বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:১২ পি.এম
ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে তারিক চয়ন পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
পোস্টে তারিক চয়ন লেখেন, ‘কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে পদত্যাগ করলাম।’
তিনি বলেন, ‘দেড় বছর শহরটিতে সুন্দর সময় কাটিয়েছি। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি।’
পোস্টে কলকাতায় তার পেশাগত জীবন, অফিস, সহকর্মী ও বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে একটি বই লেখার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
তিনি লেখেন, ‘পেশাগত জীবন, অফিস, সহকর্মী এবং কলকাতার বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে বই লেখার ইচ্ছে আছে। সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ্ আমাদের সকলের সহায় হোন।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তারিক চয়নকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বতী সরকার।
এরপর তার দায়িত্বের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। গত বছরের ২৬ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে বলা হয়েছিল, পূর্ববর্তী চুক্তির ধারাবাহিকতায় ১১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এ নতুন নিয়োগ কার্যকর হবে।
কূটনৈতিক মিশনে যোগদানের আগে তারিক সাংবাদিকতা করতেন। তিনি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশন, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে কলাম লিখেও খ্যাতি অর্জন করেন।
কর্মক্ষেত্রে এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি মালয়েশিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, পশ্চিমবঙ্গে ‘মৈত্রী সম্মাননা’ ও ‘সেরা বাঙালি সম্মাননা’ লাভ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে একই বিভাগের একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কাছে ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) এর পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তার কাছে এসে অভিযোগ করেছেন যে, তাদের একজন শিক্ষক ছাত্রীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ দেন অধ্যক্ষের কাছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাজে মন্তব্য করেছেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর নিয়েও ছাত্রীদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে তারা ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কুরুচিপূর্ণ ব্যবহার করা ছাড়াও নোট বিক্রি করেন এবং অর্থের বিনিময়ে ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন।
তবে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভাগে আমার কোনো শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধ নেই। মাস্টার্সের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ২৭৬ জন শিক্ষার্থী আছে। আর একটি হলো নোটিস বোর্ড ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সেখানে এমন কোনো মন্তব্য করিনি, যা কুরুচিপূর্ণ আচরণ হতে পারে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীরা যে কমেন্টসের কথা বলছে, তা ছয়-সাত মাস আগের। এটা নিছক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিএম কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাবের হোসেন বলেন, বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার স্পর্শকাতর বিষয়। তদন্ত ছাড়া এ নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না। তবে তারা এ ঘটনার ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাশোঁপাড়া ইউনিয়নের নিজ কুলিহার থেকে কাঠখৈয়র পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি আজও কাঁচা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের অভাবে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ ও কাদার স্তূপ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বড় অংশ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানি জমে থাকায় রাস্তা ও পাশের ডোবার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের অংশেও জমে থাকা কাদা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন, রিকশা ও ভ্যান চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি দিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ মান্দা উপজেলা সদর, নওগাঁ জেলা সদর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ধান, চাল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করার জন্যও এটি একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই রাস্তার একই অবস্থা। কোনো যানবাহন চলতে পারে না, বৃষ্টি হলে হেঁটেও চলা যায় না। বছরের পর বছর আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল। বর্ষায় ধান-চাল বাজারে নিতে পারি না। জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাই।
স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে স্কুলে আসতে আমাকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মোটরসাইকেল রেখে কাদা-পানি পেরিয়ে হাঁটতে হয়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এজন্য বর্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রইচ উদ্দিন মণ্ডল জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। জরুরি রোগী হলে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, অনেক সময় তক্তা বা মাচায় করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। বিষয়টি একাধিকবার চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
কাশোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমার বাড়ির সামনেই রাস্তাটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি সত্য। তবে ইউনিয়ন পরিষদের এককভাবে কাঁচা রাস্তা পাকা করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছে। একবার এস্টিমেট ও মাপজোখও হয়েছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কাজ শুরু হয়নি। এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ জরুরি।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, নিজ কুলিহার থেকে কাঠখৈয়র পর্যন্ত আইডিভুক্ত আড়াই কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি তার জানা রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে জেলা এলজিইডিতে প্রস্তাব পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির পাকাকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার-বিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে দেশে সকল মাদ্রাসাকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
এটি বুধবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ৭ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’ অনুমোদন লাভ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সকল মাদ্রাসায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বোর্ডের আওতাধীন সকল স্তরের মাদ্রাসার (দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল) অধ্যক্ষ, সুপার, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদস্যদের প্রত্যেককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ১০৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে খোলা রাখার পর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা নিরাপদ সীমানায় নেমে আসার কারণে বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে সমস্ত জলকপাট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, টানা চার দিন ধরে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পানি নিষ্কাশন হওয়ায় লেকের পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বুধবার রাত ১১টায় লেকের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৩ দশমিক ২৬ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। জলকপাটগুলো বন্ধ হলেও বর্তমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট থেকে গড়ে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা যখন ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএলের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং বিপজ্জনক গতিতে চলে আসে, তখন শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটের সময় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল।
এর ফলে টানা ১০৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই লেক থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হয়। এতে পানির উচ্চতা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ জলকপাটগুলো বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ