রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৯ পি.এম
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তানিশা ও রায়হান নামে ৮ বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের। নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এ দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চসীমউদ্দীন গ্রামে।
নিহত তানিশা ও রায়হান কুয়েতপ্রবাসী শরীফ মিয়ার সন্তান। তাদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর ডেমরা এলাকায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমজ ভাই-বোন কয়েক দিন আগে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। রোববার দুপুরে তারা বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে খেলতে যায়। একপর্যায়ে একজন পানিতে পড়ে যায় এবং তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের নানা কাশেম মিয়া বলেন, "দুপুরে সবার অজান্তে বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে প্রথমে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।"
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোন পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানকে এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা আসে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়বিষয়ক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত জানান।
সভায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নির্দেশ দেন, সোমবারের মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম কিংবা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।” জনগণ যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তপথে মাদক চোরাচালান বন্ধে টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টিও সভায় উঠে আসে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে সভায় মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের গুয়াহাটির একটি হোমস্টের কক্ষে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নিমিশা ঠাকুরিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ২৬ বছর বয়সী প্রেমিক আসিফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই ঘটনা ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার আসিফ আলী দাবি করেছেন যে, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ তার বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনার দেওরি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পুলিশ সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের আশপাশে বা মেঝেতে কোনো রক্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এ ঘটনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। নিহতের পরিবারের এক বন্ধুর দাবি, ওই তরুণী তার মাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে, তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটাবেন। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ করে মাকে ফোন করে বলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এরপর সম্ভবত ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো খতিয়ে দেখা বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে, হোমস্টের তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, রাতে এক ব্যক্তির চিৎকার শুনেছিলেন। ওই ব্যক্তি কাউকে উঠতে বলছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি একটি পুরুষ কণ্ঠে ‘দাদা ওঠো, ওঠো’ বলে চিৎকার শুনতে পান।
নিহত তরুণীটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং যুবকটি মুসলিম। এ ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ঘটনাটিকে কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন। ‘লাভ জিহাদ’ মূলত হিন্দুত্ববাদী কিছু গোষ্ঠীর প্রচারিত একটি ষড়যন্ত্র, যেখানে দাবি করা হয়, মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।
বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হয়।
সুত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, সততা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে বিভাগীয় স্তরে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ দেশের সব বিভাগে পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের জন্য ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য প্রিন্সিপালস অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস অব প্রসিকিউটোরিয়াল এথিক্স ফর দ্য অ্যাটর্নি জেনারেলস অফিস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
এই ধারাবাহিকতায়, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) বাংলাদেশ অফিসের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহীয়ান এবং ইউএনডিপির রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়াইগার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সারাদেশের আইনজীবীদের এই ধরনের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে বিভাগীয় স্তরে নৈতিকতা বিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষণ আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা হয়।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা ও স্বাধীনতা জোরদার করা, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করা।
প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রতিটি বিভাগভুক্ত জেলা বার ও চৌকি বারের আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সম্পূর্ণভাবে ভুলে যেতে কতটা সময় প্রয়োজন? এক মাস, দুমাস নাকি তারও বেশি সময় লাগবে? সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এক্সকে ভুলতে আপনার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।
গবেষণাটি জানাচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর প্রতি আবেগ পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে গড়ে প্রায় আট বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই সময় কম বা বেশি হতে পারে।
স্যোশাল সাইকোলজিক্যাল এন্ড পার্সোনালিটি সাইন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এতে ৩০০ জনেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণ করেন, যাদের অন্তত দুই বছর স্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কয়েক বছর আগে শেষ হয়েছিল।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিচ্ছেদের পর গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। তবুও, তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, সাবেক সঙ্গীর প্রতি কিছুটা আবেগ তখনও রয়ে গেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একজন সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রতি আবেগ অর্ধেক কমে আসতে গড়ে ৪ দশমিক ১৮ বছর সময় লাগে। পুরোপুরি আবেগগতভাবে বিচ্ছিন্ন হতে আরও বেশি সময় প্রয়োজন—গড়ে প্রায় আট বছর।
তবে সবার জন্য এই সময় এক রকম নয়। কিছু মানুষ কয়েক বছর পরও সাবেক সঙ্গীর প্রতি এমন আবেগ অনুভব করেন, যা একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের প্রতি অনুভূতির চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচ্ছেদের পর সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা আবেগ কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। অন্যদিকে, নতুন সম্পর্কে জড়ানো মানেই যে পুরোনো সম্পর্ক দ্রুত ভুলে যাওয়া যাবে—এমন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
যাদের মধ্যে উদ্বেগপ্রবণতার প্রবণতা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে সাবেক সঙ্গীকে ভুলে যেতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লেগেছে। আর যেসব সাবেক দম্পতির সন্তান রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শুরুতে আবেগের বন্ধন বেশি শক্তিশালী হলেও দীর্ঘমেয়াদে সেই আবেগ তুলনামূলক দ্রুত কমে আসতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ