বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:২৫ পি.এম
সরকার আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এ তথ্যটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ড. মুহিত বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উন্নত চক্ষুচিকিৎসাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও এই তিন খাতেই চক্ষুসেবায় উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে এখনও একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যব্যবস্থা ও অভিন্ন রিপোর্টিং কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এ কারণে সরকার একটি জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যার আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। চক্ষুসেবা খাতের উন্নয়ন এক দিনে সম্ভব নয়; পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ইনিয়ে আনা হবে।
তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনার প্রথম বছরেই জেলা হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান চক্ষুসেবার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হবে। জেলা পর্যায়ে উন্নত চক্ষুচিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে।
শিশুদের দৃষ্টিস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের চোখের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য সমন্বিত স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালানো হবে। যেসব শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন, তাদের জন্য চশমা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, অফিস ও অন্যান্য কর্মস্থলে কর্মজীবী মানুষের চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, কর্মীদের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি উৎপাদনশীলতা বিশেষভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়।
বয়স্ক মানুষের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্ব কমানোর জন্য বড় পরিসরে ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান ড. মুহিত। তিনি বলেন, প্রতিবছর কয়েক লাখ সফল ছানি অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করা গেলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
চক্ষুর নতুন ধরনের রোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত ও চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে উন্নত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে, এ কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রযুক্তির বদৌলতে মাঠপর্যায়ে চক্ষুসেবা প্রদান এখন অনেক সহজ হয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চক্ষুচিকিৎসা শুধু বড় শহরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
চক্ষুচিকিৎসা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। বর্তমানে দেশের সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। অনুষ্ঠানটিতে এআরকি ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে দেশের জ্যেষ্ঠ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বাবুল মিয়া নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে পাঁচটি ড্রেজার মেশিনও ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেনের নেতৃত্বে পোলা কান্দি, সবুজপুর এবং বাসেতপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত বাবুল মিয়া বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ঝালরচর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অভিযান সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছিল। ইউএনও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযানে পোল্লাকান্দি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর তীর থেকে তিনটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়, একই সময়ে সবুজপুর এলাকার জিঞ্জিরাম নদীর তীর থেকে দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। পরে বাসেতপুর এলাকা থেকে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী বাবুল মিয়াকে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন জানিয়েছেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের শিকার হচ্ছে এবং শক্তিশালী পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের পরনে কালো রঙের প্যান্ট এবং নীল রঙের গেঞ্জি ছিল।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চরকালীগঞ্জ বড়ইতলা রহমান সাহেবের ডক সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করে নৌ পুলিশ সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয়রা কচুরিপানার সঙ্গে ময়নাতদন্তের জন্য ভাসতে থাকা মরদেহটি দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে সেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, মরদেহটি চার থেকে পাঁচ দিন যাবৎ পানিতে ভাসমান ছিল। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে হাত ও পায়ের চামড়া খসে গেছে। এই কারণেই পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও জানান, গত ১৮ জুলাই করা একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে সাভার থেকে একটি পরিবার এসেছে। কিন্তু এটি তাদের নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ কি-না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি।
নৌ পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মরদেহটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি হচ্ছ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলন ২০২৬ এ তিনি এ কথা বলেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি-যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না। ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি আপনাদের একটি সহজ ও স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন। আপনি দেশের উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী, আপনি যখন বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করবেন, তখন আমাদের সরকারও তার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনার পাশে থাকবে। এটি কেবল একটি আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।
বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও অব্যাহত রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে। আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সাথে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সাথে শুনেছি। তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট— বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের কথা গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করেছি, আর তাই এখন আমরা সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি, কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি। একই সাথে আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন করছি, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত করছি, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করছি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ করছি এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদের বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস। আমরা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছি, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্র্যময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর। আমি এই কক্ষে উপস্থিত প্রতিটি ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসাথে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।
সরকারপ্রধান বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি। আসুন একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় আমরা অংশীদার হই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে অতিভারি বর্ষণের কারণে পানি জমা হয়েছিল। সেই সঙ্গে পাহাড়ধসও ঘটে। এতে সময়ের সাথে অনেক প্রাণহানি ঘটে। সেখানকার পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এখন আবহাওয়া অফিস আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য অতিভারি বর্ষণের সতর্ক বার্তা দিয়েছে। একইভাবে বরিশালেও অতিভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোথাও কোথাও অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এদিকে বরিশালেও অতিভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অতিভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা সহ সারা দেশে থেমে থেমে বৃষ্টির মতো অবস্থা থাকতে পারে।’
এমন পরিস্থিতিতে খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, নোয়াখালী এবং সিলেট নৌবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- এ সময়ের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে এই ঝড় হতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতের শঙ্কাও রয়েছে। এসব কারণে আট জেলার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ