শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০০ পি.এম
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০২৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশের সময় গোলাপি বেগমের অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রায় এক বছর ধরে তার চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে, তার স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় গোলাপি বেগমকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, হাসানুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ছয়টি বাসে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ খানের নেতৃত্বে শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে নোওর, তুরাগ, কালিগঙ্গা, পদ্মা, আড়িয়াল ও ঐতিহ্য বাসে রাউটার স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে এই উদ্দেশ্যে রাউটার সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বাসে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ যাত্রাপথে মোবাইল ডাটা শেষ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ডাটা প্যাকেজের অভাব কিংবা নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে সমস্যায় পড়েন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে যাতায়াতের সময় ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে স্পন্সর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ছয়টি বাসে রাউটার স্থাপন করা হবে। প্রতিটি বাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৩২ জন শিক্ষার্থী ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হতে পারবেন। জরুরি প্রয়োজনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম মাসের ইন্টারনেট খরচ জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ খান নিজেই বহন করবেন। পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় সংশ্লিষ্ট বাসের শিক্ষার্থীদের দ্বারা বহন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জকসুর নির্বাচনি ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহিদ খান।
এ বিষয়ে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ খান বলেন, "যাদের জরুরি প্রয়োজন নেই, তাদের ওয়াই-ফাই ব্যবহার না করার অনুরোধ করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেট দরকার এমন শিক্ষার্থীরা সংযোগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।" কোনো বাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে ওয়াই-ফাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাবে। তবে, এতে মাসিক খরচও বাড়বে এবং অতিরিক্ত ব্যয় সংশ্লিষ্ট বাসের শিক্ষার্থীদের বহন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "একজন শিক্ষার্থীর মাসে ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হলেও যাতায়াতের সময় প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের উপকার হবে।" বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দূর-দূরান্ত থেকে বাসে যাতায়াত করেন। তাদের কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রমটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সব বাসকে ওয়াই-ফাইয়ের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আমাদের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক স্যার আমাকে অনেক সহযোগিতা করছেন।
এ বিষয়ে জবির পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, "কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতে ট্র্যাকিংয়ের জন্য জিপিএস স্থাপন করা হয়েছে। এখন পরীক্ষামূলকভাবে বাসগুলোতে রাউটার স্থাপন করা হচ্ছে। মূলত মাহিদের উদ্যোগেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।" এতে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সব বাসে এই সুবিধা চালু করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬১টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব ডাস্টবিনের অনেকগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ার কারণে ডাস্টবিনের চারপাশে আবর্জনা জমা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৯৯ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট ও ২৬১টি স্টেইনলেস স্টিল ওয়েন্টবিন (ডাস্টবিন) বসানো হয়েছে। পৌরসভা এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করেছে। স্ট্রিট লাইটের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৪১০ টাকা এবং ডাস্টবিনের জন্য খরচ হয়েছে ৯৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯৯৯ টাকা।
পৌর শহরের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, ডাস্টবিনে ময়লা জমে রয়েছে। অনেক স্থানে ডাস্টবিনের বাইরেও আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ময়লা অপসারণ না করায় কোথাও কোথাও ডাস্টবিনের চারপাশ ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি প্রবহমান খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাস্টবিন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে ডাস্টবিনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যত্রতত্র ময়লা ফেলায় পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।
পৌরবাসীর দাবি, ডাস্টবিন স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত এসব ডাস্টবিন নাগরিক সুবিধার পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকবে। জনবসতি এলাকায় ছোট ডাস্টবিন দিয়ে হয় না, তাই পৌরসভার উদ্যোগে নতুন করে ডাস্টবিন বসানো উচিত।
ময়লা পরিষ্কার ও ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে মঠবাড়িয়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ডাস্টবিনগুলো কবে স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। তিনি জানান, কোনো ডাস্টবিন নষ্ট হয়ে থাকলে বা সেখানে ময়লা জমে থাকার অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। তবে জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় নিয়মিত পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সামষ্টিক কল্যাণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ভুটানের দৃঢ় সমর্থন চেয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতির সময় এই আহ্বান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের কাছে জানানো হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, যারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দুই মন্ত্রী।
বৈঠকের সময় বাংলাদেশের দুই মন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাটি স্মরণ করেন। তারা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুদৃঢ় ও চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনার সময় ভুটানের পরিকল্পিত ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) প্রকল্পে বিভিন্ন পেশার দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নত ও ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ার স্বপ্নের কথাও স্মরণ করা হয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জার্মানির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর সরকার নতুন একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো বা ‘ডুমস্ক্রলিং’-এর প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যে। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হবে।
এই নতুন উদ্যোগের আওতায় বই পড়ার জন্য পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি একটি ওয়েবসাইটে প্রতিদিনের পড়ার সময় নথিভুক্ত করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল কয়েন অর্জন করা যাবে। যদি কেউ প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ে, তাহলে ২০ কয়েন পাওয়া যাবে। একজন ব্যক্তি দিনে একটি পড়ার সেশনই নথিভুক্ত করতে পারবেন। ১,০০০ কয়েন জমা হলে ১ সিঙ্গাপুর ডলার অর্জন করা যাবে, যা প্রায় ৮০ সেন্টের সমান। অর্থাৎ, যদি কেউ প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে মোট ৫০টি পড়ার সেশন সম্পন্ন করে, তাহলে তিনি ১ সিঙ্গাপুর ডলার পাবেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা টাম বলেন, “ছোট ও সহজলভ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকসই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি, যেখানে তথ্যের বৈচিত্র্য, কনটেন্ট আর নানা ধরনের বিনোদনের কোনো অভাব নেই।” দ্য স্ট্রেইটস টাইমসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, “যেকোনো মুহূর্তেই আমরা শত শত খবরের শিরোনাম স্ক্রল করতে পারি, ভিডিও দেখতে পারি কিংবা প্রায় যেকোনো বিষয়ের সারসংক্ষেপ পেয়ে যেতে পারি।”
মেলিসা টাম আরও বলেন, “আমরা জানি, যেকোনো ছোট ছোট চর্চা যখন নিয়মিত করা হয়, তখনই তা স্থায়ী অভ্যাসে রূপ নেয়। তাই আমাদের লক্ষ্যটাও বেশ সহজ - দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়া। বাসে যাতায়াতের সময়, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা দুপুরের খাবারের ফাঁকেই এটি করা সম্ভব।”
সিঙ্গাপুর সরকার তরুণদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তরুণদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবের ক্ষেত্রে ডুমস্ক্রলিং ও আসক্তিকে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নাগরিকদের আচরণে পরিবর্তন আনতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার নজির সিঙ্গাপুরে নতুন নয়। এর আগে হাঁটায় উৎসাহ দিতে সুপারমার্কারের ভাউচার এবং প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক পদক্ষেপ পূরণ করলে পুরস্কার দেওয়ার কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সময় আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীদের সাফল্যও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি (পিআইএসএ) অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ‘পিসা’ (PISA) বিশ্ব মূল্যায়নে দেখা গেছে, ১৫ বছর বয়সীদের বই পড়ার দক্ষতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এই তালিকায় তারা চীন ও তাইওয়ানকে পেছনে ফেলেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ