ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ জানালেন অর্থমন্ত্রী


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ জানালেন অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া খেলাপি ঋণের পুনরুদ্ধারে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিআইবি ডাটাবেইজের ভিত্তিতে গত ৩১ মে পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে এই হিসাব নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

তিনি সংসদে উত্থাপিত তথ্যে আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য বিদ্যমান খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানো প্রয়োজন, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমানোর জন্য ব্যাংকসমূহের জন্য শ্রেণীকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড-৯ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মূল্যায়নের পাশাপাশি জামানত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনা এবং শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদানের নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, ঋণগ্রহীতাদের জন্য ঋণ গ্রহণের সর্বাধিক সীমা নির্ধারণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য নেওয়া ব্যবস্থাগুলির প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন। পাশাপাশি, অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ এর প্রণয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধন করে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলা বিচার আরও কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সর্বোপরি, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে, সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাবিবুর রহমান বাবু স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড জয়ী হলেন সাংবাদিকতায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


হাবিবুর রহমান বাবু স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড জয়ী হলেন সাংবাদিকতায়

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ লাভ করেছেন নাগরিক টেলিভিশনের রিপোর্টার হাবিবুর রহমান বাবু।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইআরএফ অডিটোরিয়ামে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি জয়নাল আবদীন, যিনি হাবিবুর রহমান বাবুর হাতে অ্যাওয়ার্ডটি তুলে দেন। এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এক যুগের অধিক সময় ধরে গণমাধ্যমে কাজ করে আসা হাবিবুর রহমান বাবু সাংবাদিকতায় বিভিন্ন দিক থেকে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি লেখালেখি করার ক্ষেত্রেও সক্রিয় রয়েছেন। তার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘শাড়ি পড়ে এসো’ এবং উপন্যাস ‘ফেরার পথে’ প্রকাশিত হয়েছে। এই দুটি বই পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

হাবিবুর রহমান বাবু বর্তমানে ইয়ুথ জার্নালিস্ট'স ফোরাম, বাংলাদেশ (ওয়াইজেএফবি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া তিনি সাংবাদিক সংগঠন ‘কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’-এর নির্বাহী কমিটির নির্বাচন-২০২৬ এ সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন বলেও জানা গেছে।

অ্যাওয়ার্ডের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান বাবু বলেছেন, "সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে সম্মানিত করেছেন এজন্য আমি তার দরবারে শুকরিয়া জানাই। পুরস্কার পেতে সবারই ভালো লাগে, আমারও ভালো লাগছে। এই পুরস্কার আমার কাজের গতি আরও বাড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যেহেতু সাংবাদিকতায় এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, তাই এটি আমার সাংবাদিকতার গুরু কাজি তানভীর আলাদিনকে উৎসর্গ করলাম।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যায় বোবা প্রাণীদের নীরব কষ্ট, এখনই যা করা প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


বন্যায় বোবা প্রাণীদের নীরব কষ্ট, এখনই যা করা প্রয়োজন

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যায় মানুষ যেমন ঘরবাড়ি হারিয়ে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, তেমনি সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় গৃহপালিত পশু, পাখি ও রাস্তার প্রাণীরা রয়েছে। বন্যায় হঠাৎ করে পানিবন্দি হয়ে পড়া এসব বোবা প্রাণী তাদের নিজেদের নিরাপদ স্থানে নিতে পারে না, খাবার বা বিশুদ্ধ পানি জোগাড় করতেও তারা সক্ষম হয় না, এমনকি বিপদের কথা কাউকে জানাতেও পারে না। তাই বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদের জীবন রক্ষায়ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম কাজ নিরাপদ আশ্রয়।

বন্যার সময় প্রাণীদের দ্রুত উঁচু ও শুকনো স্থানে সরিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গরু, ছাগল, ভেড়া বা হাঁস-মুরগিকে মাচা, উঁচু বাঁধ, স্কুলের মাঠ, নৌকা বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার কুকুর ও বিড়ালের জন্যও উঁচু ছাদ, বারান্দা বা শুকনো কোনো কোণে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা দরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার সময় গবাদিপশুকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। পানির উচ্চতা বাড়লে তারা সরে যেতে পারে না এবং তাদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বন্যার সময় পশুগুলোকে মুক্তভাবে নিরাপদ স্থানে থাকার সুযোগ দিতে হবে।

খাদ্যের ব্যবস্থা আগে থেকেই।

বন্যার সময় ঘাস ও স্বাভাবিক খাদ্য পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই গবাদিপশুর জন্য খড়, ভুসি, দানাদার খাবার ও শুকনো খাদ্য আগে থেকেই সংরক্ষণ করে উঁচু ও শুকনো স্থানে রাখতে হবে। যদি কাঁচা ঘাস না পাওয়া যায় তবে কলাগাছ, কাঁঠাল পাতা বা অন্যান্য নিরাপদ গাছের পাতা বিকল্প খাদ্য হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।

রাস্তার কুকুর ও বিড়ালের জন্য শুকনো বিস্কুট, ভাত, মাছের টুকরো বা সহজপাচ্য খাবার উঁচু জায়গায় রেখে আসা যেতে পারে। তবে খাবার এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে খেতে পারে এবং পানিতে ভেসে না যায়।

বিশুদ্ধ পানি সবচেয়ে জরুরি।

বন্যার সময় প্রাণীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই দূষিত পানি পান করলে ডায়রিয়া, পেটের অসুখ ও বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রাণীদের জন্য ফুটানো, বিশুদ্ধ বা নিরাপদ উৎসের পানি সরবরাহ করতে হবে। সম্ভব হলে আলাদা পাত্রে পরিষ্কার পানি রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা সহজে পান করতে পারে।

রোগবালাই প্রতিরোধে সতর্কতা।

বন্যার পানিতে দীর্ঘ সময় থাকলে গবাদিপশুর খুরের রোগ, ক্ষুরারোগ, তড়কা, বাদলা বা পেটের অসুখ হতে পারে। প্রাণীদের শরীরে জ্বর, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, পেট খারাপ বা হাঁটতে অসুবিধা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস, কৃষি তথ্য সার্ভিস বা নিকটস্থ পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক প্রাণীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

রাস্তার প্রাণীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

বন্যার সময় রাস্তার প্রাণীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়ে পড়ে। তাদের খাবার, আশ্রয় ও নিরাপদ স্থান থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই স্থানীয় মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের উচিত তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা। ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগও অনেক প্রাণীর জীবন বাঁচাতে পারে।

সম্মিলিত উদ্যোগই পারে প্রাণ বাঁচাতে।

দুর্যোগের সময়ে মানুষ ও প্রাণী উভয়ই প্রকৃতির কাছে অসহায়। তাই বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রাণী উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রাণিপ্রেমীদের সমন্বিত উদ্যোগে গৃহপালিত পশু, পাখি ও রাস্তার প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বোবা প্রাণীদের বাঁচানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শুকনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোমবার শোক দিবস পালনের ঘোষণা বিএনপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


সোমবার শোক দিবস পালনের ঘোষণা বিএনপির

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকাসহ সারা দেশে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রুহুল কবির রিজভী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বিএনপি এক দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। সোমবার সারা দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করা হবে। এই উপলক্ষে দলীয় সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।" ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রথম নামাজে জানাজা বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং পরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকাল ৫টায় জানাজা হবে। মরহুম জমিরউদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি আমাদের থেকে বহু দূরে চলে গেছেন। ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশের প্রতিটা অধিকারের আন্দোলন, স্বাধীনের আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রতিটা আন্দোলনে তার অনন্য ভূমিকা। তিনি ছিলেন সমকালীন রাজনীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। তার মহিমান্বিত অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশ হারাল একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে, দেশ হারাল এক অভিভাবককে।" এসময় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।" সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা. জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, রোববার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন খারিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন খারিজ

হামের কারণে মেয়ের অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে এক বাবার দেওয়া মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক জানান, মামলাটি গ্রহণ করার তেমন উপাদান না থাকায় আদালত কর্তৃক খারিজের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৫ জুলাই সকালে আদালতে ৯ মাস বয়সী সাউদা নুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনটি জমা দেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের নিশ্চয়তা দেয়। পরে জানানো হয়, ১২ জুলাই এই বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।

ড. ইউনূস এবং নূরজাহান ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে মামলায় আসামি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির শেষে এবং মার্চের শুরুতে শরীয়তপুর সদরের নয় মাস বয়সী সাউদা মুসকান মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হন। স্থানীয় চিকিৎসার ফল না আসায় শিশুটিকে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে হামের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেয়ে শিশুটিকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২২ মার্চ স্থানান্তর করা হয়।

মহাখালীর চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলতে গিয়ে বলা হয়েছে, বাদীর স্ত্রীর হাতে ২৬ মার্চ অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরিয়ে বাচ্চার মুখে লাগাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শিশুর মা ব্যর্থ হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুইপারকে দিয়ে শিশুর মুখে তা লাগিয়ে দেন। এর ঘণ্টা দুই পর শিশুটি মারা যায়।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, শিশুদের টিকার যোগান সময়মতো না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং টিকা কেনা ও দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মারাত্মক খামখেয়ালিপনা’ ও অবহেলার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সাউদা মুসকানও একটি।

এগুলোতে অভিযুক্তদের কোনোভাবেই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার পরও হামজনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেননি; এজন্য তারা এক্ষেত্রে দায়ী এবং প্রচলিত আইনে শান্তি পাওয়ার যোগ্য।

এর পূর্বে একই ধরনের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মুহাম্মদ ইউনূস, নূরজাহান বেগমসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আবেদন খারিজ হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%