০৭:২৮ পি.এম
সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরও দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত জুলাই নারী সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার আসলে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ঠিক হবে, এই আশা ছিল সবার। কিন্তু বাস্তবতা হলো অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অনেক কাজের মধ্যে ব্যস্ত এবং সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত আছেন। তবে আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে তার কোনো তৎপরতা নেই।’
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তিনি আরো বলেন, ‘চব্বিশের ১৪ জুলাই একটি ঐতিহাসিক দিন। তখন এই দিন যেই রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা স্বারকলিপি দিয়েছিলাম, সেই রাষ্ট্রপতি এখনো বহাল আছেন। ১৪ জুলাই নারীদের অবদানের কারণে ১৫ জুলাই নারীদের বিরুদ্ধে টার্গেট করা হয়েছিল। নারীদের ওপর হামলার দৃশ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল।’
বিরোধীদলীয় হুইপ হিসেবে নাহিদ বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের বিষয়ে আমরা সবসময় বলি। নারী কোটার বিরুদ্ধে গিয়ে যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দাবিতে নারী এবং পুরুষ সবাই রাস্তায় নেমেছিল। নারীরা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তাই তাদের ওপর নানা ভাবে টার্গেট করা হয়েছে। তবে আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে নারীদের জন্য আমরা সেই সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। তবুও নারীরা আমাদের সাথে রয়েছে। নারী শক্তির প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার।’
তিনি জানান, ‘প্রান্তিক নারীদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে পারেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘নারী শক্তির প্রতি আহ্বান থাকবে, নারীদের দাবিগুলি বাস্তবায়নে কাজ করবে।’
জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ সরকার এসে কেন আইসিটি ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে দিয়েছে, তা জানি না। ইনুর ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নারী সমাবেশে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আকতার মন্তব্য করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। শেখ হাসিনা একজন নারী নয়, তিনি ফ্যাসিস্ট, হত্যাকারী, খুনী। হাসিনা চলে গেলেও তার ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়ে গেছে। রাষ্ট্রকে বিনির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের প্রেরণা যেন আমরা ভুলে না যাই। নারীদের তুলে আনার কাজ আমাদের করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে নারীরা এখনও পিছিয়ে রয়েছে, তাদের সামনে এগিয়ে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আমাদের অধিকার হরণ করতে চায়। দিল্লির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন