০৮:৪১ পি.এম
উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করা পুলিশের বিশেষায়িত দুটি ইউনিট, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এটিইউর নতুন নাম হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসির নতুন নাম হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তা বিবেচনাধীন রয়েছে।
গত ৭ জুন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে, এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চাওয়া হয়। এর পরদিন ৮ জুন, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, তাদের মূল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দায়িত্বও বহাল থাকবে।
তিনি বলেন, এটিইউ ও সিটিটিসির নতুন নামকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আইজিপির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের বিস্তার এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এ কারণে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করার প্রয়োজন।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষকে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর সাথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করার অপচেষ্টাও চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এসব পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, এটিইউকে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে’ রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আরও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ও আরও বাড়বে।
এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০১৬ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। এরপর থেকে সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এ বিষয়ে, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিটগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকও হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন