ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করলে দিনে কতক্ষণ হাঁটবেন?


৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করলে দিনে কতক্ষণ হাঁটবেন?

সকাল থেকে অফিসে বসে কাজ করা শুরু হয়। একবার চেয়ারে বসার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই অনুভব করেন না। কাজের চাপের মধ্যে দুপুরের খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া চেয়ার ছাড়ার সুযোগও থাকে না। এইভাবে প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা এখন অনেকের জীবনের একটি নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়। দিনের শেষে কিছুক্ষণ হাঁটলেই সব ঝুঁকি দূর হয়ে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও কমাতে হবে।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কেন ঝুঁকি বাড়ে

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় শরীরের নড়াচড়া কম থাকলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা কয়েক ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকলে শরীরের বড় পেশিগুলোর কার্যক্রম কমে যায়। একই সঙ্গে শরীরের শক্তি ব্যয়ও কম হয়। প্রতিদিন এমন জীবনযাপন করলে ওজন বাড়া এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাহলে শুধু দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে ব্যায়াম করলেই হবে না। দিনের বড় সময়টা কীভাবে কাটছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

দিনে ঠিক কতক্ষণ হাঁটবেন

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিয়মিত হাঁটা শরীর ও মনের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে।

তবে প্রতিদিন ঠিক ৮ হাজার বা ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। মানুষের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যক্রমের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

অর্থাৎ দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা উপকারী হলেও শুধু ওই সময়টুকুর ওপর নির্ভর করে সারাদিনের দীর্ঘ বসে থাকার অভ্যাসকে নিরাপদ ভাবা ঠিক নয়।

প্রতি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টায় উঠুন।

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করতে হলে একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে চেয়ার ছেড়ে ওঠার অভ্যাস করা ভালো।

সম্ভব হলে প্রতি ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি বা শরীর নড়াচড়া করা যেতে পারে। অল্প সময় দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়ামও শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও এমন ছোট বিরতি নেওয়া সম্ভব। এর জন্য আলাদা করে অনেক সময় বের করার প্রয়োজন নেই।

অফিসেই বাড়াতে পারেন হাঁটাহাঁটি

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে সবসময় আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করতে হবে—এমন নয়। অফিসের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন আনা যায়।

যেমন—

১. সম্ভব হলে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন

২. দূরভাষে কথা বলার সময় হাঁটুন

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি

৩. ছোটখাটো অফিসের কাজে নিজে উঠে যান

৪. দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন

৫. কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন

৬. সুযোগ পেলে হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়াম করুন

আরও পড়ুন: খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজ মেশানোর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

এসব ছোট অভ্যাস দিনের মোট নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু দিনের শেষে হাঁটলেই হবে না

ব্যস্ত কর্মজীবনে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা মানুষের জন্য আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটলেই দায়িত্ব শেষ নয়।

সারাদিনে যতটা সম্ভব বসে থাকার সময় কমাতে হবে। কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো, কয়েক মিনিট হাঁটা কিংবা শরীর নড়াচড়া করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

অর্থাৎ সুস্থ থাকার জন্য নির্দিষ্ট কোনো হাঁটার সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শেষে হাঁটার পাশাপাশি পুরো দিনজুড়েই শরীরকে যতটা সম্ভব সচল রাখুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ

একটি চিঠি কেবল কাগজে লেখা কিছু শব্দ নয়; সময়ের সাথে সাথে এটি হয়ে উঠতে পারে শৈশবের স্মৃতি, অনুপ্রেরণার কাহিনী কিংবা স্বীকৃতির একটি দলিল। দুই দশকেরও বেশি আগে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া এক শিশুর কাছে পৌঁছেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরিত এমন একটি চিঠি।

২০০৪ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ ছিল—‘তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’ এর সাথে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে দুটি বইও পাঠানো হয়েছিল।

সময়ের প্রবাহে সেই শিশু এখন বড় হয়ে গেছেন, জীবনের অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে, তবে শৈশবে পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সেই চিঠিটি আজও সযত্নে আগলে রেখেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।

চিঠির শেষে স্বাক্ষরের আগে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন যে বাক্যে তা ছিল—‘তোমাদের আপনজন।’ ২২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ চিঠিটি পোস্ট করে লিখেছেন— ‘সেই থেকে বেগম জিয়া হয়ে উঠলেন একান্ত কাছের একজন।’

প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের উৎসাহিত করা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই সময়ের উদ্যোগগুলোর একটি ব্যক্তিগত স্মারক হয়ে আছে ছাইফুল্লাহর কাছে থাকা বেগম জিয়ার সেই চিঠি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে একটি শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়া ওই বার্তায় কেবল একটি বৃত্তির সাফল্যকে অভিনন্দন জানানো হয়নি; বরং তাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

চিঠিটি শুরু হয় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে। এরপর লেখা হয়—

‘প্রিয় মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্,

আমার স্নেহ ও শুভেচ্ছা নিও। আমি জেনে খুশি হয়েছি ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় তুমি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছো। তোমার সাফল্যে পরিবারের অন্যান্য প্রিয়জনের মতো আমিও খুশি হয়েছি। তাই আমি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে তোমাকে দুটি বই উপহার হিসেবে পাঠালাম। আশা করি, এ উপহার তোমাকে বই পড়ায় আরো উৎসাহিত এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। আমি আশা করি, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে তুমি আরো মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করবে। আমি তোমার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করি।’ তোমাদের আপনজন, এরপর (স্বাক্ষর) দেওয়া হয়।

বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ চিঠিটি পোস্ট করে আরও লিখেছেন, ‘২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার এই অসাধারণ কাজটি করেছিল। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেত তাদের বইয়ের সাথে এই চিঠিটি পাঠাতো। এটি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি।

কি যে অনুপ্রেরণাদায়ী ছিল উদ্যোগটি। আমার কিশোর মনে সেই যে নাড়া দিয়েছিলেন বেগম জিয়া আর কখনও পর হননি, আপন মানুষ হয়েই থেকে গেলেন; এমনকি তার মৃত্যুর পরও। আশা করি, এই বিএনপি সরকার একই কাজটি পুনরায় করবে।

প্রসঙ্গক্রমে এই প্রতিবেদক মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ’ থেকে ২০০৩ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় আমি জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করি।

তিনি জানান, আমাদের ব্যাচে ১০ জন ট্যালেন্টপুল ও ৮ জন সাধারণ গ্রেড মিলে মোট ১৮ জন বৃত্তি পায়। তখন জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা মানে বিশেষ কিছু। যারা বৃত্তি লাভ করে তাদের নিয়ে চারিদিকে প্রশংসার বন্যা বয়ে যেত।

পত্রিকার পাতায় বেরুত ছবি সংবলিত খবর। কারণ, নকলমুক্ত পরিবেশে অত্যন্ত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তখন সেই পরীক্ষা হত।

প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিঠি পাওয়ার স্মৃতিচারণ করে ছাইফুল্লাহ বলেন, ‘জুনিয়র বৃত্তির রেজাল্ট হয়েছে কিছুদিন আগে। একদিন ক্লাস চলাকালে হেডস্যার (প্রয়াত নুরুল কবির) ক্লাসে উপস্থিত হন। তার চোখেমুখে আনন্দের রেশ।

গমগমে কণ্ঠে তিনি বললেন-এ বছর যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছ তারা সবাই অফিসে চলে এসো, তোমাদের জন্য একটি বিশেষ সারপ্রাইজড আছে। আমরা হেডস্যারের পিছু পিছু গেলাম।

স্যারের টেবিলে খুব সুন্দর কিছু প্যাকেট সাজিয়ে রাখা ছিল। হেডস্যার আমাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বললেন- ‘প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তোমাদের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। খুব মূল্যবান উপহার। বই আর চিঠি।’

‘আমরা আনন্দে শিক্ষকদের কদমবুছি করলাম। পরে স্যাররা আমাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্যাকেট তুলে দিলেন। সেই প্যাকেট বাসায় নিয়ে খোলার ধৈর্য আমাদের নেই।

ক্লাসে গিয়ে খুলে দেখি। নিচে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর। কী সুন্দর টানা টানা সেই লেখা! সেদিন আমার কিশোর মনে বেগম জিয়া নামে একজন মানুষ যে জায়গা করে নিয়েছিলেন সেটি আর কখনও নড়চড় হয়নি। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


আজ ১৯ সেপ্টেম্বর জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস উদযাপন

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে একটি মজার দিবস—জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস (টক লাইক এ পাইরেট ডে অথবা Talk Like a Pirate Day)। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে আজ সাধারণ কথাবার্তায় জলদস্যুদের মতো শব্দ এবং ভঙ্গি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।

আজ যদি কেউ বাইরে বেরিয়ে বলে, "আহয় সঙ্গী, সাবধান, জ্বি ক্যাপ্টেন, ওই যে স্থলভূমি" কিংবা জলদস্যুদের মতো অন্য কোনো মজার কথা বলে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এই দিনটি মূলত হাসি-আনন্দের মাধ্যমে জলদস্যুদের প্রচলিত কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার একটি সুযোগ।

কীভাবে পালন করবেন এই দিবস

আজকের দিনে চাইলে নিজের কথাবার্তায় জলদস্যুদের ঢং যোগ করা সম্ভব। যেমন, কফি কিনতে গিয়ে মজা করে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে—"সোনার মুদ্রা ভাঙিয়ে দিতে পারবেন?"

বইয়ের দোকান বা পাঠাগারে গিয়ে বিখ্যাত বই ‘মবি ডিক’-এর অবস্থান জানতে চাইলে জলদস্যুদের মতো কথা বলার চেষ্টা করা যেতে পারে।

আবার কোনো বিষয়ে তর্ক হলে মজা করে বলা যেতে পারে, "আমি ঠিক, নইলে জাহাজের পাটাতন থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেব!"

অফিসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নতুন কাজের নির্দেশ পেলে জলদস্যুদের মতো ভঙ্গিতে "জ্বি ক্যাপ্টেন" বলেও মজা করা সম্ভব। তবে এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে চাকরি নিয়ে বিপদে পড়তে হয়।

শুধু কথা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, জলদস্যুদের মতো হাঁটার ভঙ্গিও অনুকরণ করা যেতে পারে। একটু খুঁড়িয়ে হাঁটা, চোখ কুঁচকে তাকানো কিংবা শরীর দুলিয়ে হাঁটার মতো ভঙ্গি দিয়ে নিজের জলদস্যু চরিত্রটিকে আরও মজার করে তোলা সম্ভব।

নিজের জলদস্যুর নামও বানাতে পারেন

এই দিবস উপলক্ষে নিজের জন্য একটি মজার জলদস্যুর নাম তৈরি করা যেতে পারে।

এর জন্য প্রথমে একটি রং বেছে নিতে হবে। এরপর একটি প্রাণীর নাম এবং একটি পেশার নাম নিতে হবে। তিনটি শব্দ একসঙ্গে জুড়ে দিলেই তৈরি হবে আপনার জলদস্যুর নাম।

যেমন—নীল + ঝিনুক + নৃত্যশিল্পী = নীল ঝিনুক নৃত্যশিল্পী।

বন্ধুদের সঙ্গে এমন নাম তৈরি করে দিনটি আরও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করা সম্ভব।

দিবসটির শুরু যেভাবে

জলদস্যুর মতো কথা বলার এই আন্তর্জাতিক দিবসের যাত্রা শুরু করেন জন বাওর ও মার্ক সামার্স। ১৯৯৫ সালে তারা এই দিবসটি চালু করেন। পরে এটি একটি মজার আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য গুরুতর কিছু নয়। বরং পরিচিত কথাবার্তার ধরন থেকে বেরিয়ে একদিন জলদস্যুদের মতো মজার ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করে আনন্দ করা।

১৯ সেপ্টেম্বরের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা

১৯ সেপ্টেম্বর শুধু জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস নয়, ইতিহাসেও দিনটির রয়েছে নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

১৭৮৩ সালে জোসেফ-মিশেল ও জাক-এতিয়েন মনগলফিয়েরের তৈরি বেলুনের ঝুড়িতে প্রথমবার জীবন্ত প্রাণী আকাশে ওঠে। একটি ভেড়া, একটি হাঁস এবং একটি মোরগকে নিয়ে এই উড্ডয়ন সফল হয়। প্রায় তিন মিনিট পর প্রাণীগুলো নিরাপদে মাটিতে ফিরে আসে।

১৮৭৬ সালে মেলভিল বিসেল কার্পেট পরিষ্কার করার যন্ত্রের জন্য স্বত্ব পান। পরে তিনি ও তাঁর স্ত্রী আনা সেটি বিক্রি শুরু করেন।

১৮৯৩ সালে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নারীদের ভোটাধিকার দেয়।

১৯৮২ সালে স্কট ফালম্যান ইন্টারনেটে প্রথম নথিভুক্ত মুখভঙ্গির সংকেত ব্যবহার করেন। হাসিমুখ ও বিষণ্ন মুখ বোঝাতে ব্যবহৃত দুটি সংকেত পরবর্তীতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

১৯৯০ সালে মার্টিন স্করসেসির পরিচালনায় ‘গুডফেলাস’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এতে অভিনয় করেন রবার্ট ডি নিরো, রে লিওটা এবং জো পেশি।

১৯ সেপ্টেম্বর যাদের জন্মদিন

এই দিনে জন্ম নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জর্জ ক্যাডবেরি, উইলিয়াম লিভার, লাভি অস্টিন, এলিজাবেথ স্টার্ন, মামা ক্যাস এলিয়ট এবং জিমি ফ্যালন।

জর্জ ক্যাডবেরি ও তার ভাই রবার্ট পারিবারিক চকলেট ব্যবসাকে বড় পরিসরে নিয়ে যান। উইলিয়াম লিভার তার ভাই জেমসকে সঙ্গে নিয়ে সাবান তৈরির ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন।

সঙ্গীতশিল্পী লাভি অস্টিন বিশ শতকের শুরুর দিকে শিকাগোর জ্যাজ সংগীতের জগতে পরিচিতি পান। এদিকে চিকিৎসাবিদ এলিজাবেথ স্টার্ন জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

মামা ক্যাস এলিয়ট ‘দ্য মামাস অ্যান্ড দ্য পাপাস’ দলের সদস্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও সফল হন। আর জিমি ফ্যালন কৌতুকশিল্পী ও উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত।

তবে আজকের দিনটির সবচেয়ে মজার বিষয় হলো—এক দিনের জন্য চাইলেই আপনিও নিজের কথাবার্তায় জলদস্যুদের ঢং আনতে পারেন। তাই আজ বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্নভাবে কথা বলে হাসি-আনন্দে কাটাতে পারেন দিনটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ে চান একজন, ক্যারিয়ার অন্যজন—সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


বিয়ে চান একজন, ক্যারিয়ার অন্যজন—সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?

একজন দ্রুত বিয়ে করে সংসার শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করেন। অপরজন কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। যদিও দু’জনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিবার থেকে বিয়ের চাপ আসতে পারে। তখন একজন হয়তো বিয়ে ও সন্তান নিয়ে সংসার করতে চাইছেন, অন্যজন বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নিজেকে এখনও প্রস্তুত মনে করছেন না। কেউ কর্মজীবনে উন্নতি, আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা দেশ-বিদেশ ঘোরার স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।

এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—দু’জনের জীবনের লক্ষ্য আলাদা হলে সম্পর্ক কি টিকিয়ে রাখা সম্ভব?

চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্য অস্বাভাবিক নয়

জীবনের এক পর্যায়ে এসে দু’জন মানুষের চাওয়া-পাওয়া আলাদা হয়ে যেতেই পারে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কারণ বয়স, অভিজ্ঞতা, পারিবারিক চাপ, আর্থিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত স্বপ্নের কারণে মানুষের অগ্রাধিকার বদলে যায়।

তবে একসঙ্গে থাকতে হলে এই পার্থক্যগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দু’জনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে জানা দরকার।

বিয়ে শুধু ভালোবাসার বিষয় নয়, এর সঙ্গে দায়িত্ব, আর্থিক পরিকল্পনা, পরিবার ও ভবিষ্যৎ জীবনের নানা সিদ্ধান্ত জড়িয়ে থাকে। তাই বিয়ের আগে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।

বিয়ের আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন

বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঙ্গীর সঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। যেমন—

এসব বিষয়ে আগে থেকেই আলোচনা থাকলে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মতপার্থক্য থাকলেই সম্পর্ক ভাঙে না

দু’জনের জীবনের লক্ষ্য আলাদা হলেই যে সম্পর্ক ভেঙে যাবে, এমন নয়। একটি সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই মতপার্থক্য কীভাবে সামলানো হচ্ছে।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে প্রয়োজন যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা। আপনি জীবনে কী চান এবং সঙ্গীর কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করেন, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। একইভাবে সঙ্গীর কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।

শুধু নিজের ইচ্ছার কথা বললেই হবে না। সঙ্গী কেন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন বা কেন প্রস্তুত নন, সেটিও বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

নিজের সিদ্ধান্ত সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দেবেন না

সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় যখন একজন নিজের সিদ্ধান্ত অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দিতে চান।

কেউ যদি এখনই বিয়ে করতে চান, তাহলে শুধু সেই ইচ্ছার কারণে সঙ্গীকে চাপ দেওয়া ঠিক নয়। আবার কেউ যদি কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সময় চান, তাহলে তাঁর ইচ্ছাকেও অবহেলা করা উচিত নয়।

বরং দু’জনের অবস্থান, ভয়, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শান্তভাবে আলোচনা করা দরকার। সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত, যাতে দু’জনের মতামতই গুরুত্ব পায়।

কখনও অপেক্ষা, কখনও আপস

জীবনের লক্ষ্য আলাদা হলেও অনেক সময় একসঙ্গে পথ চলা সম্ভব। তবে এর জন্য দু’জনকেই কিছুটা সময় দিতে হতে পারে। কোনো ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হতে পারে, আবার কোনো ক্ষেত্রে আপসও করতে হতে পারে।

তবে আপস মানে নিজের সব ইচ্ছা বিসর্জন দেওয়া নয়। বরং দু’জনের প্রয়োজন ও স্বপ্নের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে নেওয়া।

যদি একজনের জন্য বিয়ে জরুরি হয়ে ওঠে এবং অন্যজনের জন্য আরও কয়েক বছর সময় প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই সময়ের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে চলবে, তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে বিয়ের বিষয়ে দু’জনের অবস্থান বদলাতে পারে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার।

ভালোবাসার সঙ্গে বোঝাপড়াও জরুরি

শুধু ভালোবাসা থাকলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায় না। ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধও প্রয়োজন।

দু’জনের লক্ষ্য আলাদা হলেও যদি একে অন্যের কথা শোনা, সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার মানসিকতা থাকে, তাহলে কঠিন পরিস্থিতিও সামলানো সম্ভব।

তবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দু’জনকে একসঙ্গে। কারও ইচ্ছাকে ছোট না করে, চাপ না দিয়ে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুজরাটের নাকি পদ্মার ইলিশ চিনবেন ৪ উপায়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


গুজরাটের নাকি পদ্মার ইলিশ চিনবেন ৪ উপায়ে

বাজারে বর্তমানে রুপালি ইলিশের প্রচুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সব ইলিশই পদ্মার নয়। ভারত অথবা মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশও অনেক সময় পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। দেখতে অনেকটা একই রকম হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই বুঝতে পারছেন না কোনটি আসল পদ্মার ইলিশ এবং কোনটি অন্য এলাকার।

অভিযোগ রয়েছে, কম দামে কেনা এসব ইলিশ অনেক সময় উচ্চমূল্যে পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি করা হয়। এর ফলে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই প্রতারিত হচ্ছেন।

তবে কিছুটা খেয়াল করলে বাহ্যিক গঠন, চোখ, গায়ের রং এবং স্বাদ-ঘ্রাণের মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যা পদ্মার ইলিশ চেনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এখানে চারটি সহজ উপায় উল্লেখ করা হলো।

১. মাছের গঠন ও আকৃতি দেখুন

পদ্মার ইলিশ সাধারণত তুলনামূলকভাবে খাটো হয়ে থাকে। তবে এর মাঝের অংশ বেশ গোলগাল, চওড়া এবং ভরাট থাকে। পিঠের অংশ কিছুটা উঁচু এবং লেজের দিকও তুলনামূলক পুরু হয়।

অন্যদিকে গুজরাটের ভারুচ বা পশ্চিম উপকূল থেকে আসা ইলিশ সাধারণত লম্বাটে এবং সরু প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের পেট বা মাঝের অংশ নদীর ইলিশের মতো অতটা ভরাট দেখায় না।

সুতরাং বাজারে ইলিশ কেনার সময় প্রথমেই মাছটির শরীরের গঠন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

২. চোখের দিকে তাকান

ইলিশ চেনার আরেকটি উপায় হলো মাছের চোখের দিকে নজর দেওয়া।

টাটকা পদ্মার ইলিশের চোখ সাধারণত পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখায়। অন্যদিকে গুজরাট থেকে আসা ইলিশ দীর্ঘ সময় বরফে থাকার কারণে চোখের চারপাশ কিছুটা কালচে লাল বা রক্তবর্ণ হয়ে যেতে পারে।

তাহলে মাছ কেনার আগে শুধু শরীরের রং নয়, চোখের অবস্থাও দেখে নেওয়া জরুরি।

৩. গায়ের রং ও আঁশের উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করুন।

দুই ধরনের ইলিশের গায়ের রংই রুপালি হলেও উজ্জ্বলতায় পার্থক্য রয়েছে।

পদ্মার ইলিশের আঁশ সাধারণত বেশ চকচকে রুপালি হয়ে থাকে। আলো পড়লে পিঠের দিকে হালকা সোনালি বা বেগুনি আভার ঝিলিক দেখা যায়। শরীরের মাঝ বরাবর একটি হালকা লালচে রেখাও স্পষ্ট থাকে।

অন্যদিকে গুজরাটের ইলিশের গায়ে রুপালি ভাব থাকলেও পিঠের অংশ তুলনামূলক কালচে বা ধূসর দেখায়। নদীর তাজা ইলিশের মতো রুপালি-সোনালি উজ্জ্বলতা এতে সবসময় দেখা যায় না।

৪. স্বাদ ও ঘ্রাণেও রয়েছে পার্থক্য

পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর স্বাদ ও ঘ্রাণ। নদীর মিষ্টি পানিতে বেড়ে ওঠার কারণে এই মাছের শরীরে প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে রান্নার পর মাছ নরম ও তুলতুলে হয়ে যায় এবং খাবারে আলাদা স্বাদ পাওয়া যায়।

রান্নার সময় পদ্মার ইলিশের বিশেষ ঘ্রাণও ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে সামুদ্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা গুজরাটের ইলিশ তুলনামূলকভাবে শক্ত হতে পারে। স্বাদও কিছুটা পানসে লাগতে পারে। রান্নার সময় পদ্মার ইলিশের মতো তীব্র ও পরিচিত ঘ্রাণও পাওয়া যায় না।

বাজারে ইলিশ কিনতে সতর্ক থাকুন

বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় বিভিন্ন এলাকার মাছ একই নামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। দেখতে কাছাকাছি হওয়ায় শুধুমাত্র বিক্রেতার কথায় নির্ভর না করে মাছটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

মাছ কেনার সময় শরীরের গঠন, চোখ, আঁশের উজ্জ্বলতা এবং গায়ের রং—এই চারটি বিষয় খেয়াল করলে পদ্মার ইলিশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হবে। রান্নার পর স্বাদ ও ঘ্রাণেও পার্থক্য বোঝা সম্ভব।

সুতরাং চড়া দাম দিয়ে ইলিশ কেনার আগে মাছটি আসলে কোন এলাকার, তা যতটা সম্ভব যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%