ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা মির্জা ফখরুলের


‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা মির্জা ফখরুলের

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার, চুনিহাড়ী পশ্চিমপাড়ায় "করবো কাজ, গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “দেশীয় উদ্ভাবনকে কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগাতে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর তৈরি ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্ভাবন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করবে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো এবং একটি পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তিচালিত এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সোলেমান আমাদের দেশের গর্ব, তাই সরকারের পক্ষ থেকে সোলেমানের উদ্ভাবিত সোলার সেচপাম্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেই সাথে তাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হলে দেশের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের আগের সময়ে মন্ত্রী সোলার সেচপাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

উদ্ভাবক মো. সলেমান আলী জানান, বিদ্যুৎ ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারি সহযোগিতা পেলে এ প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় ৮ বাংলাদেশি আটক, অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২০ এম


মালয়েশিয়ায় ৮ বাংলাদেশি আটক, অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা

মালয়েশিয়ায় কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্টেড) থাকা সত্ত্বেও অবৈধ সীমান্ত পথ ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টাকালে আটজন বাংলাদেশিসহ ১৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কেলান্তান সীমান্তের কাছে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তারা ধরা পড়েন। কুয়ালালামপুর ও কেলান্তানের অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা শাখা এবং মেরিন ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যৌথ দল ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে কোতা বারু এলাকার দুটি ভিন্ন স্থানে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের প্রথম স্থানটি ছিল একটি বাস টার্মিনাল, যেখানে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রথমে আটজন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করেন। একই স্থানে আরও তিনজন ইন্দোনেশিয়ান পুরুষ এবং একজন নারীকেও আটক করা হয়।

পরবর্তীতে একটি আবাসিক এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানে পালানোর চেষ্টাকালে এক মিয়ানমারের নাগরিক নারীকেও গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতদের বয়স ২২ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে রয়েছে।

এই অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের যাতায়াতে সহায়তা করার অভিযোগে একটি ‘প্রোটন প্রিভে’ গাড়ি এবং আটটি পাসপোর্ট জব্দ করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন আগে থেকেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন।

ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কঠোর নজরদারি এড়াতেই তারা এই দুর্গম ও অবৈধ পথ বেছে নিয়েছিলেন। বর্তমানে আটককৃতদের ইমিগ্রেশন আইনের ধারা ৬(১)(সি) এবং ১৫(১)(সি) এর অধীনে গ্রেফতার দেখিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে পাঠানো হয়েছে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধ অভিবাসী এবং মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় হামাস কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২০ এম


গাজায় হামাস কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গাজার উপত্যকায় তাদের পরিচালিত অভিযানে হামাসের শুজাইয়া ব্যাটালিয়নের সামরিক নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ নাইম জানদিয়া নিহত হয়েছেন। এই খবরটি এসেছে আল জাজিরার মাধ্যমে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় তারা তিনজন ইসরাইলি জিম্মিকে অপহরণ করেছিল, যাদের একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে রাখার দায়িত্বে ছিলেন জানদিয়া।

ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, ওই তিন জিম্মি পরবর্তীতে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। সেই সময় সেনারা ভুলবশত তাদের ফিলিস্তিনি হিসেবে শনাক্ত করেছিল, যা ইসরাইলও স্বীকার করে।

তবে মোহাম্মদ নাইম জানদিয়ার নিহত হওয়ার দাবি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই কারণে আরও বেশি ফিলিস্তিনি এলাকা বাসিন্দাদের জন্য অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের মানবাধিকার সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স।

সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে কার্যকর হওয়া গাজার যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরাইলি সেনাবাহিনী যে সীমারেখা পর্যন্ত সরে গিয়েছিল, সেটিই প্রথমে ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে পরবর্তীতে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা গাজার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।

এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স জানায়, এর ফলে গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যা এখন উপত্যকার এক-তৃতীয়াংশেরও কম এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইয়েলো লাইন’-এর সম্প্রসারণের কারণে পানির উৎস, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ নীতির কারণে বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ‘ইয়েলো লাইন’-সংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৯৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন নারী এবং ৪৩ জন শিশু রয়েছেন।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স আরও অভিযোগ করে, ‘ইয়েলো লাইন’ কার্যত একটি ‘কিল জোন’ বা মৃত্যু অঞ্চল, যেখানে ইসরাইলি বাহিনীর জন্য প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নিয়ম অত্যন্ত শিথিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের ঘটনা ঘটেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২২ এম


কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের ঘটনা ঘটেছে

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় তিনটি স্থানে ধস হয়েছে এবং একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার অংশের ব্লক পিচিং ধসে গেছে। এর পাশাপাশি অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার ধসের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। এই কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে আতঙ্কে থাকতে হয় স্থানীয়দের। কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন জানান, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর তারা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় তারা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। তিনি আশঙ্কা করছেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে তারা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়বেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরজাহান বেগম এবং নুর নাহার বেগম বলেন, ‘প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। এবারও বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’ কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ২-১ দিনের মধ্যে বাঁধটি ঝুঁকিমুক্ত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষার্থী মারুফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৪ এম


এইচএসসি পরীক্ষার্থী মারুফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান

‘সবাই পারলে আমি কেন পারবো না’, এই জেদ থেকেই সমস্ত অপমান-অপবাদ-লাঞ্ছনাকে পাশ কাটিয়ে বৃহস্পতিবার(২জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার টেবিলে বসতে পেরেছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ মো: মারুফ উল্যাহ। কুড়িগ্রামের রাজারহাট ফাজিল মাদরাসার দোতলা ভবনের শেষ প্রান্তে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে সে। শ্রুতি লিখনে তাকে সহযোগিতা করছে তার ভাতিজি ছুম্মা আক্তার। তার এই পথচলাটা মসৃন ছিল না, ছিল কণ্টকময়। চারদিক থেকে বাঁধা, অর্থনৈতিক টানাপোড়ন আর প্রতিকূল পরিবেশ তাকে আটকাতে পারেনি। চোখে না দেখলেও মনের চোখ দিয়ে জ্ঞান আহরণে যেন বদ্ধপরিকর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ।

মারুফ জানায়, চোখে না দেখার কারণে আমাকে বাড়ির পাশের স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। শিক্ষকরা মুখের উপর বলেছেন, একে দিয়ে পড়াশুনা হবে না। চোখে দেখো না গ্রামার শিখে লাভ কি! আমার পড়াশুনাটা সহকর্মীরা যেন মেনে নিচ্ছিল না। শিক্ষকরাও বিরক্ত হতেন। আমি পড়তে গিয়ে অনেক বাজে ট্রলের শিকার হয়েছি। কখনো কখনো এক একটা দিন যেন এক একটা বছর মনে হতো। তারপরও আমি থেমে থাকিনি। আমার কাছে পরীক্ষাটা মূল উদ্দেশ্য ছিল না, মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান অর্জন করা। এভাইে নিজের জীবনের কন্টকময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরলেন পরীক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বুজরুক নূরপুর গ্রামের সন্তান হাফজ মারু্ফ উল্যাহ। সে আলিম পরীক্ষার্থী। পরিবারে দু’ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। বড় ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরী করে। বাবা গোলজার হোসেন মারা গেছেন ২০১৯ সালে। মা শাহজাদি বেগম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে লেখাপড়ার উপর জোর দিয়েছিলেন। মায়ের উৎসাহে ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আজ সে এতদূর আসতে পেরেছে।

মারুফ জানান, “যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আমি দেখলাম। আমার যদি কখনো সুযোগ হয়, একদিনের জন্যও সুযোগ হলে আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উপযুক্ত শিক্ষার জন্য কিছু করতে চাই। পড়াশুনাকালিন সময়ে আমি সহপাঠীদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আমি কিন্তু কোন টাকা নেইনি। যারা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আছেন তারা যেন আমার মত কষ্টের মধ্যে পরতে না হয়। এজন্য তাদের জন্য কিছু করতে চাই।”

মারুফ আরও জানায়, “বাড়ির পাশের স্কুল থেকে আমাকে তাড়িয়ে দেয়ার পর আমি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হই। এফতেদায়ি পরীক্ষার পর ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সমায় ক্লাসে এমন কোন অপমান নাই যা আমাকে করা হয় নাই। শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী সবাই আমাকে পড়াশুনায় বাঁধা দিয়েছে, অপমান করেছে। শিক্ষকরা মুখের উপর বলেছেন, চোখে দেখো না গ্রামার শিখে লাভ কি! এরপর ২০২২ সালে আমি ফরিদপুর আব্দুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হই। সেইটাই ছিল আমার গোল্ডেন টাইম। ওখানে সুপার শাহ আলম হুজুর থেকে ম্যাডাম নাজমুন নাহার এবং টিচাররা আমাকে মোটিভিশন করা ও দিক নির্দেশনা দিতেন। সুপার শাহ আলম স্যার সময় পেলেই আমাকে গ্রামারসহ অন্যান্য সাবজেক্টের পড়া আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিতেন। অথচ আমাকে ভর্তি করার জন্য তাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল। আমি ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক টিচারের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে ক্লাস পরীক্ষায় আমাকে কম নাম্বার দেয়া হয়েছিল। এসব প্রতিকূল পরিবেশ ও চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে আমি পড়াশুনা চালিয়ে গেছি। তবে আমার সুপার গোল্ডেন টাইম ছিল ফরিদপুর থেকে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া। এরপর আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে, আমার এতদূর আশার পিছনে যে জিদটা কাজ করেছিল, তা হলো সবাই পারলে আমি কেন পারবো না। এই জিদ থেকেই আমার এতদূরে আসা। তবে আমার কাছে পরীক্ষাটা মূল উদ্দেশ্য ছিল না, মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান অর্জন করা।” এভাইে নিজের জীবনের কন্টকময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরলেন পরীক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ।

মারুফ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, খারাপ সময় কখনো না কখনো চলে যাবে, তোমাকে কেউ দেখতে পারে না এজন্য পড়াশুনা করে কি হবে এসব চিন্তা করা যাবে না। হয়তো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধীরা ভালো কিছু করেছে বলে আমার জানা নেই। তবে পড়াশুনা করে যদি কিছুই না হয়, চাকরী না হয় তাহলে নিজেকে তো প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। সন্তানদেরকে মানুষ করতে পারবে। সড়কে বা রেললাইনে ভিক্ষাবৃত্তি না করে পরিশ্রমের মাধ্যমে একটা স্টাবলিস্ট জীবন যাপন করতে পারবে। নিজের মতামতটা দিতে পারবে।

মারুফ আরও জানায়, আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, আমার পড়াশুনার জন্য এলাকাবাসীর কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। তবে বলতে কষ্ট হয় আমার কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন ব্যবহার পেয়েছি যে, এক একটা দিন যেন এক একটা বছর মনে হয়েছিল। পরিবার ও প্রতিবেশীরা সাপোর্ট দিয়েছিল বলে আমি কুড়িগ্রাম এসে পড়াশুনা করতে পারছি। তবে একটা মানুষ যদি ভালো কিছু করতে চায় তাকে পজেটিভভাবে নেয়া উচিত। কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার মোফাচ্ছির মাজিদুর রহমান জানান, প্রতিবন্ধকতা সত্বেও মারুফ সুদূর রংপুর থেকে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। ছাত্র হিসেবে সে আমাদের মন জয় করেছে। তার জানার আগ্রহ আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সে একজন হাফেজ। ক্লাসে তার রেসপন্স অনেক ভালো। সে আরও উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াক এই কামনা করছি। এছাড়াও সরকার যদি শিক্ষিত প্রতিবন্ধীদের পাশে দাড়ায় তাহলে অন্যান্যরা অনুপ্রেরণা পাবে।

রাজারহাট ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই বলেন, রাজারহাট ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৩২৯ জন এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১৬জন। আমাদের কেন্দ্রে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষা দিচ্ছে। একজন শ্রুতি লিখনীর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা তাকে দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%