০৩:০১ এম
বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগে BNP সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব’র অন্তর্দ্বন্দ্ব-কোন্দলে অশান্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই বিভাগে চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামানকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ পাওয়ার পর ড্যাবের একটি গ্রুপ তাকে মব করে তার দপ্তর থেকে বের করে দিয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা। বর্তমানে পরিচালকের দপ্তরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বুধবার মনিরুজ্জামানকে বের করে দেওয়ার পর, বৃহস্পতিবার পুনরায় তালা দেওয়া হয় তার দপ্তরের প্রধান গেটে। ফলে, পরিচালক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়েন।
পরে অবশ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে তালা খুলে দেওয়া হয়। ড্যাবের একটি গ্রুপ চাইছে, মনিরুজ্জামানের এই নিয়োগ বাতিল করা হোক। অপর গ্রুপের বক্তব্য, যদি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে নিয়োগ বাতিল করা হয় তাহলে তারা আন্দোলনে নামবেন। গত ৫ জুলাই, সরকার ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। তিনি ৬ জুলাই এই পদে যোগদান করেন। বুধবার, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শেবাচিম) কিছুচিকিৎসক এবং শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালকের দপ্তরে যান শেবাচিম শাখা ড্যাবের সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম, যিনি সম্প্রতি অবসরে গেছেন। তিনি পরিচালকের কক্ষে ঢুকে লোকজন দিয়ে মব তৈরি করে ডা. মনিরুজ্জামানকে তার চেয়ার থেকে টেনে তোলেন। পরে তাকে দপ্তর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এ সময় উপস্থিত ড্যাবের শেবাচিম শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম এবং জেলার ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্যরা সেলিমকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি শোনেননি। সেলিম ও তার সহযোগীরা পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে আবারো পরিচালকের দপ্তরে পৌঁছান সেলিমের সহযোগীরা। তারা দেখতে পান, পরিচালকের কক্ষে লাগানো তালা খোলা হয়েছে। তাই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তারা এবং দ্বিতীয় দফায় মব করে প্রধান গেটের তালা ঝোলানো হয়।
কয়েক ঘণ্টা তালাবদ্ধ থাকার পর তালা খুলে দেওয়া হয়। আন্দোলনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. সেলিম যুগান্তরকে বলেন, শেবাচিমে উপপরিচালক পদে থাকাকালে জুলাই আন্দোলনবিরোধী শান্তি মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন মনিরুজ্জামান। তিনি ফ্যাসিস্ট আমলে স্বাচিপের নানা কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন। আগস্ট বিপ্লবের সময় তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। তাই, তারা মনিরুজ্জামানের নিয়োগ মেনে নিতে রাজি নন। বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্যাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজন, কিন্তু তা মানা হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
শেবাচিম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম বলেন, কেন্দ্রীয় ড্যাবের আজীবন সদস্য ডা. মনিরুজ্জামান। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কেন্দ্র থেকে ড্যাবের নির্বাচনের যে কমিটি হয়েছিল, তাতেও তিনি ছিলেন। তিনি এবং সেলিম একসঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে অংশগ্রহণ করেছেন। হঠাৎ কেন এ বিভক্তি দেখা দিল, তিনি বুঝতে পারছেন না। সম্ভবত ব্যক্তিগত জেলাসির কারণে এটি হতে পারে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেছেন, মব সৃষ্টি এবং জোরপূর্বক চেয়ার থেকে দাঁড় করানোর ঘটনা দুঃখজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডা. মনিরুজ্জামান শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং পরে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, শেবাচিমে উপপরিচালক পদে থাকাকালীন তিনি সরকারি নির্দেশ পালন ছাড়া কিছুই করেননি। সরকারি চাকরিতে থাকার সময় সরকারের নির্দেশ মানতে হয়, এটাই নিয়ম। শান্তি সমাবেশের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তৎকালীন পরিচালক বাধ্য করেছিলেন তাকে সেখানে যোগ দিতে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবেন না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন