০৪:১৫ পি.এম
উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে জাপানের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ফেলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকে ১১ দিনব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে নিয়মিতভাবে এই মহড়া আয়োজন করা হয়। মহড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে।
উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই মহড়াকে তাদের দেশে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মনে করে। অতীতে তারা এ ধরনের যৌথ মহড়ার আগে ও পরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। সিউলের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, আজ ভোর প্রায় ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার উনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে।
সিউল জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এর সক্ষমতা ও কারিগরি দিকগুলো বিশ্লেষণ করছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং জানায়, এটি ইতোমধ্যে সাগরে পড়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ক্যুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিম ইউল-চুল এএফপিকে বলেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং এই বার্তাই দিচ্ছে যে তারা আসন্ন সামরিক মহড়াটির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে।’
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বুধবারের এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টিকে ‘ওই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, টোকিও বেইজিংয়ে অবস্থিত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার কাছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, জাপান একসময় এই অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শাসন চালাতো। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, জাপান আবারো তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। এই ইস্যুতেই সম্প্রতি টোকিওর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করছে উত্তর কোরিয়া।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন