ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের ঘটনা ঘটেছে


কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের ঘটনা ঘটেছে

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় তিনটি স্থানে ধস হয়েছে এবং একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার অংশের ব্লক পিচিং ধসে গেছে। এর পাশাপাশি অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার ধসের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। এই কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে আতঙ্কে থাকতে হয় স্থানীয়দের। কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন জানান, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর তারা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় তারা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। তিনি আশঙ্কা করছেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে তারা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়বেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা নুরজাহান বেগম এবং নুর নাহার বেগম বলেন, ‘প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। এবারও বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’ কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ২-১ দিনের মধ্যে বাঁধটি ঝুঁকিমুক্ত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষার্থী মারুফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৪ এম


এইচএসসি পরীক্ষার্থী মারুফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান

‘সবাই পারলে আমি কেন পারবো না’, এই জেদ থেকেই সমস্ত অপমান-অপবাদ-লাঞ্ছনাকে পাশ কাটিয়ে বৃহস্পতিবার(২জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার টেবিলে বসতে পেরেছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ মো: মারুফ উল্যাহ। কুড়িগ্রামের রাজারহাট ফাজিল মাদরাসার দোতলা ভবনের শেষ প্রান্তে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে সে। শ্রুতি লিখনে তাকে সহযোগিতা করছে তার ভাতিজি ছুম্মা আক্তার। তার এই পথচলাটা মসৃন ছিল না, ছিল কণ্টকময়। চারদিক থেকে বাঁধা, অর্থনৈতিক টানাপোড়ন আর প্রতিকূল পরিবেশ তাকে আটকাতে পারেনি। চোখে না দেখলেও মনের চোখ দিয়ে জ্ঞান আহরণে যেন বদ্ধপরিকর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ।

মারুফ জানায়, চোখে না দেখার কারণে আমাকে বাড়ির পাশের স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। শিক্ষকরা মুখের উপর বলেছেন, একে দিয়ে পড়াশুনা হবে না। চোখে দেখো না গ্রামার শিখে লাভ কি! আমার পড়াশুনাটা সহকর্মীরা যেন মেনে নিচ্ছিল না। শিক্ষকরাও বিরক্ত হতেন। আমি পড়তে গিয়ে অনেক বাজে ট্রলের শিকার হয়েছি। কখনো কখনো এক একটা দিন যেন এক একটা বছর মনে হতো। তারপরও আমি থেমে থাকিনি। আমার কাছে পরীক্ষাটা মূল উদ্দেশ্য ছিল না, মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান অর্জন করা। এভাইে নিজের জীবনের কন্টকময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরলেন পরীক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বুজরুক নূরপুর গ্রামের সন্তান হাফজ মারু্ফ উল্যাহ। সে আলিম পরীক্ষার্থী। পরিবারে দু’ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। বড় ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরী করে। বাবা গোলজার হোসেন মারা গেছেন ২০১৯ সালে। মা শাহজাদি বেগম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে লেখাপড়ার উপর জোর দিয়েছিলেন। মায়ের উৎসাহে ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আজ সে এতদূর আসতে পেরেছে।

মারুফ জানান, “যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আমি দেখলাম। আমার যদি কখনো সুযোগ হয়, একদিনের জন্যও সুযোগ হলে আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উপযুক্ত শিক্ষার জন্য কিছু করতে চাই। পড়াশুনাকালিন সময়ে আমি সহপাঠীদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আমি কিন্তু কোন টাকা নেইনি। যারা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আছেন তারা যেন আমার মত কষ্টের মধ্যে পরতে না হয়। এজন্য তাদের জন্য কিছু করতে চাই।”

মারুফ আরও জানায়, “বাড়ির পাশের স্কুল থেকে আমাকে তাড়িয়ে দেয়ার পর আমি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হই। এফতেদায়ি পরীক্ষার পর ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সমায় ক্লাসে এমন কোন অপমান নাই যা আমাকে করা হয় নাই। শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী সবাই আমাকে পড়াশুনায় বাঁধা দিয়েছে, অপমান করেছে। শিক্ষকরা মুখের উপর বলেছেন, চোখে দেখো না গ্রামার শিখে লাভ কি! এরপর ২০২২ সালে আমি ফরিদপুর আব্দুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হই। সেইটাই ছিল আমার গোল্ডেন টাইম। ওখানে সুপার শাহ আলম হুজুর থেকে ম্যাডাম নাজমুন নাহার এবং টিচাররা আমাকে মোটিভিশন করা ও দিক নির্দেশনা দিতেন। সুপার শাহ আলম স্যার সময় পেলেই আমাকে গ্রামারসহ অন্যান্য সাবজেক্টের পড়া আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিতেন। অথচ আমাকে ভর্তি করার জন্য তাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল। আমি ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক টিচারের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে ক্লাস পরীক্ষায় আমাকে কম নাম্বার দেয়া হয়েছিল। এসব প্রতিকূল পরিবেশ ও চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে আমি পড়াশুনা চালিয়ে গেছি। তবে আমার সুপার গোল্ডেন টাইম ছিল ফরিদপুর থেকে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া। এরপর আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে, আমার এতদূর আশার পিছনে যে জিদটা কাজ করেছিল, তা হলো সবাই পারলে আমি কেন পারবো না। এই জিদ থেকেই আমার এতদূরে আসা। তবে আমার কাছে পরীক্ষাটা মূল উদ্দেশ্য ছিল না, মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান অর্জন করা।” এভাইে নিজের জীবনের কন্টকময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরলেন পরীক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ।

মারুফ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, খারাপ সময় কখনো না কখনো চলে যাবে, তোমাকে কেউ দেখতে পারে না এজন্য পড়াশুনা করে কি হবে এসব চিন্তা করা যাবে না। হয়তো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধীরা ভালো কিছু করেছে বলে আমার জানা নেই। তবে পড়াশুনা করে যদি কিছুই না হয়, চাকরী না হয় তাহলে নিজেকে তো প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। সন্তানদেরকে মানুষ করতে পারবে। সড়কে বা রেললাইনে ভিক্ষাবৃত্তি না করে পরিশ্রমের মাধ্যমে একটা স্টাবলিস্ট জীবন যাপন করতে পারবে। নিজের মতামতটা দিতে পারবে।

মারুফ আরও জানায়, আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, আমার পড়াশুনার জন্য এলাকাবাসীর কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। তবে বলতে কষ্ট হয় আমার কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন ব্যবহার পেয়েছি যে, এক একটা দিন যেন এক একটা বছর মনে হয়েছিল। পরিবার ও প্রতিবেশীরা সাপোর্ট দিয়েছিল বলে আমি কুড়িগ্রাম এসে পড়াশুনা করতে পারছি। তবে একটা মানুষ যদি ভালো কিছু করতে চায় তাকে পজেটিভভাবে নেয়া উচিত। কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার মোফাচ্ছির মাজিদুর রহমান জানান, প্রতিবন্ধকতা সত্বেও মারুফ সুদূর রংপুর থেকে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। ছাত্র হিসেবে সে আমাদের মন জয় করেছে। তার জানার আগ্রহ আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সে একজন হাফেজ। ক্লাসে তার রেসপন্স অনেক ভালো। সে আরও উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াক এই কামনা করছি। এছাড়াও সরকার যদি শিক্ষিত প্রতিবন্ধীদের পাশে দাড়ায় তাহলে অন্যান্যরা অনুপ্রেরণা পাবে।

রাজারহাট ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই বলেন, রাজারহাট ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৩২৯ জন এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১৬জন। আমাদের কেন্দ্রে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষা দিচ্ছে। একজন শ্রুতি লিখনীর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা তাকে দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ, ১জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৭ এম


ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ, ১জন আটক

কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী উপজেলা ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ অভিযানের মাধ্যমে আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করেছে। এ ঘটনায়, সোহাগ মন্ডল (২১) নামের একজন যুবককে আটক করা হয়। আটককৃত যুবক ফুলবাড়ী উপজেলার কবির মাহমুদ গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র। পুলিশ জানায় যে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২জুলাই) রাতে এসআই আলিউল ইসলামের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে একদল পুলিশ ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযান চলাকালে সোহাগ মন্ডলের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয় এবং পরে তাকে আটক করা হয়। তবে মূল হোতা নুর ইসলাম ঘটনার সময় পালিয়ে যায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, জব্দ করা ডিসপ্লেগুলো ভারত থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর পরে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলগুলোতে সেগুলো সরবরাহের জন্য পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ চালানের মূল হোতা বাঁশজানি এলাকার নুর ইসলাম। অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান এবং তাকে গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, আটক ব্যক্তি ঘটনার সাথে জড়িত আছেন এবং যারা এর সাথে যুক্ত, তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিষয়টি নিয়ে কোনো কমপ্রোমাইজ হবে না: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩০ এম


স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিষয়টি নিয়ে কোনো কমপ্রোমাইজ হবে না: জামায়াত আমির

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার নেত্রকোনার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশ্নের জবাবে বললেন, "আমাদের বিজিবি’র পাশাপাশি আমরা সবাই বিজিবি হয়ে আমরা ওখানে খাড়ায়ে যাব ইনশাআল্লাহ। বিজিবি’র হাতে অস্ত্র থাকবে, আমাদের বুকের দেশপ্রেমের অস্ত্র নিয়ে আমরা দাঁড়ায়ে যাব। এবং বহু জায়গায় দাঁড়ায়ে গেছে বলে ওরা পারে নাই কিছু করতে। কিন্তু এটা দুঃখজনক, তারা বলে যে তারা আমাদের বন্ধু দেশ। বন্ধু দেশ কি মানুষকে এরকম মানে বিব্রত করবে? ক্ষতিগ্রস্ত করবে? বন্ধুত্বের পরিচয় এভাবে হয় না। বন্ধুত্বের পরিচয় দেওয়ার জন্য আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। কিন্তু কেউ যদি না দেয়, তাহলে কি আমি গালে হাত দিয়ে বসে থাকব? এ দেশ আমার দেশ, আমাকে আমার দেশ রক্ষা করতে হবে। এর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই। অনেক ব্যাপারে কমপ্রোমাইজ হতে পারে, এই দুইটা ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই।"

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা একটা নোটিশ জমা দিয়েছিলাম সীমান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য। সরকার এখনো নোটিশটা আমাদেরকে আলোচনা করতে দিচ্ছে না। এখন আবার ৭ তারিখ থেকে শুরু হবে, আমরা আবার শুরু করব। আমাদের অন্য সদস্যদেরকে দিয়েই নোটিশ দিয়েছিলাম, এখন হয়তো আমাকে দিয়ে দিতে হবে। যদি আমাকে দিয়ে এই নোটিশ এক্সেপ্ট না হয়, তাহলে আমাকে দাঁড়িয়ে যেতে হবে, কথা বলতে হবে। তো আমি ওইভাবে চাইছিলাম না। আমি চাইছিলাম যে নোটিশটা সুন্দরভাবে আসুক। দেশ তো সবার, প্রবলেমও সবার। আমরা প্রবলেমটা ডিসকাস করি, শেয়ার করি, সমাধান বের করি। সংসদ থেকেও ঐক্যবদ্ধ একটা আওয়াজ উঠলে সারা দুনিয়ায় এটা ছড়ায়ে পড়বে। মেসেজ যাবে বহু জায়গায় যে, এই জাতি ইউনাইটেড। এই ৩৫০ জন না, এখন তো আছে ৩৪৮ জন। এই ৩৪৮ জন মানেই তো ১৮ কোটি বাংলাদেশ, মানুষের বাংলাদেশ। এই আওয়াজটা যাওয়ার দরকার ছিল।"

মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা মিলেমিশেই ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশটাকে গড়ব এবং সব ধরনের অপরাধ প্রবণতা-এখানে মাদকের কথাও এসেছে। মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের একটা বিল এনেছে। আমাদের দাবি-নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক নির্মূল। নিয়ন্ত্রণের মানে হচ্ছে কিছু থাকবে, একটু চেপে রাখা। আমরা ওটা চাই না, আমরা নির্মূলের পক্ষে। আমরা সেই বক্তব্যই ইনশাআল্লাহ সংসদে রাখব। কী হবে সেটা বক্তব্যের পরে দেখা যাবে। কিন্তু আমরা বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে কারো চোখের দিকে, মনের দিকে তাকিয়ে আমরা বক্তব্য রাখব না। আমরা জাতির দিকে তাকিয়েই বক্তব্য রাখব।

তিনি আরো বলেন, এখানে অনেকে বলছেন কিশোররা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি তো দেখি অনেক বুড়ারাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই মাদকের সাথে এখন তো শুধু কিশোর নেই! এটার ব্যাপকতায় এখন আর কোনো বয়স মানে না। বয়সসীমা অতিক্রম করে অন্য জায়গায় চলে গেছে। আর শুধু মাদক সেবন করেই ধ্বংস হচ্ছে না, মাদক লালন করে এর চেয়ে বেশি সমাজকে ধ্বংস করতেছে। মাদকের উৎপাদন, মাদকের সংরক্ষণ, বিপণন এবং সেবন-এই চারটা মিলেই তো মাদক। তো আমরা এই সবগুলোই বন্ধ করতে চাই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একজন সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য চমৎকারই বলেছেন যে-মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা থেকে। উনি জানেন না? এই চালান কীভাবে আসে? এটা কীভাবে বন্ধ করতে হয়? কারা এর সাথে জড়িত? নেত্রকোনার মানুষ আমার চাইতেও ভালো জানেন। আমরা আর দেখতে চাই যে, সংসদের ভেতরে অনেক ব্যাপারে তিনি অনেক ভূমিকা রাখেন। আমরা দেখতে চাই যে তার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাটা তার বাড়ি থেকে শুরু হোক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রেন ও স্টেশনসহ যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩২ এম


ট্রেন ও স্টেশনসহ যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ আজ শুক্রবার নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বলেছেন, “বিগত দিনের সরকারগুলো অনেক ক্ষেত্রে বেশ কিছু অপরিপক্ব প্রকল্প নিয়েছে। এগুলো গিলতেও পারছি না, ফেলতেও পারছি না। এখন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। সে ক্ষেত্রে মূল যে সড়কগুলো সেটির কাজ করছি। রেলের ক্ষেত্রেও মূল যে রেল লাইন, ট্রেন ও স্টেশনসহ যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি।”

এ প্রসঙ্গে হাবিবুর রশীদ আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান জনগণ যেন সহজে সেবা পান। এই সরকারের মাত্র চার মাস হয়েছে। এরই মধ্যে আপনারা দেখছেন এই সরকারের গতি ব্যাপক। এই সরকার হিংসার বসবতি হয়ে কোনো ধরনের কাজ করছে না অর্থাৎ যে কাজ করলে জনগণ ভালো থাকবে, অল্প সময়ে অধিক মানুষ সুফল ভোগ করবে সরকার সে অনুযায়ী কাজ করছে।”

‘নেত্রকোনা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের কিছু কাজ চলমান রয়েছে, আবার কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে রেল পথে যোগাযোগের জন্য ঢাকা-মোহনগঞ্জ রেলপথে আন্তঃনগর ট্রেনের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, বন্ধ হয়ে যাওয়া কম্পিউটার ট্রেনটি চালু, নেত্রকোনার চল্লিশা, হিরনপুরসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি রেল স্টেশন চালু, জরাজীর্ণ স্টেশনগুলো সংস্কারসহ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া জারিয়া থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত নতুন করে রেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কপথ উন্নয়নে নেত্রকোনার রাজুর বাজার থেকে বিরিশিরি সড়কে ঢেউটুকোন এলাকায় কংস নদের উপর সেতু, দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী, কলমাকান্দায় মহাদেও নদে সেতুসহ কিছু সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে’-উল্লেখ করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%