রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৭ পি.এম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আর্থিকভাবে অসচ্ছল ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উত্তরণ’। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান ও হিসাব উপস্থাপন অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।
সংগঠনটির দাবি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার ঘটনা এটি সর্বোচ্চ।
অনুষ্ঠানে বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি গত এক বছরে সংগঠনটির কার্যক্রম এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা।
‘উত্তরণ’ ২০২২ সালে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই সংগঠনটি বৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করে আসছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হল, এফ রহমান হল ও শহীদ আবদুর রব হলের শিক্ষার্থীরা এ খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন। পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থাও করে সংগঠনটি।
এছাড়া, রক্তদান কর্মসূচি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ‘উত্তরণ টিউশন সেবা’সহ বিভিন্ন শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।
উত্তরণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি রিফাত খান শিশির বলেন, "আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করার অংশ হিসেবে বার্ষিক বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত পাঁচ বছরে আমরা প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে সেবা দিয়েছি। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের খাবার বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।"
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান স্বেচ্ছাসেবক, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লামিয়া ইসলাম সাহেবা। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। যখন তার পরিবার উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অভাবের সংসারে আলো জ্বালানোর স্বপ্নে বিভোর ছিল, তখনই তাদের ভাগ্যে নেমে আসে নির্মম বিপর্যয়। সংসারে হানা দিয়েছে একটি জটিল রোগ।
ছয় মাস ধরে তলপেটের ব্যথায় ভুগতে ভুগতে লামিয়া ধীরে ধীরে হাঁটাচলার শক্তি হারাতে শুরু করেছেন। পরীক্ষার সময় ইউটেরাসে পাঁচটি টিউমার ধরা পড়ার পর ডাক্তার জানালেন, সামনে দুটি উপায় রয়েছে— অপারেশন অথবা মৃত্যু। অপারেশন করতে লাগবে দুই লাখ টাকা।
বর্তমান সময়ে টাকার এই পরিমাণটি কম মনে হলেও, লামিয়ার বেকার বাবা জন্য এই অর্থ সংগ্রহ করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া, ‘পাহাড়সম’ এই অর্থের ব্যবস্থা করার জন্য সময়ও খুব কম। ডাক্তার আগামী মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অপারেশনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুই রুমের একটি ছোট ফ্ল্যাটে লামিয়া এবং তার পরিবারের ৬ সদস্য বসবাস করেন। মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এর ফলে, ছোট দুই মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিবারের ছোট ছেলেটিকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না তিনি। তিনবেলা খাবারের জায়গায় খেয়ে-না খেয়ে কোনরকমে চলছে পরিবার। ঘরভাড়াও কয়েক মাসের বাকি রয়েছে।
লামিয়ার অসহায় বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন সবকিছু মিলিয়ে পড়েছেন অকূল পাথারে। অসুস্থ মেয়েকে ভালো-মন্দ খাওয়ানো তো দূরের কথা, ওষুধের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। লজ্জায় এতদিন মানুষের কাছে হাত পাততে পারেননি সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্ত অংশের এই ব্যক্তি। কিন্তু, মেয়ের জীবন বাঁচাতে এখন তিনি সমাজের সামর্থ্যবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
লামিয়ার বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “মেয়ের চিকিৎসার জন্য যৎসামান্য জমি যেটুকু ছিল, সেটাও বেচে দিয়েছি। আত্মীয়-স্বজনের কাছেও দেনা হয়ে গেছে অনেক। চাকরি হারিয়ে পরিবারের তিনবেলা খাবারও জোগাড় করতে পারছি না এখন। আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে তো খুব বেশি টাকা লাগে না। এই সমাজে কত কত বিত্তবান মানুষ আছেন। তারা যদি একটু মুখ তুলে তাকান, আমার মেয়েটা বাঁচতে পারে।”
লামিয়ার বাবা মো. ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় ও বিকাশ নম্বর: 01911490413 / 01994060281
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানে লামার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের গহিন জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ব্যক্তির লাশ। তাকে পিটিয়ে এবং পরনের লুঙ্গি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. সগীর (৪৫)। তিনি লামা উপজেলার পূর্ব শিলেরতুয়া এলাকার ছামাইঝিরির বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ছেলে। মো. সগীর পেশায় ছিলেন দিনমজুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রূপসীপাড়া বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে হাতিরঝিরি এলাকায় একটি জুমখেতের পাশের গহিন জঙ্গলে লাশটি পড়ে ছিল। সকালে একজন ম্রো জুমচাষি তার সঙ্গে থাকা কুকুরের মাধ্যমে লাশটির সন্ধান পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, মো. সগীরকে সর্বশেষ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রূপসীপাড়া বাজারে দেখেছেন। তার শরীরে মারধরের আঘাত রয়েছে। তাকে পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ জানান, ওই দিনমজুরকে কেন বা কারা হত্যা করেছে, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তানিশা ও রায়হান নামে ৮ বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের। নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এ দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চসীমউদ্দীন গ্রামে।
নিহত তানিশা ও রায়হান কুয়েতপ্রবাসী শরীফ মিয়ার সন্তান। তাদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর ডেমরা এলাকায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমজ ভাই-বোন কয়েক দিন আগে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। রোববার দুপুরে তারা বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে খেলতে যায়। একপর্যায়ে একজন পানিতে পড়ে যায় এবং তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের নানা কাশেম মিয়া বলেন, "দুপুরে সবার অজান্তে বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে প্রথমে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।"
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোন পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানকে এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা আসে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়বিষয়ক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত জানান।
সভায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নির্দেশ দেন, সোমবারের মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম কিংবা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।” জনগণ যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তপথে মাদক চোরাচালান বন্ধে টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টিও সভায় উঠে আসে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে সভায় মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ