প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জেলা সদরে পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণে জাকির হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার লাশ গুম করার অভিযোগে মো. জনী (৩১) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত একই সঙ্গে জনীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদানের পাশাপাশি অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
আজ দুপুরে নেত্রকোণার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জনী নেত্রকোণা সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকা থেকে মো. বাবুল মিয়ার পুত্র।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোর জাকির হোসেন মদন উপজেলার হাসনপুর গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরদিন অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে সেখান থেকে বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার পরে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৭ অক্টোবর সকাল ১১টার সময় সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকায় একটি বিলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় জাকিরের লাশ দেখতে পান। পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় নিহতের গলায় নাইলনের রশি প্যাঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. মঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে ১৮ অক্টোবর নেত্রকোণার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে রাজুর বাজার এলাকার মো. জনীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জনী নির্মমভাবে স্বীকার করে যে, তার কাছে ধার নেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে জাকিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এবং তারপর লাশ বিলে ফেলে দিয়েছে।
তদন্ত শেষে পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পর আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট পূরবী কুণ্ডু।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন