ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূমি অফিসের তহশিলদার ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন ১০ টাকার খাজনায়


ভূমি অফিসের তহশিলদার ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন ১০ টাকার খাজনায়

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে মাত্র ১০ টাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ‘কোনো টাকা নেওয়া হয়নি' এমন বক্তব্য আদায় করে ভিডিও ধারণ করা হয়।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। পরে জনরোষের মুখে অভিযুক্ত তহশিলদার ২০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা আজিজুল হক তার জমির নতুন অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ সংগ্রহের জন্য জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। তিনি অভিযোগ করেন, একই জমির খাজনার রশিদ নিতে প্রায় ছয় মাস আগে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এবার জমি বিক্রির প্রয়োজনে নতুন রশিদ তুলতে গেলে তহশিলদার লিটন দেওয়ান বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে রশিদ দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, বাধ্য হয়ে তহশিলদারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। সেই লেনদেনের প্রমাণ তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে উপস্থাপন করেছেন। টাকা পাঠানোর পর যেটি সরকারি রশিদ দেওয়া হয়, সেটিতে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ সরকারি ফি ছিল মাত্র ১০ টাকা।

বিষয়টি বুঝতে পেরে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন আজিজুল হক। তিনি বলেন, টাকা ফেরত চাইতেই তহশিলদার লিটন দেওয়ান ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন দালাল তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোর করে তার কাছ থেকে ‘কোনো টাকা নেওয়া হয়নি’— এমন বক্তব্য আদায় করে ভিডিও ধারণ করা হয়। তিনি জানান, “আমি খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।”

অফিস থেকে বের হয়ে আজিজুল হক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। তারা অভিযুক্ত তহসিলদারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সোমবার (২০ জুলাই) ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত তহশিলদার দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছেন। বিক্ষুব্ধ জনতার চাপের মুখে একপর্যায়ে তিনি অভিযোগের ২০ হাজার টাকা ভুক্তভোগীকে ফেরত দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তহশিলদার লিটন দেওয়ান তাদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি সেবা পেতে অনেককেই একপ্রকার জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলেও অভিযুক্ত তহশিলদারকে পাওয়া যায়নি। পরে পুনরায় কার্যালয়ে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। এরপর তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

একপর্যায়ে অভিযুক্ত তহশিলদার সাংবাদিকদের অনৈতিকভাবে অর্থ দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি কিছু ভিডিও দেখেছি এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমেও ঘটনাটি শুনেছি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে তলব করে তার বক্তব্য নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় জয়নগর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও অনিয়মের শিকার না হন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন ত্যাগ করলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন ত্যাগ করলেন মোদি

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজধানী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সকল নিরাপত্তা বলয় ভেঙে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের মূল ফটকের বাইরের অংশে প্রবল বিক্ষোভ শুরু করেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতেই বাইরে ঘটে এই তীব্র ঘটনা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চারদিকের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হাজার হাজার জনতার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়কে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তড়িঘড়ি সংসদ ভবন ত্যাগ করতে দেখা যায়। সোমবার (২০ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইম বাংলার এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই সংসদ চত্বরের আশপাশের এলাকায় লোহার ব্যারিকেড স্থাপন করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা আনা হয়েছিল দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে সেই সব ব্যারিকেড উপড়ে ফেলে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এই সময় পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফার ধস্তাধস্তিতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশকর্মী আহত হন। এরপরেই আন্দোলনের উত্তেজনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে মধ্য দিল্লির কনট প্লেস, শাস্ত্রীয় ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পাশের ভিআইপি এলাকাগুলোতে। প্রতিটি পয়েন্টে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করতে দেখা যায়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, রেল ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ রক্তক্ষয়ী উত্তেজনাল কাণ্ড চলার পর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে মিছিলের অগ্রগতি আটকে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সংসদের দক্ষিণ দিকের প্রধান যানবাহন প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এ কারণে মধ্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় মাইলের পর মাইল যানজট সৃষ্টি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে লাখো সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। মাণ্ডি হাউসসহ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের ভেতর এবং বাইরের অংশে বিক্ষোভকারীদের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিতে দেখা যায়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জন্তর মন্তর, সংসদ চত্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নিরাপত্তায় অনেক সংখ্যক পুলিশকর্মী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই বিতর্কিত কর্মসূচির জন্য কোন আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংসদ ভবনের আশপাশে বর্তমানে ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো মিছিল বা সমাবেশ করার অনুমতি নেই এবং এই নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, তারা কর্মসূচির ব্যাপারে পুলিশকে পূর্বে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। প্রশাসন লাগামহীনভাবে এই কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। বিক্ষোভের স্থানের আশপাশে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সিজেপি সমর্থকেরা। এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে; যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরিষাবাড়ীতে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


সরিষাবাড়ীতে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পুকুরের পানিতে ডুবে তানজিল মিয়া (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।

এটি ঘটে সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে, উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের স্বাধীনাবাড়ী হুদুরমোড় এলাকায়।

এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন কামরাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, তানজিল স্বাধীনাবাড়ী গ্রামের করাতকল শ্রমিক শামীম মিয়ার ছেলে। সোমবার দুপুরে সে বাড়ির পাশে হুদুরমোড় এলাকায় একটি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়।

বাড়ি ফেরার সময় সে সড়কের ভাঙা অংশের গর্তে পড়ে যায় এবং পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়।

পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পুকুর থেকে তানজিলের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার ভাঙা গর্তে পড়ে শিশুটি পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় একজন নারী মা-রা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় একজন নারী মা-রা গেছেন

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রাস্তা পারাপারের সময় অজ্ঞাতনামা যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি নারী নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার শ্রীনগর ফেরিঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনা স্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য নিহতের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, নিহত নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩২ বছর বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত নারী ঢাকামুখী আরাম পরিবহনের একটি বাস থেকে নেমে এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনাস্থল থেকে নিহত নারীর একটি মোবাইল ফোন, নগদ এক হাজার টাকা এবং একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে, যা হাইওয়ে পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পর উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলের সময় পথচারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফুটওভার ব্রিজ ও ফ্লাইওভার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ ড্রেজার পাইপের ফলে চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে সৃষ্টি হয়েছে হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


অবৈধ ড্রেজার পাইপের ফলে চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে সৃষ্টি হয়েছে হুমকি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে একাধিক স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করেছে। এটি বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও, ড্রেজার মালিকদের ভয়ে প্রকাশ্যে নাম বলতে রাজি নেই। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত এসব পাইপ অপসারণের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকা থেকে মোহনপুর ইউনিয়নের পর্যটন কেন্দ্রের দক্ষিণে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় অন্তত তিনটি স্থানে বাঁধের নিচে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। আগে এগুলো সড়কের ওপর দিয়ে নেওয়া হলেও, প্রশাসনের অভিযানের ফলে নতুন কৌশলে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে স্থায়ীভাবে পাইপ বসানো হয়েছে।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে মেঘনা নদী এবং অন্য তিন পাশে ধনাগোদা নদী বর্তমান থাকায়, দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনা ও পাইপ স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনুমতি ছাড়াই নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এই পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বাঁধের দুর্বলতা বাড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।

সুগন্ধি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, ড্রেজার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন তারা। যদিও স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলছেন, সুগন্ধি এলাকায় হাসান নামে একজন ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করেছেন।

অন্যদিকে, মোহনপুর এলাকায় এই পাইপগুলি কিসের কারণে বসানো হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ মুখ খুললেও রাজি হননি। তাদের বক্তব্য, ড্রেজার মালিকরা রাতে নদীতে অবস্থান করে কর্মসূচি পরিচালনা করে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার সময়ে বাঁধের কোথাও ফাটল বা ধস দেখা দিলে হাজার হাজার কৃষক, বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে প্লাবিত হতে পারে। অথচ এমন ঝুঁকির মধ্যেও অবৈধ পাইপ অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানিয়েছেন, বহুবার এসব ড্রেজার পাইপ ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তারপরেও তারা পুনরায় স্থাপন করছে। আমরা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যেন এই স্থানে স্থায়ীভাবে পাইপ বসানোর পথ বন্ধ করা হয়। স্থানীয়রা ড্রেজার মালিকদের পরিচয় না জানা কারণে আইনি ব্যবস্থা নিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তবে খুব দ্রুত আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করলেও, বাঁধের নিচে সুড়ঙ্গ করে পাইপ স্থাপনের বিষয়টি দৃশ্যমান হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্য বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে এই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প।

চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, বিষয়টি আমি জানি। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%