প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর, দরপতনের সুযোগে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের কেনাকাটা বাড়িয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকেও কড়া নজর রাখছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর পূর্ববর্তী দিন, ১ জুলাইয়ের পর, স্বর্ণের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৭ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। স্টোনএক্সের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন মন্তব্য করেছেন, 'আগের দিনের দরপতনের পর বাজারে আবারও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।' তিনি বলছেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার-সংক্রান্ত নীতি। যদি ফেড আরও নমনীয় নীতি গ্রহণ করে, তাহলে স্বর্ণ ও রূপার দাম উঠতে পারে। তবে যদি ফেড সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তাহলে এই দুই মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হবে। এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আমেরিকার সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় তিন সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু উচ্চ সুদের হার সুদ-আয়কারী সম্পদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, যা স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির প্রায় ৬৩ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এদিকে জুনে অনুষ্ঠিত মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সভার কার্যবিবরণী অনুসারে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কয়েকজন নীতিনির্ধারক সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিলেও, শেষে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যের দিকে নজর রাখছেন। এই সব তথ্য থেকে ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, এইচএসবিসি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নোটে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে। ব্যাংকটি ২০২৬ সালের পূর্বাভাস ৪ হাজার ৮৬৪ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৫৬০ ডলার এবং ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ৫ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯২৫ ডলারে দাঁড় করিয়েছে। অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৪ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬২৮ দশমিক ২২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫৬ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন