০৫:১৩ পি.এম
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর গ্রামে একটি স্বামী পরিত্যক্তা, পিতা-মাতাহীন শারীরিক এবং আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। তার অপ্রকাশিত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পালটা বক্তব্য ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার বাবলু শেখ নামে একজনের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। কিন্তু স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো খবর রাখেননি। বিয়ের পরও তিনি মায়ের সঙ্গে মামা বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তার মা মৃত্যুর পর জীবিকার টানে বিভিন্ন বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে দিন কাটাচ্ছিলেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ করার সুবাদে তার ছেলে মেহেদী হাসান শেখের সঙ্গে শরীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। এছাড়া মেহেদী হাসানের বাড়ি থেকে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যদি সে তার ছেলের কথা বললে তাকে মেরে ফেলা হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান শেখের বাবা অহিদ শেখ মন্তব্য করেন, "আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রমাণিত নয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক। আমার ছেলে যদি জড়িত প্রমাণিত হয়, আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা আমরা মেনে নেব।"
তবে স্থানীয়রা জানান, একই গ্রামের বাসিন্দা তারা শেখ এবং সায়েম শেখের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার অভিযোগ এই নারী আগেই তুলেছিলেন। কিন্তু নতুন করে মেহেদী হাসানের নাম বলতে দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানাচ্ছেন, ভুক্তভোগী দীর্ঘসময় অহিদ শেখের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তার গর্ভধারণের ঘটনা নিয়ে কয়েকজন নারী তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নাম উল্লেখ করেছেন, যার ফলে সন্তানের পিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান শেখ গণমাধ্যমকে জানান, "আমাদের বাড়িতে ওই নারী যাওয়া আসা করত এটা সত্য। মূলত ভুক্তভোগীর সঙ্গে তারা শেখ এবং সায়েম শেখ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, এ কথা এলাকার অনেকেই জানেন। ওই নারী একা-একা তাদের বাড়িতে থাকেন। তাকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, বলছেন আমার নাম। অনাগত সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করা হোক, আমার সঙ্গে যদি সংশ্লিষ্টতা পায়, দেশের আইনে তা আমি মাথা পেতে নেব।"
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
অন্যদিকে তারা শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ অমূলক।
শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিজাউল মেম্বার মন্তব্য করেন, "বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের সত্যতা পরীক্ষার জন্য মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন। তদন্তে যদি কেউ দায়ী হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিক।"
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্কতা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "বিষয়ের তথ্য আমার জানা ছিল না। আমি এখনই একজন অফিসার পাঠিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন