শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ পি.এম
বিশ্বকাপ ফুটবলের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। উয়েফা ও কনকাকাফ ফিফার কাছে ২১১ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।
বিবিসি স্পোর্টসের কাছে আসা উয়েফা ও কনকাকাফের যৌথ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৭-২০৩০ চক্রে ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থার প্রত্যেককে অন্তত ১ কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) ১ কোটি ডলার পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকা।
এই অর্থ ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হবে। যৌথ চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানির স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে ফিফার বর্তমান আর্থিক অবস্থার একটি বিশ্লেষণও উপস্থাপন করা হয়েছে। উয়েফা ও কনকাকাফের দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফিফার তহবিলে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জমা হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।
তাদের মতে, ২০৩০ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপ পর্যন্ত হিসাব করলেও সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া ফিফার পক্ষে সম্ভব।
এর আগে ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ফিফা শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে ইনফান্তিনো ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
তবে বিতর্ক থামেনি। ফিফার কয়েকটি সদস্য সংস্থা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে এবং কেউ কেউ তাঁর পদত্যাগের দাবিও করেছেন। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির পক্ষ থেকেও যৌথভাবে বলা হয়েছে যে, ফুটবল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
আগামী মার্চে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে লড়বেন। ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ফিফার নেতৃত্বে রয়েছেন। নির্বাচন সামনে রেখে ২১১ সদস্য সংস্থার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের এই দাবি তাঁর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ আটটি অঞ্চলে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির কারণে সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এসব অঞ্চলকে বিপদমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, জেদ্দা, ইয়ানবু, তাইফ, আল-উলা, খামিস মুশায়ত, ফারাসান, রিয়াদ ও আল-খারজে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কতার সময়, এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়। জনসমাগম এড়াতে এবং কোনো ধরনের ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে, কী ধরনের সম্ভাব্য হুমকির কারণে এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেনি।
পরবর্তী সময়ে, একটি পৃথক ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে রিয়াদ ও আল-খারজকে বিপদমুক্ত ঘোষণা করার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে জেদ্দা, তাইফ, ইয়ানবু, আল-উলা ও খামিস মুশায়তেও সতর্কতা প্রত্যাহার করে বিপদমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এসব ঘোষণায়ও সতর্কতা জারির কারণ বা সম্ভাব্য হুমকির ধরন স্পষ্ট করা হয়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের জরুরি সতর্কতা একাধিকবার জারি হয়েছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর তাইফে একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হন বলে জানিয়েছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য দুই বছরের রিসার্চ পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এই ফেলোশিপের মাধ্যমে টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, জীবনযাপন এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন খরচের সহায়তা পাবেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত যেকোনো বর্ষের শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
গবেষণা প্রস্তাবের মান, সম্ভাব্য প্রভাব ও সুপারিশপত্র আবেদন মূল্যায়নে গুরুত্ব পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুটি সুপারিশপত্র জমা না দিলে আবেদন মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হবে না।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন -
> দুই বছরের পূর্ণ টিউশন ফি ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক ফি।
> বছরে ৪২ হাজার মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড।
> জীবনযাপন ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের খরচ।
> মেটার বার্ষিক ফেলোশিপ সামিটে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
> মেটার গবেষকদের সঙ্গে কাজ ও যোগাযোগের সুযোগ।
মেটা জানায়, ফেলোশিপের আওতায় দুই বছরের জন্য টিউশন, স্টাইপেন্ড ও গবেষণাসংক্রান্ত সুবিধা প্রদান করা হবে।
আবেদনের যোগ্যতা
> স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত হতে হবে।
> যেকোনো জাতীয়তার শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন।
> এক বা একাধিক চলমান গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত থাকতে হবে।
> ফেসবুক থেকে ইতোমধ্যে অন্য কোনো অনুদান পেলে এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করা যাবে না।
সময়সূচি
আবেদন শুরু: ৩ আগস্ট ২০২৬
আবেদন শেষ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুপারিশপত্র জমার শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬
আবেদন মূল্যায়ন শুরু: ১১ অক্টোবর ২০২৬
ফল প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৭
বিজয়ীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: ৩১ জানুয়ারি ২০২৭- এর মধ্যে
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় নিজেদের গবেষণার সঙ্গে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেত্র নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে, যার একটি গবেষণা-তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে হতে হবে।
আবেদন করতে এবং নির্দেশাবশি জানতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত জেলায় পুলিশ সদর দফতরে আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জঙ্গি হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ফলে অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলায় জড়িত অবশিষ্ট সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কোহাত পুলিশ লাইন্সের কাছে একটি মসজিদের পাশে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের পর একাধিক সশস্ত্র হামলাকারী পুলিশ কমপ্লেক্সে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে মসজিদে উপস্থিত মুসল্লি ও পুলিশ সদস্যরা হতাহত হন। হামলায় পুলিশ সদর দফতরের প্রধান প্রাচীর এবং কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল এবং নিকটবর্তী সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর জঙ্গি হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোহাতের এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানের সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার জন্য কোনো জামানত প্রয়োজন হয় না। এই ঋণের সুদহারও তুলনামূলকভাবে কম।
বিসিকের এই ঋণ পেতে উদ্যোক্তাদের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের ৬৪টি জেলায় অবস্থিত বিসিক কার্যালয়গুলোতে আবেদন করে যেকোনো সময় সরাসরি এই ঋণ নেওয়া সম্ভব।
বিসিকের যত ঋণ কর্মসূচি
বর্তমানে বিসিকের তিন ধরনের ঋণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রথমত, প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ কর্মসূচি। করোনার পর ২০২০–২১ অর্থবছর থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিলে রূপান্তরিত হয়। গত জুন মাস পর্যন্ত এই তহবিলের পরিমাণ ২৭০ কোটি টাকা হয়েছে। এই তহবিল থেকে ৯ হাজার ২৯১ জন ঋণ পেয়েছেন।
উদ্যোক্তাদের জন্য ২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ‘বিনীত’ (বিসিক নিজস্ব তহবিল) ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়। মাত্র ১৫ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই তহবিলের পরিমাণ বর্তমানে ১৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত জুন মাস পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৭৩ জন এই তহবিল থেকে ঋণ পেয়েছেন।
প্রান্তিক পর্যায়ের মৌচাষিদের জন্য ২০১৯ সাল থেকে আলাদা একটি ঋণ কর্মসূচি বিসিক চালু করেছে। বর্তমানে এই তহবিলের আকার ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মৌচাষিরা এখানে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯৭ জনকে এই ঋণ প্রদান করেছে বিসিক।
বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, সকল কর্মসূচির ক্ষেত্রে ঋণের সুদহার ও অন্যান্য প্রক্রিয়া একই রকম।
ঋণের পরিমাণ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া
উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই ঋণের এই সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, সব ঋণের অনুমোদন বিসিকের জেলা কার্যালয় দিতে পারে না। উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে বিসিক জেলা কার্যালয় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা ভাগ করা রয়েছে। বিসিকের জেলা কার্যালয় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন করতে পারে। ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন দেয় আঞ্চলিক কার্যালয়। আর ১০ লাখ টাকার বেশি (২০ লাখ টাকা পর্যন্ত) ঋণের অনুমোদন দেয় বিসিকের প্রধান কার্যালয়।
ঋণের শর্ত কী
বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সম্পূর্ণ জামানতমুক্ত। এই ক্ষেত্রে শুধু একজন জামিনদার (গ্যারান্টার) থাকলেই ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দুই লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ‘ইকুইটেবল মর্টগেজ ডিড’ এর মাধ্যমে উদ্যোক্তার নিজস্ব জমি বা বাড়ির কাগজপত্র বিসিক কার্যালয়ে বন্ধক রাখতে হবে। কোনো ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের জটিলতা ছাড়াই এই কাজ বিনা খরচে বিসিক কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়। ঋণ পরিশোধের পর উদ্যোক্তা তাদের কাগজপত্র ফেরত পাবেন।
বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২–এ বর্ণিত যেকোনো ধরনের শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে। তবে নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প প্লটের মালিক ও উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
সুদের হার ও মেয়াদ
বিসিকের ঋণ কর্মসূচিতে সুদের হার অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুলভ। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ সুদহারে এই ঋণ প্রদান করা হয়। পুরুষ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশ। এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ ব্যাংকঋণের সুদহার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাংকঋণের তুলনায় অনেক কম সুদে বিসিক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন উদ্যোক্তারা।
ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ইকুইটি এবং নারী উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ইকুইটি নিশ্চিত করতে হবে। উদ্যোক্তার বিনিয়োগকৃত জমি, কারখানা ঘর, যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক স্থায়ী বিনিয়োগ ইকুইটি হিসেবে গণ্য করা যাবে। একক অথবা অংশীদারি মালিকানা উভয় ক্ষেত্রেই ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ