প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত ১৫ সার ডিলারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৬ আসামি জামিনের জন্য হাজির হন। শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাদের মধ্যে একজনকে জামিন প্রদান করেন এবং বাকি ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত ২০ আসামির মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জন্য জামিন নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে তার জামিন মঞ্জুর করেন। অন্য ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে যাওয়া সার ডিলারদের মধ্যে রয়েছেন—সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া ও মো. বাদশা মিয়া।
গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনের সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার কালোবাজারে বিক্রি করেন। এসব সারের মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া ৮২১ টন ডিএপি সার, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ১৩৪ টন টিএসপি সার, যার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মান্নান জানান, মামলার ২০ আসামি বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহ করে জামিন নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আদালত ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন