০৯:১০ এম
ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন প্রায়ই দেখা যায় যে, কোনো খেলোয়াড় বোতল থেকে এক চুমুক পানি অথবা স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করার পর, তা গিলে না ফেলে মাঠেই ফেলে দেন। যদিও অনেকেই বিষয়টিকে পানি অপচয় বলছেন, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি বিশেষ কৌশল।
এই কৌশলের নাম 'কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স'। এই পদ্ধতিতে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে তা ফেলে দেওয়া হয়। শুধু ফুটবলাররাই নয়, সাইক্লিস্ট, ম্যারাথন দৌড়বিদসহ দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার পরিশ্রম করা অনেক ক্রীড়াবিদ এই কৌশলটি ব্যবহার করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মুখের ভিতরে কিছু রিসেপ্টর রয়েছে যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম। যখন মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় রাখা হয়, তখন সেই সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে এমন একটি ধারণা করে যে শরীরে নতুন শক্তির জোগান আসছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এই প্রক্রিয়ার ফলে খেলোয়াড়ের মনোযোগ, সতর্কতা এবং কর্মক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদিও পানীয়টি শরীরে প্রবেশ করে না।
ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের বিরতির সময় খুবই সীমিত। এই সময় বেশি পানি কিংবা স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে পেট ভারী লাগে বা দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। অন্যদিকে, পানীয়টি গিলে ফেললে তা হজম হতে এবং শরীরের কাজে আসতে কিছুটা সময় লাগে।
কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড কুলি করলেই মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত দ্রুত পৌঁছে যায়। তাই অনেক খেলোয়াড় এই পদ্ধতিটিকে বেশি কার্যকর মনে করেন।
যদিও এই কৌশল বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় এটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সেই সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি একেবারেই নয়। কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সক্ষম নয়। ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত পানি বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে হয়।
সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে, বিরতির সময়, ম্যাচ শেষে এবং গরম আবহাওয়ায় নির্ধারিত হাইড্রেশন ব্রেকের সময় ফুটবলাররা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি মূলত দীর্ঘ সময়ের উচ্চমাত্রার ব্যায়াম অথবা প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার জন্য কার্যকর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজ বা হালকা ব্যায়ামের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রয়োজন নেই।
অতএব, মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি পানি অপচয় নয়, বরং পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি কার্যকর কৌশল।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
সূত্র: সেইস ডটকম
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন