ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে হুঙ্কার মমতার, বললেন আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে’


বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে হুঙ্কার মমতার, বললেন আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একের পর এক বিশাল ধাক্কা আসছে। এত কিছুর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দমনপ্রাপ্ত হননি; বরং তিনি এখনো নিজ অবস্থানে দৃঢ় রয়েছেন। দলের ৮০ জন বিধায়কের বড় একটি অংশ বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি আলাদা উপদল গঠন করেছেন। পাশাপাশি, কিছু লোকসভা সাংসদরাও (এমপি) একটি আলাদা তৃতীয় জোট গঠন করেছেন। ফলে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস কে?’— এই প্রশ্ন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মমতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, তাকে থামাতে হলে ‘‘খুন’’ করতে হবে।

দলীয় বিদ্রোহীদের স্পষ্ট ভাষায় ‘‘বিশ্বাসঘাতক’’ আখ্যা দিয়েছেন মমতা। তবে তিনি নিজের চিরচেনা মেজাজে ঘোষণা করেছেন, তৃণমূলের দলীয় প্রতীক অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে। মমতার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদ্রোহীরা যদি ঘাসফুল প্রতীক নিজেদের দাবি করতে চান তবে সামনে তাদের একটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না। আমাকে যদি থামাতে চান, তবে আমাকে মেরে ফেলতে হবে।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এদিকে শনিবার, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেছেন। চন্দ্রিমা ছিলেন মমতার অনুগত একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে অন্যতম। পদত্যাগের পর এই বিধায়কও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদলে যোগ দিয়েছেন। ঋতব্রতের সমর্থকেরাই গত শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল দলীয় কার্যালয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এবং তিনি যে পদত্যাগ করবেন— তা তিনি আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন। কারণ, তার ছেলে আগে তৃণমূল-বিরোধী শিবিরের সাথে হাত মেলেছে।’

বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টার পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, প্রায় পনেরো বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মমতা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, কখনোই বিদ্রোহীদের সাথে হাত মেলাবেন না।

মমতা বলেন, ‘সেটা (প্রস্তাব দেওয়া) তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তিনি তা করতেই পারেন। কিন্তু আমি কোনোভাবেই তাদের সাথে যোগ দেব না।’

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহীরা চাপের মুখে পড়েই দল ছেড়ে চলে গেছে। মমতা আরও বলেন, ‘তবে আমি বিজেপির কাছে মাথা নত করব না, আর আমার দলও কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’

তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বিদ্রোহীদের দখলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বক্তব্য রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যারা গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলব— আমরা ওই অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলাম। ২০২৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অফিসটি আমাদের নামে লিজ নেওয়া আছে। কোনো ব্যক্তি দল ছেড়ে চলে যেতেই পারেন, তবে তা দলের প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটায় না। এটি দলের সম্পত্তি। আমি চাইলে তা নিজের দখলে নিতে পারি না। ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর সম্পত্তি কেউ এভাবে জোর করে কেড়ে নিতে পারবে না।’

সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী ২০১১ সালে সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টকে উচ্ছেদ করেছিলেন। যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করে এবং বিজেপি সে সুযোগ কাজে লাগায়। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার দলের আদর্শ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের (বিজেপি) সম্পূর্ণ বিপরীত।

মমতা বলেন, ‘এই প্রতীক আমার দেওয়া। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনাদের মনোনয়নপত্রে সই করেছিলাম আমি নিজেই। নির্বাচনের পর দুই মাস না যেতেই আপনারা কীভাবে বিশ্বাসঘাতক হয়ে গেলেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। আপনারা এখন বিজেপির সাথে হাত মিলিয়েছেন, যা এভাবে চলতে দেওয়া যায় না; কারণ, তৃণমূলের আদর্শই হলো বিজেপি-বিরোধী।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তিনি আরও জানান, চন্দ্রিমার বিদায়ের পর তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য— উভয় স্তরেই দলের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। একই সাথে মমতা ঘোষণা করেন, এখন থেকে তাঁর নিজের বাড়ির দলীয় কার্যালয়ই তৃণমূলের প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তৃণমূলে দলত্যাগের ঘটনা ঘটে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে দল এবং মমতার নিজের পরাজয়ের পর থেকে। বিদ্রোহী বিধায়কেরা মমতার নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তারা এটাও জানান যে, দল ছাড়ার পেছনে মূল কারণ আসলে দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ।

এরই মধ্যে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক (এমএলএ), ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ (এমপি) এবং অন্তত ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার মাত্র কিছু সপ্তাহের মাথায় তার পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

চন্দ্রিমা তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার মনে সর্বদা সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকবে। তবে নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পারস্পরিক আস্থার অভাবকেই দায়ী করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যেখানে কোনো বিশ্বাস নেই, কোনো আস্থা নেই, সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিক এই কারণে আমরা পদত্যাগ করেছি।’

এদিকে, নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে তাদের নিজ নিজ দাবি ও পাল্টা দাবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীপুরের সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


শ্রীপুরের সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সুতী নদীর পাড় দিয়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে রাস্তা ধসে যাওয়ার পর পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এই পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, রাস্তার কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। কিন্তু রাস্তার পাশে কবরস্থান এবং একপাশে ধান শুকাতে দেওয়ায় অন্যপাশে বেশি লোড পড়ায় কিছু অংশ ধসে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি আসার পর আমরা এখানে পরিদর্শনে এসেছি। এই রাস্তার সমস্যাগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে যাতে জনগণের চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যাতে রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে কেউ অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করতে পারে সে বিষয়ে নজর রাখা হবে।

শনিবার বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সুতী নদীর পাড় পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক বাবুল আক্তার সহ জেলা প্রশাসন ও এলজিইডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এর আগে শুক্রবার রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ে সময় টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোয়াইনঘাট থানার নতুন ওসির সঙ্গে প্রেসক্লাব নেতাদের মতবিনিময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ পি.এম


গোয়াইনঘাট থানার নতুন ওসির সঙ্গে প্রেসক্লাব নেতাদের মতবিনিময়

সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন গোয়াইনঘাট থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক।

গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মনজুর আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. করিম মাহমুদ লিমনের পরিচালনায় শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় গোয়াইনঘাট উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, চোরাচালান রোধ এবং মাদক নির্মূলে সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সমাজ থেকে যেকোনো অপরাধ দূর করা সম্ভব। সাংবাদিকরা হচ্ছেন সমাজের দর্পণ। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনী ও সঠিক তথ্য পুলিশি কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে। গোয়াইনঘাট থানাকে একটি জনবান্ধব ও দালালামুক্ত থানা হিসেবে গড়ে তুলতে আমি বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষ যাতে থানায় এসে নির্বিঘ্নে আইনি সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় প্রেসক্লাব নেতারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে ওসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অপরাধ দমনে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

এতে বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এম এ মতিন, দপ্তর সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আমির উদ্দিন প্রমুখ।

এ সময় গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা এবং থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের নাম বদলাতে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


দুই বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের নাম বদলাতে যাচ্ছে

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করা পুলিশের বিশেষায়িত দুটি ইউনিট, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এটিইউর নতুন নাম হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসির নতুন নাম হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তা বিবেচনাধীন রয়েছে।

গত ৭ জুন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে, এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চাওয়া হয়। এর পরদিন ৮ জুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, তাদের মূল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দায়িত্বও বহাল থাকবে।

তিনি বলেন, এটিইউ ও সিটিটিসির নতুন নামকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আইজিপির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের বিস্তার এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এ কারণে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করার প্রয়োজন।

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষকে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর সাথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করার অপচেষ্টাও চালাচ্ছে।

এসব পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, এটিইউকে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে’ রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আরও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ও আরও বাড়বে।

এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০১৬ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। এরপর থেকে সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

এ বিষয়ে, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিটগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকও হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণায় মর্টার শেল উদ্ধার, ছিল অবিস্ফোরিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


নেত্রকোণায় মর্টার শেল উদ্ধার, ছিল অবিস্ফোরিত

জেলার নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) আওতাধীন ভবানীপুর বিওপির সীমান্ত এলাকা থেকে আজ একটি ৬০ মিলিমিটারের জ্যান্ত ও অবিস্ফোরিত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ দুপুরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভবানীপুর গ্রামের নালা থেকে এই শক্তিশালী গোলাটি উদ্ধার করা হয়।

নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ আনুমানিক বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবানীপুর বিওপির (বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট) আওতাধীন এলাকার সীমান্ত পিলার ১১৫৫/১০-এস হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আনুমানিক ৩০০ গজ দূরে ভবানীপুর গ্রামের কয়েকজন ছোট বাচ্চা একটি নালায় মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার সময় কাদা মাটির ভেতরে তারা ভারী লোহার বস্তু বা একটি গোলা দেখতে পায়।

পরবর্তীতে ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ছদর উদ্দিনের পুত্র মো. আমজাদ আলী (৩০) বিষয়টি জানতে পেরে নালা থেকে উক্ত গোলাটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তুলে নিয়ে আসেন। তিনি গোলাটি তার বাড়ির নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ভবানীপুর বিওপি কমান্ডারকে খবর দেন। 

খবর পেয়ে ভবানীপুর বিওপি কমান্ডার বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যান। সেখানে  তারা বস্তুটিকে ৬০ মি: মি: মর্টার এর একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবিস্ফোরিত গোলা হিসেবে শনাক্ত করেন।

৩১ বিজিবির অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী, পিএসসি জানান, জননিরাপত্তা ও যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে অবিস্ফোরিত গোলাটি বালির বস্তা দিয়ে চারপাশ থেকে নিরাপদ বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং উক্ত স্থানে বিজিবি মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা  দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া মর্টার শেলটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল দলের সাথে সার্বিক সমন্বয় সাধন করে গোলাটি সম্পূর্ণ  নিরাপদ উপায়ে ধ্বংস করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল দল উক্ত স্থানে পৌঁছে গোলাটি নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%