বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:০৪ পি.এম
রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদাবর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলের দিকে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের নাম শোয়েব, আরমান ও নয়ন।
এর আগে গত বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবোদয় বাজার এলাকায় সালিশি বৈঠক চলাকালে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাতে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ দেখার পর নবোদয় হাউজিং এলাকায় কয়েকজন যুবক ঢোল বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিল। এই সময়ে আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমানের সঙ্গে নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে রিপনের মধ্যে বিবাদ হয়। উক্ত পরিস্থিতিতে, রিপনকে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিরোধ মীমাংসার জন্য নবোদয় বাজারে রঞ্জুর দোকানে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সময় রিপন, নীরব, পারভেজ ও মাসুম নামের কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক বাদশার হাত, পা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে তারা।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি মাদরাসা ছাত্রের নামে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের বাইসাইকেল নিজে স্বাক্ষর করে তুলে নেন এবং সাইকেলটি নিজের নাতিকে উপহার দেন।
এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হলে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন ওই জামায়াত নেতা।
সরাসরি অনুসন্ধানে জানা যায়, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ছাত্র সাইমুনকে সাইকেলটি না দিয়ে, তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি তুলে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সাইকেলটি তিনি তার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী মাদরাসাছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায় যে, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে যখন তোলপাড় শুরু হয় তখন বুধবার তাড়াহুড়া করে তাদের বাড়িতে সাইকেলটি পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরক্ষণেই বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার পুতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল।
মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মাদরাসাশিক্ষক ও জামায়াত সমর্থক শের আলী। তিনি উল্লেখ করেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে এবং তার সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া ঠিক হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। পরবর্তীতে তার নির্দেশে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসে ফেরত দেওয়া হয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও আরও অন্যান্য উপকরণ (যেমন: সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি) বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সংঘটিত একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে বাবা ও ছেলে প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় একই পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২টার সময় ঘটনাটি উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজার এলাকায় ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মান্দ্রাইন গ্রামের নির্মল চন্দ্র রায়, যিনি বয়সে ৭৫ এবং তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায়, যিনি ৩৫ বছর বয়সী। উল্লেখযোগ্য যে, প্রশান্ত চন্দ্র রায় হচ্ছে পেশায় একজন পল্লীচিকিৎসক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে বড়াইবাড়ি তুলশীহাটে একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। যখন তারা মন্থনা জুট মিলের কাছে পৌঁছান, তখন একটি বেপরোয়া ট্রাকের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি ঘটে প্রশান্ত চন্দ্র রায়ের। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল চন্দ্র রায় এবং তার নাতি বন্ধন চন্দ্র রায়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে নির্মল চন্দ্র রায়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান দুলু মন্তব্য করেন, নির্মল চন্দ্র রায় এবং তার ছেলে প্রশান্ত স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং সেবাপরায়ণ মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুতে এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট শিশুটির অবস্থাও হাসপাতালের আইসিইউে গুরুতর সংকটাপন্ন। মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক রেখে চালক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটকের চেষ্টা করছে। বর্তমানে ট্রাকটি থানায় রয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সাথে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে বসা নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ভুলবশত অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল।
পরীক্ষা শেষে লিখিত প্রশ্নপত্রগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি নিশ্চিত হন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
কেন্দ্রটির দুই কক্ষে সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ২৫ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব এবং কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আসাদুল ইসলাম বলেন, যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেয়া হোক, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। এই সমস্যাটি নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান জানান, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানোর কথা ছিল। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই বাছাই করে বিতরণের নির্দেশনাও রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় আশ্রাফ উদ্দিন (৪০) নামে এক যুবদল নেতাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রাইসুল হায়দার বাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ল্যাংড়া তেমুনী এলাকার একটি ঘর থেকে স্থানীয়রা তাকে এক নারীসহ আটক করে।
বহিষ্কৃত আশ্রাফ উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায়, যা সংগঠনের নীতিমালার পরিপন্থি, আশ্রাফ উদ্দিনকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আশ্রাফ উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার এক নারীকে নিয়ে জাহাজমারা ইউনিয়নের ল্যাংড়া তেমুনী এলাকার একটি ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ওই ঘরে গিয়ে তাদের আটক করে। পরে তাদের ঘর থেকে বের করে সড়কে নিয়ে আসা হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়ভাবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয়রাও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ