প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজধানী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সকল নিরাপত্তা বলয় ভেঙে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের মূল ফটকের বাইরের অংশে প্রবল বিক্ষোভ শুরু করেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতেই বাইরে ঘটে এই তীব্র ঘটনা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চারদিকের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হাজার হাজার জনতার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়কে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তড়িঘড়ি সংসদ ভবন ত্যাগ করতে দেখা যায়। সোমবার (২০ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইম বাংলার এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই সংসদ চত্বরের আশপাশের এলাকায় লোহার ব্যারিকেড স্থাপন করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা আনা হয়েছিল দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে সেই সব ব্যারিকেড উপড়ে ফেলে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এই সময় পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফার ধস্তাধস্তিতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশকর্মী আহত হন। এরপরেই আন্দোলনের উত্তেজনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে মধ্য দিল্লির কনট প্লেস, শাস্ত্রীয় ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পাশের ভিআইপি এলাকাগুলোতে। প্রতিটি পয়েন্টে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করতে দেখা যায়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, রেল ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ রক্তক্ষয়ী উত্তেজনাল কাণ্ড চলার পর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে মিছিলের অগ্রগতি আটকে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সংসদের দক্ষিণ দিকের প্রধান যানবাহন প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এ কারণে মধ্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় মাইলের পর মাইল যানজট সৃষ্টি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে লাখো সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। মাণ্ডি হাউসসহ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের ভেতর এবং বাইরের অংশে বিক্ষোভকারীদের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিতে দেখা যায়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জন্তর মন্তর, সংসদ চত্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নিরাপত্তায় অনেক সংখ্যক পুলিশকর্মী ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই বিতর্কিত কর্মসূচির জন্য কোন আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংসদ ভবনের আশপাশে বর্তমানে ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো মিছিল বা সমাবেশ করার অনুমতি নেই এবং এই নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, তারা কর্মসূচির ব্যাপারে পুলিশকে পূর্বে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। প্রশাসন লাগামহীনভাবে এই কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। বিক্ষোভের স্থানের আশপাশে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সিজেপি সমর্থকেরা। এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে; যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন