বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:২৮ পি.এম
জেলা সদরে পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণে জাকির হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার লাশ গুম করার অভিযোগে মো. জনী (৩১) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত একই সঙ্গে জনীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদানের পাশাপাশি অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
আজ দুপুরে নেত্রকোণার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জনী নেত্রকোণা সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকা থেকে মো. বাবুল মিয়ার পুত্র।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোর জাকির হোসেন মদন উপজেলার হাসনপুর গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরদিন অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে সেখান থেকে বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার পরে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৭ অক্টোবর সকাল ১১টার সময় সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকায় একটি বিলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় জাকিরের লাশ দেখতে পান। পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় নিহতের গলায় নাইলনের রশি প্যাঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. মঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে ১৮ অক্টোবর নেত্রকোণার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে রাজুর বাজার এলাকার মো. জনীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জনী নির্মমভাবে স্বীকার করে যে, তার কাছে ধার নেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে জাকিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এবং তারপর লাশ বিলে ফেলে দিয়েছে।
তদন্ত শেষে পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পর আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট পূরবী কুণ্ডু।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আরিফুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে কসবা উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে কসবা প্রেসক্লাবের সামনে কসবা ব্যাংকার্স সোসাইটি ও কসবার ব্যাংকার্স ফোরাম যৌথভাবে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
মানববন্ধনে কসবা ব্যাংকার্স ফোরাম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং কসবা ব্যাংকার্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস.এম কামরুজ্জামান শিবলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংকের ম্যানাজার মো. ছানাউল হক সরকার, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ হিল বাকী, কসবা ব্যাংকার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, কসবা ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. সফিউল্লাহ, কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আবুল খায়ের স্বপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, ব্যাংকার্স ফোরামে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান মোল্লা, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. এরশাদুল হক, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান তুষার, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তারা।
এদিকে, নিহত মো. আরিফুল ইসলাম (৪৫) উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। তাঁর বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলায় অবস্থিত। কর্মস্থলের কারণে তিনি গোপীনাথপুর গ্রামের জহির মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষে গোপীনাথপুর বাজার অতিক্রম করার পর, একদল দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মোহাম্মদ রাসেদ বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে গোপীনাথপুর গ্রামের আলী মিয়া ও তার স্ত্রীকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের পলমাটি সরকারি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থী ও জনস্বার্থে সরকার "পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ" প্রকল্পে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ২৫০০০০ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। স্হানীয় ৯ নং ওয়াডের মেম্বার সুজন মিয়া এই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে উক্ত প্রকল্পের সমগ্র টাকা উত্তোলন করেন। পলমাটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় এক টাকার মাটিও কাটা হয়নি, এমনকি আমাদেরকে যা বলতে হয়নি যে সরকার আমাদের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের রাস্তা নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশিত হলে এবং প্রকল্পের পুরো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠলে, স্থানীয় ৯নং ওয়াডের সুজন মেম্বার উক্ত প্রকল্পে কোন অর্থ বরাদ্দ হয়নি বলে অস্বীকার করেন, বরং সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিক বলে কটুক্তি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন। সত্য গোপন করে কিছু অসাধু সাংবাদিক দিয়ে সংবাদ দিগন্তে প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশ হয়। মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ পি আই ও সাবের আন্তরিকতায় সত্য উদঘাটন করেন, যাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে "পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ" প্রকল্পে ২৫০০০০ টাকা বরাদ্দ এবং সাবেক ইউ এন ও, সাবেক পি আই ও, ও সাবেক ডিসির অনুমোদিত স্বাক্ষর রয়েছে। পলমাটি গ্রামের বাসিন্দা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন-- আমাদের গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের চলাচলের রাস্তা নির্মাণের টাকা আত্মসাৎকারী ও অনুমোদনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আমরা প্রত্যাশা করি উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় রাস্তা গ্রহণ করবে। আব্দুল আউয়াল মিছবাহ আরও বলেন—গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে এই লুটপাট ও প্রকল্পের সমগ্র অর্থ আত্মসাৎ এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও মাননীয় সংসদ সদস্য বরাবর আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্কুলের রাস্তা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপকৃত হতেন। তারা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ৯নং ওয়াডে এতো বড় পুকুর চুরির ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে, সুজন মেম্বার এক টাকার কাজও করেনি, আমাদেরকে কোন দিন জানাইওনি যে স্কুলের রাস্তায় টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এবং আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব কামরুজ্জামান সাহেবের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত চাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুজন মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ঐ নামে কোন প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ হয়নি বলে অস্বীকার করেন। উপজেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদিত স্বাক্ষর সংযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাগজ প্রদর্শন করিলে তিনি স্হানীয় সাংবাদিকদের দোষারোপ করে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ির পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি প্রদান করে ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় ঘোষ বলেন, "বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও লোক মারফত সুজন মেম্বারের লুটপাট ও দূর্নীতির কথা জানতে পেরে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর তার মাধ্যমে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান সরকারের উচ্চশিক্ষা বৃত্তির আওতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে পাকিস্তান সরকারের উচ্চশিক্ষা বৃত্তির যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
দেশব্যাপী নির্ধারিত ছয়টি আঞ্চলিক পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম একটি কেন্দ্র হিসেবে এ পরীক্ষার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩-এ দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় রংপুর অঞ্চলের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মোট ১৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে এ বৃত্তির আওতায় সম্পূর্ণ টিউশন ফি, আবাসন, ভাতা এবং অন্যান্য শিক্ষা-সহায়তা প্রদান করা হবে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর রাও মুহাম্মদ আজহার, ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের কালচারাল সেক্রেটারি (সাংস্কৃতিক সচিব) আনিল আসগর কালহোরো এবং প্রটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট মুহাম্মদ আনোয়ার।
পরিদর্শন শেষে অতিথিরা পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ আয়োজনের প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এ বৃত্তি কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর, দরপতনের সুযোগে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের কেনাকাটা বাড়িয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকেও কড়া নজর রাখছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর পূর্ববর্তী দিন, ১ জুলাইয়ের পর, স্বর্ণের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৭ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। স্টোনএক্সের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন মন্তব্য করেছেন, 'আগের দিনের দরপতনের পর বাজারে আবারও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।' তিনি বলছেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার-সংক্রান্ত নীতি। যদি ফেড আরও নমনীয় নীতি গ্রহণ করে, তাহলে স্বর্ণ ও রূপার দাম উঠতে পারে। তবে যদি ফেড সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তাহলে এই দুই মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হবে। এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আমেরিকার সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় তিন সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু উচ্চ সুদের হার সুদ-আয়কারী সম্পদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, যা স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির প্রায় ৬৩ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এদিকে জুনে অনুষ্ঠিত মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সভার কার্যবিবরণী অনুসারে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কয়েকজন নীতিনির্ধারক সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিলেও, শেষে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যের দিকে নজর রাখছেন। এই সব তথ্য থেকে ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, এইচএসবিসি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নোটে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে। ব্যাংকটি ২০২৬ সালের পূর্বাভাস ৪ হাজার ৮৬৪ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৫৬০ ডলার এবং ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ৫ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯২৫ ডলারে দাঁড় করিয়েছে। অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৪ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬২৮ দশমিক ২২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫৬ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ