বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:২৭ পি.এম
শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার-বিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে দেশে সকল মাদ্রাসাকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
এটি বুধবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ৭ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’ অনুমোদন লাভ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সকল মাদ্রাসায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বোর্ডের আওতাধীন সকল স্তরের মাদ্রাসার (দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল) অধ্যক্ষ, সুপার, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদস্যদের প্রত্যেককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ১০৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে খোলা রাখার পর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা নিরাপদ সীমানায় নেমে আসার কারণে বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে সমস্ত জলকপাট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, টানা চার দিন ধরে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পানি নিষ্কাশন হওয়ায় লেকের পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বুধবার রাত ১১টায় লেকের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৩ দশমিক ২৬ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। জলকপাটগুলো বন্ধ হলেও বর্তমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট থেকে গড়ে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা যখন ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএলের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং বিপজ্জনক গতিতে চলে আসে, তখন শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটের সময় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল।
এর ফলে টানা ১০৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই লেক থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হয়। এতে পানির উচ্চতা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ জলকপাটগুলো বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান ও সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।’
এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কাজ করছে। আর দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে ভ্যাট ট্যাক্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনসহ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে সরকার।’
আরটিভি /এসএস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার ফলে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের একটি হাত কেটে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং একজনের অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে দুপুর ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুসারে, আলমডাঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া রয়েল এক্সপ্রেসের বাসটি দ্রুত গতিতে চলছিল। সরোজগঞ্জ বাজার অঞ্চলে পৌঁছালে সড়কপথে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে পাশ কাটানোর সময় বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের পাশের এলাকায় উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। পরে স্থানীয় মানুষজন এসে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও রাজশাহীর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের একটি হাত কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং একজন অন্ধ হয়ে গেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ করছে। এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এ তথ্যটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ড. মুহিত বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উন্নত চক্ষুচিকিৎসাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও এই তিন খাতেই চক্ষুসেবায় উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে এখনও একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যব্যবস্থা ও অভিন্ন রিপোর্টিং কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এ কারণে সরকার একটি জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যার আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। চক্ষুসেবা খাতের উন্নয়ন এক দিনে সম্ভব নয়; পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ইনিয়ে আনা হবে।
তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনার প্রথম বছরেই জেলা হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান চক্ষুসেবার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হবে। জেলা পর্যায়ে উন্নত চক্ষুচিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে।
শিশুদের দৃষ্টিস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের চোখের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য সমন্বিত স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালানো হবে। যেসব শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন, তাদের জন্য চশমা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, অফিস ও অন্যান্য কর্মস্থলে কর্মজীবী মানুষের চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, কর্মীদের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি উৎপাদনশীলতা বিশেষভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়।
বয়স্ক মানুষের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্ব কমানোর জন্য বড় পরিসরে ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান ড. মুহিত। তিনি বলেন, প্রতিবছর কয়েক লাখ সফল ছানি অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করা গেলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
চক্ষুর নতুন ধরনের রোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত ও চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে উন্নত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে, এ কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রযুক্তির বদৌলতে মাঠপর্যায়ে চক্ষুসেবা প্রদান এখন অনেক সহজ হয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চক্ষুচিকিৎসা শুধু বড় শহরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
চক্ষুচিকিৎসা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। বর্তমানে দেশের সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। অনুষ্ঠানটিতে এআরকি ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে দেশের জ্যেষ্ঠ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ