প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া খেলাপি ঋণের পুনরুদ্ধারে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিআইবি ডাটাবেইজের ভিত্তিতে গত ৩১ মে পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে এই হিসাব নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি সংসদে উত্থাপিত তথ্যে আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য বিদ্যমান খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানো প্রয়োজন, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমানোর জন্য ব্যাংকসমূহের জন্য শ্রেণীকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড-৯ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মূল্যায়নের পাশাপাশি জামানত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনা এবং শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদানের নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, ঋণগ্রহীতাদের জন্য ঋণ গ্রহণের সর্বাধিক সীমা নির্ধারণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য নেওয়া ব্যবস্থাগুলির প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন। পাশাপাশি, অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ এর প্রণয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধন করে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলা বিচার আরও কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সর্বোপরি, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে, সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন