ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেসির পূর্বপুরুষের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক, গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য


মেসির পূর্বপুরুষের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক, গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য

তর্কসাপেক্ষে লিওনেল মেসিই ফুটবলের সর্বকালের সেরা। তার জাদুতেই ঘুচেছে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের দীর্ঘ বিশ্বকাপখরা। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ক্যারিয়ারের একমাত্র অপ্রাপ্তি ঘুচিয়েছেন এই মহাতারকা। এছাড়াও সে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল।

আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের মুকুট এনে দেয়া মেসির গল্পের একটু এদিক এদিক হলে হয়ত লাভবান হতে পারতো ব্রাজিল। হয়ত মেসির হাত ধরেই ঘুচত সেলেসাওদের দীর্ঘ শিরোপাখরা। মেসি আর্জেন্টিনার বদলে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চড়ালে ফুটবল ইতিহাসটাও হয়ত অন্যরকম হয়ে যেত।

আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই তারকার একজন লিওনেল মেসির শেকড় নাকি ব্রাজিলেও বিস্তৃত। আরও বিশদভাবে বললে সেটা দেশটির সাও পাওলো রাজ্যের ভেতরের অঞ্চলে। বিষয়টি কিছুটা কাকতালীয় মনে হতে পারে, তবে একজন ইতালীয় গবেষকের অনুসন্ধানে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, এই মহাতারকার এক প্রপিতামহ (পরদাদা/পরনানা) বিশ শতকের শুরুর দশকে রিবেরাও প্রেতোতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

পেশায় ব্যাংকার এবং নেশায় ইতিহাসবিদ ফিওরেনজো সান্তিনি আর্জেন্টাইন তারকার বংশলতিকা বা ফ্যামিলি ট্রি অনুসন্ধানের কাজটি করেছেন।

মেসি যখন তরুণ বয়সে বার্সেলোনায় নিজের প্রতিভার জানান দিতে শুরু করেন, তখনই সার্জেন্টিনির মাথায় এই ভাবনা আসে। ফুটবলপ্রেমী এবং ইন্টার মিলানের কট্টর সমর্থক ফিওরেনজো 'মেসি' পদবিটির উৎস জানতে কৌতুহলী হয়ে ওঠেন।

তখনই তিনি এর ইতালীয় সংযোগটি আবিষ্কার করেন। মেসির প্রপিতামহ আঞ্জেলো মেসি ইতালির মার্কে অঞ্চলের মাসেরাটা প্রদেশের রেকানাত শহর থেকে এসেছিলেন। ১৮৯৩ সালে তিনি স্ত্রীসহ ইতালি ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোসারিওতে পাড়ি জমান।

এই গবেষক বলেন, 'আমি ২০১৫ সালে তার (মেসির) বাবার সাথে যোগাযোগ করি এবং এই ইতিহাস জানাই। কয়েক বছর পর তার বাবা আবার আমার সাথে যোগাযোগ করেন যেন আমি তার মায়ের দিকের বংশলতিকা খুঁজে বের করি, যাতে তারা ইতালির নাগরিকত্ব পেতে পারেন।'

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ফিওরেনজো সান্তিনির মতে, মেসির মাতুলালয়ের অনুসন্ধানের সূত্রপাত তার প্রপিতামহ রানিয়েরো কোচেত্তিনির মাধ্যমে, যিনি মেসির পিতৃপক্ষে পরিবারের মতো একই প্রদেশ অর্থাৎ সান সেভেরিনো মার্কেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

মেসির পরিবারের পাশাপাশি একই অঞ্চলের আশেপাশের মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে আর্জেন্টিনা ফুটবলের জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি, সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় মানু জিনোবিলি এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইয়ের মতো তারকা ও ব্যক্তিত্বদের পূর্বপুরুষদের শেকড়ের প্রমাণও মেলে।

সান্তিনি বলেন, 'গ্রামগুলো খুব কাছাকাছি, মাসেরাটা প্রদেশের একই এলাকায় প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।'

রানিয়েরো ইতালিতে থাকাকালেই রোসা রিকেজাকে বিয়ে করেন এবং তাদের ঘরে জুলিয়া ও ফ্রান্সেসকো নামের দুই সন্তান জন্ম নেয়। সাও পাওলোর 'ইমিগ্রেশন মিউজিয়াম অব দ্য স্টেট'-এর ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এই পরিবারটি 'ওয়াশিংটন' নামের জাহাজে চেপে ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাও পাওলোর সান্তোস বন্দরে অবতরণ করে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তবে বন্দরে পৌঁছানোর পর রানিয়েরো কোচেত্তিনির নাম পরিবর্তিত হয়ে 'রামিয়োরো কনসেন্টিনী' হয়ে যায়। সে সময় মূল ভাষার বানান ও উচ্চারণের জটিলতার কারণে অভিবাসীদের নাম ও পদবি বদলে যাওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয় ছিল।

জাদুঘরের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, রানিয়েরো (যা বর্তমানে রামিয়োরো) পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তাকে রিবেরাও প্রেতো থেকে ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রিনকাও এলাকায় ড. মার্টিনহো প্রাডো জুনিয়রের একটি খামারে কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরিবারটি সাও পাওলো রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে চলে আসে। সান সেভেরিনো মার্কে পৌরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিবেরাওতে রামিয়োরো ও রোসা দম্পতির ঘরে আরও দুটি সন্তানের জন্ম হয়। ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি এরমিনিয়া এবং ১৯০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি আর্দেরিগো জন্মগ্রহণ করে।

এই আর্দেরিগোর মাধ্যমেই লিওনেল মেসির পদবিতে পরিবর্তন আসে। গবেষকের মতে, রিবেরাও প্রেতোতে নাম নিবন্ধনের সময় এই ঘটনা ঘটেছিল।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'ব্রাজিলে এসে আর্দেরিগো হয়ে যান ফেদেরিকো। আর কোচেত্তিনি পরিবর্তিত হয়ে হয় কুচিতતીય। এই ফেদেরিকোই হলেন মেসির প্রপিতামহ (নানা)।'

ফেদেরিকোর জন্মের এক বছর পর পুরো পরিবার আর্জেন্টিনায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা সেখানে পৌঁছান এবং রোসারিও অঞ্চলে চলে যান। সেখানেই জন্ম নেন ফুটবলারের মাতামহ আন্তোনিও কুচিত,此部უალური এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচিত此次। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিত此部。

মূলত 'কুচিত此部' পদবিটিই গবেষককে ব্রাজিলের সাথে সংযোগটি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিল, কারণ ইতালিতে এই পদবির কোনো অস্তিত্ব বা রেকর্ড ছিল না। ফিওরেনজো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মেসির মায়ের দিকের ফ্যামিলি ট্রির অনুসন্ধানে সময় ব্যয় করেন।

তিনি বলেন, 'গবেষণার সময় আমি দেখি যে এখানে 'কুচিত此部' নামে কেউ নেই। পরে মেসির মায়ের এক খালাতো/মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকে কিছু নথি পাওয়ার পর বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়, যিনি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়টি আমাকে জানান।'

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ফিওরেনজোর এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে。

আজ রিবেরাও প্রেতোতে মেসির পরিবারের কোনো সদস্যের বসবাসের তথ্য নেই, কারণ তারা সবাই ১৯০৫ সালেই আর্জেন্টিনায় চলে গিয়েছিলেন।

তবে শহরটির সাথে তার ইতিহাসের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়েছে 'ভিলা তিবেরিও' পাড়ার একটি রাস্তা। মজার বিষয় হলো, এই পাড়াতেই শহরের অন্যতম ফুটবল ক্লাব 'বোটাফোগো-এসপি' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

পাড়ার এই রাস্তাটির নাম 'রুয়া মার্টিনিকো প্রাডো', যা রাখা হয়েছে সেই কৃষকের স্মরণে যিনি এই তারকা খেলোয়াড়ের পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

মার্টিনহো প্রাডো জুনিয়র বা 'মার্টিনিকো প্রাডো' নামে পরিচিত এই ব্যক্তি কৃষিকাজের পাশাপাশি ব্রাজিলের একজন রাজনীতিবিদও ছিলেন। তাঁর বাবা-মা লিমিরা এবং পরবর্তীতে আরারাসের একটি খামারে থাকতেন। তবে তিনি তার দাদা-দাদীর সাথে সাও পাওলোতে থাকতেন, যেখান থেকে তিনি আইনে স্নাতক অর্জন করেন, একটি সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং এমনকি প্যারাগুয়ে যুদ্ধেও অংশ নেন।

বিয়ের পর তিনি রাজ্যের ভেতরের অঞ্চলে চলে যান এবং তাদের পারিবারিক খামারগুলো পরিচালনা করতে শুরু করেন। তিনি আরারাসের সিটি কাউন্সিলর এবং স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রিবেরাও প্রেতো অঞ্চলটি উন্মোচিত হওয়ার পর তিনি সেখানে জমি কিনে খামার গড়ে তোলেন। অঞ্চলটি কফি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ায় তিনি ও তার ভাই মিলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কফি উৎপাদক হয়ে ওঠেন এবং ইউরোপীয় রাজাদেরও আতিথ্য প্রদান করেন। সান্তোস বন্দরের কাছে প্রাডোর নিজস্ব রপ্তানি প্রতিষ্ঠানও ছিল, যা তার কফি ব্যবসাকে আরও সহজ করে তুলেছিল।

মেসির ইতালীয় পরিবার সাও পাওলো থেকে আর্জেন্টিনায় পাড়ি দেওয়ার এক বছর পর, ১৯০৬ সালে মার্টিনিকো প্রাডো মৃত্যুবরণ করেন。

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ জেন-জি আন্দোলনের মুখে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ জেন-জি আন্দোলনের মুখে

টানা কয়েক মাস ধরে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি।

এই আন্দোলনের শুরু হয় চলতি বছরের মেডিক্যাল ভর্তি (এনইইটি-ইউজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগের কারণে। লাখ লাখ পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে। তারা পরীক্ষা বাতিলের, পুনঃপরীক্ষার দাবি, এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে social media তে প্রতিবাদ করতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।

আন্দোলনটির নেতৃত্ব মূলত তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি দিয়েছিল। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাজারো শিক্ষার্থীকে একত্রিত করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দিল্লির জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা টানা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও মিছিলের মাধ্যমে তাদের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ হলো, জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাগুলিতে একের পর এক প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি ছিল, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার না করলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কারের আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লিসহ দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং অনেক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

অবশেষে আজ শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করার জন্য নতুন সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর তদন্ত জোরদার করারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে এই পদত্যাগকে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংগঠিত জেন-জি প্রজন্ম সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেসরকারিকরণ হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকের খরচ বাড়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


বেসরকারিকরণ হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকের খরচ বাড়ার শঙ্কা

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছাড়ার সরকারি পরিকল্পনায়, বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত বাড়তি ব্যয়ের বোঝা গ্রাহকের কাঁধেই পড়তে পারে। এই বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, বেসরকারি খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যে ঝুঁকি তৈরি হবে, তা স্পষ্ট। অতএব, তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, আগে অনিয়ম বন্ধ করে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকবান্ধব করতে হবে।

গ্রাহকের ঘরে ঘরে আলো ছড়ায় যে বিদ্যুৎ; উৎপাদন ও সঞ্চালনের পর তা ৬ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো, পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়া হয়। তবে এতদিনের প্রচলিত এ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশের জন্য বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মনে করা হচ্ছে এই অতিমাত্রায় বেসরকারি খাত নির্ভরতা। এখন যদি বিতরণ ব্যবস্থাপনাও বেসরকারি খাতে তুলে দেয়া হয়, তাহলে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি সম্পৃক্ততা বাড়ার ফলে অনেকাংশেই অলিগার্ক শ্রেণীর হাতে এ খাতের পুঞ্জিভূত সমস্যা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে বিতর্ক, এলপি গ্যাসের বাজারে নৈরাজ্যসহ নানা উদাহরণ প্রমাণ করে বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাও ব্যক্তি মালিকানায় গেলে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেট ভারি হতে পারে।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী বি ডি রহমতুল্লাহ মন্তব্য করেন, যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তার উদ্দেশ্য ধনীদের আরও ধনী করা এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেসরকারি খাতে দেয়ার ফলে হিসাবের তুলনায় বেশি ট্যারিফ নির্ধারণ হচ্ছে, কারণ তারা নিয়ন্ত্রণের আওতায়। একইভাবে বিতরণ ক্ষেত্রও যদি বেসরকারি খাতে চলে যায়, তাহলে ট্যারিফ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ উৎপাদন ব্যয়ের পর বিতরণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেছেন, ‘প্রথমত, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিতরণ পরিচালনার মতো সক্ষম বেসরকারি খাত নেই। দ্বিতীয়ত, তারা জনস্বার্থকে রক্ষা করবে কি না এবং সরকার তাদের কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। দেশে বেসরকারি খাতের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকির উদাহরণও খুব বেশি দেখা যায় না। যেমন, এলপিজির ঘোষিত দাম বাজারে বাস্তবে পাওয়া যায় না।’

তবে সরকারি বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব কারণে বেসরকারি খাত কোনোভাবেই উপযুক্ত বিকল্প নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, ‘বেসরকারি খাতে গেলেই যে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, এমন কথা বলা যাবে না। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সততা বা দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বিদ্যমান।’

প্রকৌশলী বি ডি রহমতুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, সমস্যা সরকারি খাতের নয়, বরং যারা খাতটি পরিচালনা করেন তাদের। দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব, তবে তা করা হয় না। কারণ দুর্নীতির সুবিধা অনেকেই লাভবান হন। তাই বেসরকারি খাতে দিলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। বরং সেখানে থেকেও দুর্নীতির সুযোগ থাকতে পারে।

ভারতের কয়েকটি শহরে বিদ্যুৎ বিতরণে আদানি-রিলায়েন্স-টাটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতা থাকলেও, বাংলাদেশে বাস্তবতা আলাদা বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর গুলশান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার, মূল্য ৪৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


রাজধানীর গুলশান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার, মূল্য ৪৭ লাখ টাকা

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থেকে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের বিদেশি মদ এবং একটি পিকআপসহ মো. ইব্রাহীম (২১) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে গুলশান-২ এর ১১৩ নম্বর রোডে একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এই মাদক চালান জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শাহ আলম জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে যে মহাখালী এলাকা থেকে একটি পিকআপে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মাদকদ্রব্য গুলশান-২ এর দিকে আনা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১, সিপিসি-১ (উত্তরা) ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন ১১৩ নম্বর রোডের ২৮৫ নম্বর বাসার সামনে পাকা রাস্তার ওপর চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি শুরু করে।

এরপর, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে একটি হলুদ রঙের সন্দেহভাজন পুরাতন পিকআপ চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় সেটিকে থামানো হয়। গাড়িটি তল্লাশি করে ৪৫৪.২৫ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৭ লাখ টাকা। এই সময় মাদক পরিবহন করতে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দসহ মো. ইব্রাহীমকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইব্রাহীমের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার মুন্সিরহাট এলাকায়।

র‌্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য এবং গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ডিএমপির গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী, বাবার পরিচয় নিয়ে তৈরি ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী, বাবার পরিচয় নিয়ে তৈরি ধোঁয়াশা

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর গ্রামে একটি স্বামী পরিত্যক্তা, পিতা-মাতাহীন শারীরিক এবং আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। তার অপ্রকাশিত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পালটা বক্তব্য ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার বাবলু শেখ নামে একজনের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। কিন্তু স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো খবর রাখেননি। বিয়ের পরও তিনি মায়ের সঙ্গে মামা বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তার মা মৃত্যুর পর জীবিকার টানে বিভিন্ন বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে দিন কাটাচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ করার সুবাদে তার ছেলে মেহেদী হাসান শেখের সঙ্গে শরীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। এছাড়া মেহেদী হাসানের বাড়ি থেকে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যদি সে তার ছেলের কথা বললে তাকে মেরে ফেলা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান শেখের বাবা অহিদ শেখ মন্তব্য করেন, "আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রমাণিত নয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক। আমার ছেলে যদি জড়িত প্রমাণিত হয়, আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা আমরা মেনে নেব।"

তবে স্থানীয়রা জানান, একই গ্রামের বাসিন্দা তারা শেখ এবং সায়েম শেখের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার অভিযোগ এই নারী আগেই তুলেছিলেন। কিন্তু নতুন করে মেহেদী হাসানের নাম বলতে দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানাচ্ছেন, ভুক্তভোগী দীর্ঘসময় অহিদ শেখের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তার গর্ভধারণের ঘটনা নিয়ে কয়েকজন নারী তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নাম উল্লেখ করেছেন, যার ফলে সন্তানের পিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান শেখ গণমাধ্যমকে জানান, "আমাদের বাড়িতে ওই নারী যাওয়া আসা করত এটা সত্য। মূলত ভুক্তভোগীর সঙ্গে তারা শেখ এবং সায়েম শেখ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, এ কথা এলাকার অনেকেই জানেন। ওই নারী একা-একা তাদের বাড়িতে থাকেন। তাকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, বলছেন আমার নাম। অনাগত সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করা হোক, আমার সঙ্গে যদি সংশ্লিষ্টতা পায়, দেশের আইনে তা আমি মাথা পেতে নেব।"

অন্যদিকে তারা শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ অমূলক।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিজাউল মেম্বার মন্তব্য করেন, "বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের সত্যতা পরীক্ষার জন্য মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন। তদন্তে যদি কেউ দায়ী হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিক।"

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্কতা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "বিষয়ের তথ্য আমার জানা ছিল না। আমি এখনই একজন অফিসার পাঠিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%