেবা ডেস্কে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে সেগুলোকে মডেল সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কর্তৃপক্ষ একটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে নারী সদস্যের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৭০ জন যা বাহিনীর মোট সদস্যের ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার সমপর্যায়ের পদসহ বিভিন্ন পদে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারী সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।"
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে পোশাক খাতে, যেখানে অধিকাংশ শ্রমিকই নারী, সেখানে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় নারী পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি বলেন, "শিল্প খাতে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।"
মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটে কর্মরত এক নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) জানান, নারী কর্মকর্তারা বড় ধরনের অপারেশনাল দায়িত্ব পালনে সক্ষম। তবে তাঁদের দায়িত্বের পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল নেতৃত্বের সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পুলিশে ১৯৭৪ সালে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে নারীরা মূলত সীমিত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বর্তমানে কনস্টেবল, এএসআই, এসআই, পরিদর্শক, এএসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সমপর্যায়ের পদেও নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, রিভার পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বিপিডব্লিউএন’র ২০২৪-২০২৭ মেয়াদের কৌশলগত পরিকল্পনায় পুলিশে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিপিডব্লিউএন’র এই কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কেবল নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিই নয়, বরং পুরো বাহিনীতে তাদের নেতৃত্ব, তদন্ত ও কার্যক্রম-পরিচালনা সংক্রান্ত ভূমিকার পরিধি সম্প্রসারণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এলপিজি আমদানি গত এক মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তুলনায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এর ফলে খুচরা বাজারে রান্নার গ্যাসের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বর্তমানে ভোক্তাদের জন্য তা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের উপর বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে।
বিইআরসি এবং এলপিজি আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। এই হিসাবে, এক মাসে আমদানি প্রায় ৪০ হাজার টন কমেছে।
এদিকে, গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।
ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এই পরিস্থিতি দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে সময় এবং খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা জানিয়েছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান লোকসান এড়াতে আমদানি সীমিত রেখেছে বলেও তাদের দাবি।
ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত।
এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির কারণ হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
তবে বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দূর না হলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এলপিজি সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
চলমান সংকটে একদিকে ভোক্তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আবাসিক ছাত্রাবাস ‘ইসলামিক মিশন সিটি’ পরিদর্শন করেন গৌতম কুমার দে, যিনি মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। এই পরিদর্শনের সময় তিনি দেশের সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে জাতীয় ফল কাঁঠালের দুটি চারা রোপণ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মিশরের মাটিতে কাঁঠালগাছ রোপণের ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটলো।
রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কায়রোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামিক মিশন সিটিতে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের সহকারী মহাপরিচালক মোস্তফা, প্রেস সচিব ওমর ফাতেহি, মিশরে বাংলাদেশ ছাত্র সংগঠন ইত্তেহাদের সহ-সভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ খান মিল্কি, পিএইচডি গবেষক আব্দুর রহিম, জুলাই যোদ্ধা কিশোরগঞ্জের মাসুদ হাসান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিনিধি মুয়াজ বিন মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
সাক্ষাতে আল-আজহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি, ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশিদের আবাসিক আসন বাড়ানো এবং মেধাবী ও ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে আল-আজহার কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
ইসলামিক মিশন সিটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, "কয়েক বছর ধরে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছেন।" তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও ভদ্রতা উল্লেখ করে তাদের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে সাক্ষাতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও পরিচিত করে তুলতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন সিটিকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের রিকশার একটি মডেল উপহার দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, "মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস এবং পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরে তাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজে লাগাবেন।
পরে ড. ঈসাম কাজি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামিক মিশন সিটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন গৌতম কুমার দে। তিনি প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। এরপর টেনিস ও বিলিয়ার্ড হল, জিমনেশিয়াম, ফিটনেস সেন্টারসহ শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন।
ইসলামিক মিশন সিটিতে বর্তমানে বিশ্বের ১০৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা বসবাস ও পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের গাছ রোপণের মাধ্যমে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি প্রতীকী পরিচয় তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কাঁঠালের দুটি চারা রোপণের সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, "বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের মাটি, প্রকৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে কাঁঠালগাছ বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও মিশরের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি প্রতীকী স্মারক তৈরি হবে।
ইসলামিক মিশন সিটির পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে গৌতম কুমার দে বলেন, "সুন্দর ও সবুজ পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ রয়েছে।" তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।"
সাক্ষাৎ শেষে ড. ঈসাম কাজি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পাঠ্যক্রম-সম্পর্কিত কয়েকটি বই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন।
পরিশেষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন গৌতম কুমার দে। তিনি ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং সংকট নিরসনে সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোহিঙ্গা বিষয়ক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান মন্তব্য করেন, প্রকৃত সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।
আইরিন খান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা জনগণের জন্য অর্থসহায়তা কমছে এবং বিশ্বের মনোযোগও অন্যদিকে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সহায়তা ব্যবস্থা কক্সবাজারে থাকা দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, প্রকৃত সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, এই ১২ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বর্তমানে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা জনাকীর্ণ আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে, যেখানে সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং মানবিক সহায়তা ক্রমাগত কমছে।
আইরিন খান ‘রোহিঙ্গা শিশুরা আশ্রয় শিবিরে কঠিন পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠছে’ উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গারা ৯ বছর ধরে আশ্রয় শিবিরে আছেন। শিশুরা সেখানেই বড় হচ্ছে। প্রতিবছর ১২ লাখ শরণার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। শিবিরগুলোতে বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ কী? শরণার্থী শিবিরে ৯ বছর কাটানো একটি দীর্ঘ সময়।
আইরিন খান বলেন, এ কারণেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে। আমরা বিশ্বাস করি, এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। শরণার্থীরাও নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী, তবে তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরতে চান। আমরা চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দিক।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আশা করছেন? এবং মিয়ানমার সমাধানের বিষয়ে কতটা আগ্রহী? এই প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনুক। সেখানে থাকবে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশ, এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং অবশ্যই মিয়ানমার। আরও থাকবে দূরবর্তী সেই সব দেশ, যাদের মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে কিংবা এই প্রক্রিয়ায় অর্থায়নের সামর্থ্য আছে।
আমরা এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চাই, যার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে তার জনগণকে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি মিয়ানমারের ভেতরেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে, যাতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরতে পারে।
জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের একার পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোকে। তাদের আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ