ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা


যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, অন্য কোনো দেশ থেকে আবেদন করলে ভিসা অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

এই তথ্য পূর্বে রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া একটি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীরা তাদের নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা উচিত।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এছাড়া এতে আরও বলা হয়েছে যে, যদি কেউ অন্য কোন দেশ থেকে আবেদন করে, তাহলে ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন হতে পারে এবং এই ধরনের আবেদনের জন্য পরিশোধিত ফি ফেরত দেয়া হবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিউবায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানালেন রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২১ এম


কিউবায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানালেন রুবিও

 যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা সরকারের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে ৭০০-র বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, কিউবার খ্যাতনামা ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী লুইস ম্যানুয়েল ওতেরো আলকান্তারা পাঁচ বছর কারাভোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে পৌঁছেছেন।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে এসেছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে রুবিও শিল্পী আলকান্তারার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিউবা সরকারের অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা ৭০০-র বেশি রাজনৈতিক বন্দির অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।’

রুবিও আরও উল্লেখ করেন, ‘কিউবা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন আর চোখ বন্ধ রাখা উচিত নয়। এই দমন-পীড়নের অবসান ঘটানোর দাবিতে সবাইকে একসঙ্গে সোচ্চার হতে হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যালয় পরিত্যক্ত, পলিথিনের ছাউনিতেই পাঠ নিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


বিদ্যালয় পরিত্যক্ত, পলিথিনের ছাউনিতেই পাঠ নিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একটি তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দূর থেকে দেখলে মনে হয় একটি দীর্ঘ পরিত্যক্ত খামার ঘর। কিন্তু, কাছে গেলে দেখা যায় জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোলপাতার ছাউনির শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই গোলপাতা এবং পলিথিনের ছাউনিতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম তেলিগাতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষকরা পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে একটি পাকা ভবন ছিল। ২০২২ সালে পাকা ভবনটি নিলামে অপসারণের পর থেকে শিক্ষকরা নিজেদের অর্থ নিয়ে গোলপাতা দিয়ে একটি ঘর তৈরি করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সময়ে তিনটি ক্লাস শুরু হলে পাঠদানের সময় শিক্ষকরা বিড়ম্বনায় পড়েন। শুধু পশ্চিম তেলিগাতি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, একই উপজেলার ঢুলিগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা থেকেও একই চিত্র দেখা যায়।

কিছু বিদ্যালয়ে ভবন নেই, কিছু জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পিলারের বড় বড় ফাটল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যেই এসব ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চলছে, ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

পশ্চিম তেলিগাতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টি পড়লেই আমাদের বই খাতা ভিজে যায়, আমরাও ভিজে যাই। বই খাতা নিয়ে লাইব্রেরিতে চলে যেতে হয়। গরমে আমরা ক্লাস করতে পারি না, খুব কষ্ট হয়। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কত বিদ্যালয় দেখি, বড় বড় ভবন। আমাদেরও ইচ্ছে ওই রকম ভবনে পড়াশোনা করতে।’

জুয়েল নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের খুব কষ্ট হয় এই ক্লাসে পড়াশোনা করতে। ক্লাসের পাশে বেড়া নেই, বৃষ্টি হলেই ঝরঝর করে পানি পড়ে, কারেন্ট নেই, ফ্যান নেই, আমরা কীভাবে ক্লাস করব। তাই আমাদের একটা ভবন দরকার। এ ছাড়া আমাদের স্যারের ও ম্যাডামের খুবই কম। আমাদের স্যারের ম্যাডামের প্রয়োজন।’

অভিভাবক ইমাম শেখ বলেন, ‘এখানে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে। তাদের ক্লাস করার মতো কোনো অবস্থা নেই। এখানে পুরনো একটা ভবন ছিল, যা নিলাম করে নিয়ে গেছে। এরপর একটি ভবন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজকে তিন বছর হয়ে গেছে, আমরা এখনও কোন ভবন পাইনি। এখন বৃষ্টি আসলেই শিশুদের বই খাতা ভিজে নিয়ে বাড়িতে দৌড় দিই। স্কুলের চালের ওপর পলিথিন দিয়ে ক্লাস চলে। ছোটদের নিয়ে আমরা খুবই চিন্তার মধ্যে আছি।’

১৯০ নম্বর পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার জানান, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি খুবই নাজুক। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ক্লাস করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টি হলেই ক্লাস বন্ধ করতে হয় আবার বৃষ্টির পরে শুরু করতে হয়। আমাদের এখানে যে গোলপাতার ঘরটি, সেটি নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। ছয় পোস্টে তিনজন শিক্ষক নিয়ে স্কুল চলছে। আমাদের শিক্ষার্থী ৯৭ জন, অথচ শিক্ষক তিনজন। তাদের নিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর। এর কারণে আমরা মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হোক। আর আপাতত সংস্কার করার জন্য একটি বরাদ্দ দেওয়া হোক।’

একই ইউনিয়নের ২৪৬ নম্বর পশ্চিম ঢুলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। সেখানে পরিত্যক্ত ভবনের পিলারে বড় বড় ফাটল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। একটু বৃষ্টি হলেই পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে এসব ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চলছে, ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোহিফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্কুলে ভবন না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষণ নেই। এখানে এক সময় অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছিল এবং এক সময় এই ইউনিয়নের মধ্যে এই স্কুল বৃত্তিতে শীর্ষস্থানীয় ছিল। এখন সে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী আসে না। ভবন না থাকার কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এই ভবনের জন্য সব দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর হাবিবুল্লাহ জানান, ‘উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দুর্বল ও সংকট রয়েছে। এগুলোর দ্রুত সংস্কার ও ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা কমিটির সভায় রেজুলেশন করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। অবকাঠামোগত সংকট থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ হলে সমস্যা সমাধান হবে।’

বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চিতলমারী উপজেলায় ৩৭টি, মোল্লাহাটে ১১টি, রামপালে ১৩টি, মোংলায় ২টি, ফকিরহাটে ৩০টি, মোরেলগঞ্জে ৩৪টি, শরণখোলায় ১১টি, কচুয়ায় ১২টি এবং বাগেরহাট সদরে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নেই।

বাগেরহাটের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার আতিকুর রহমান জুয়েল জানান, ‘জেলায় এক হাজার ১৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০০টিতে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এসব ভবনের তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য নেতানিয়াহুর শুভ কামনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য নেতানিয়াহুর শুভ কামনা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালের আগ মুহূর্তে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ‘সত্যিকারের বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে এই দলের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন।

শনিবার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সময় ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়াজনিসের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে নেতানিয়াহু এই বার্তা দেন।

রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘হাভিয়ের, তুমি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আমরা তোমাকে এবং আর্জেন্টিনাকে বিভিন্ন দিক থেকে সমর্থন করি, আগামীকালের ম্যাচেও আমাদের সমর্থন থাকবে। শুভ কামনা।’

রাষ্ট্রদূত ওয়াজনিস প্রেসিডেন্ট মিলেইর শুভেচ্ছাবার্তা নেতানিয়াহুর কাছে পৌঁছে দেন। মিলেইর উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনি আমার বন্ধু এবং সব সময় আমাদের সমর্থন করেন। জেনে ভালো লাগল যে আপনি আমার কারণেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন।’

এটি প্রথমবার নয় যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ইসরাইলি কমেডিয়ান বেন বেন বারুচের সঞ্চালনায় ‘দ্য মোজো পডকাস্টে’ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি চান আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শিরোপা অর্জন করুক।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, আর্জেন্টিনাকে সমর্থনের কারণ কি লিওনেল মেসি? উত্তর দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘না, মেসির কারণে নয়, বরং দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি একজন সুপারস্টার।’

বাংলাদেশ সময় রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহীদ জিয়া হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের দাবি, সামনে আসতে পারে অজানা তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


শহীদ জিয়া হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের দাবি, সামনে আসতে পারে অজানা তথ্য

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর মেজর মোজাফফর হোসেন ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ছদ্মনামে পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। পরে যখন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তবে তখনও তিনি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। এদিকে, ১৯৮১ সালে সেনা বিদ্রোহের বিচার কিছুটা হলেও হয়েছিল, কিন্তু জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পৃথক বিচার এখনো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি নতুন করে হত্যা মামলা হয়, তবে অজানা অনেক তথ্য সামনে আসা সম্ভব।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হত্যার শিকার হন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পেরিয়ে গেছে। সেনা আইনে অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিচার হলেও দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন মেজর মোজাফফর হোসেন। চার দশক পর তিনি ঢাকায় গ্রেফতার হন।

গ্রেফতারের পর আবারও উঠেছে নানা প্রশ্ন। এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন, হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা কী ছিল এবং এর পেছনে আরও কারা ছিলেন; এসব নিয়ে উঠছে কৌতূহল। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ বলেন, জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর মেজর মোজাফফর ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জী’ নামে পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করেন। এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

আবু রূশদ আরও বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বীর বিক্রম জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত থাকার সময় মেজর মোজাফফর ও মেজর খালেদ তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

তার দাবি, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে মেজর মোজাফফর বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এরপরেও তিনি বিভিন্ন নামে পরিচয় ব্যবহার করতেন। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তিনি আবার দেশ ছেড়ে চলে যান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে তিনি পুনরায় দেশে ফিরে বসবাস শুরু করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮১ সালে বিচার হওয়া বিষয়টি মূলত ছিল সেনা বিদ্রোহের বিচার। সামরিক আদালতে হওয়ার কারণে সেই বিচারপ্রক্রিয়া থেকে অনেক তথ্য জনসম্মুখে আসেনি। তাই জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেসামরিক আদালতে নতুন করে হত্যা মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো পৃথক বিচার হয়নি। বিচার হয়েছে কেবল সেনা বিদ্রোহের, ফলে বিষয়টি সামরিক আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু যদি হত্যা মামলা হয়, তবে ঘটনাটি আরও বিস্তৃতভাবে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড ও সেনা বিদ্রোহ দুটি ভিন্ন বিষয়। হত্যাকাণ্ডের বিচার বেসামরিক আদালত কিংবা সামরিক আদালত; উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। কিভাবে বিচার হবে, সেটির সিদ্ধান্ত সরকারের।

বিশ্লেষকদের মতে, মেজর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব তথ্য ইতিহাসের অংশ হিসেবে গ্রহণের আগে অন্যান্য দলিল-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তবের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%