০৭:৩৫ পি.এম
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত একটি নতুন বিল আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান এব্রাহিম আজিজি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান তার ‘রেড লাইন’ রক্ষায় অটল এবং প্রয়োজন হলে তারা আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে আজিজি জানান, ‘হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা এবং টেকসই অগ্রগতির জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ’ শীর্ষক বিলটি গত রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আজিজি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিষয়সহ আমাদের সব রেড লাইন রক্ষায় আমরা দৃঢ় অবস্থানে আছি।’ তিনি আরও জানান, ‘এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর পর আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই বিলের উত্থাপন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রূপ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে বিকল্প নৌপথ তৈরির চেষ্টার জবাবে, গত সপ্তাহে পরপর তিন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ঘটায় ইরান। এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর গত রোববার (১২ জুলাই) হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান।
পরদিন সোমবার (১৩ জুলাই), দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। মার্কিন বাহিনী জানায়, তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে। ফলে, গত মাসের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা ছিল, কিন্তু সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এর মধ্যেই গত সোমবার, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর আবারও অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপদে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থও নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করব। সম্ভবত এটি পরিচালনাও করব। আমরা প্রণালির অভিভাবক হব। এর জন্য আমাদের অর্থ দেওয়া উচিত।’
এর কিছুক্ষণ পর, নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ কার্যকর করছে।
তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত হবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত ধরনের ব্যয় হবে, তার জন্য প্রণালি দিয়ে চলাচল করা প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে। এই ব্যবস্থা কার্যকরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তার ভাষ্য, ‘চুক্তি হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু তারা তা ভেঙেছে। তারা সব সময় চুক্তি ভাঙে। তাদের সঙ্গে আমাদের ১০টি চুক্তি হয়েছে। তাই এবার আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালাব।’
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না।
তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা বা তাদের বাহিনীকে রসদ সরবরাহকে ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে, পুরো অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন