ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা


পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, তার ঐতিহাসিক ডায়েরির একটি ছবি বইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিকথা হিসেবে পরিচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।’

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধে ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) একটি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’।

এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূলকথায় যা আছে-

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো... ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’

চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে... ১৩ মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন... এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস... দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’

নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লিখেছেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল... ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’

জিয়াউর রহমান লিখেছেন- ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে... ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’

আরও পড়ুন: ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ ও ফি নির্ধারণ

পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লিখেছেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিল... ২৬ মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’

কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘দিনটি ছিল ২৭ মার্চ... সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়... বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ২৭ মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চুয়েট অধ্যাপক আরাফাতকে শিক্ষার্থীদের অবাঞ্চিত ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস আবারও মালয়েশিয়া যাচ্ছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে।

তিনি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন মালয়েশিয়ার দিকে।

এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি জানান, মির্জা আব্বাস নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিপস্টিক কেনার সময় প্যাকেটে ৫ ক্ষতিকর উপকরণ থাকলে সাবধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


লিপস্টিক কেনার সময় প্যাকেটে ৫ ক্ষতিকর উপকরণ থাকলে সাবধান

লিপস্টিক, যা সাজগোজের অন্যতম জনপ্রিয় উপকরণ, ব্যবহার করার সময় ঠোঁটে রং লাগানোর ফলে চেহারায় ভিন্ন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তবে ঠোঁটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত লিপস্টিকের মান এবং উপাদানের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যদি কেউ দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করে, তাহলে ঠোঁটে শুষ্কতা, জ্বালা কিংবা রঙের পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেকের ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়ে, যদিও তারা ধূমপান করেন না। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে গাঢ় রঙের লিপস্টিক দীর্ঘদিন ব্যবহার করাও একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

লিপস্টিকে থাকা উপকরণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা রয়েছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লিপস্টিকের গাঢ় রঙ তৈরির জন্য বিভিন্ন ধাতব রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো উপাদান নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহারের ফলে এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে ঠোঁটের স্বাভাবিক রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। কারও ঠোঁটে কালচে ছোপ দেখা দিতে পারে, আবার কারও ঠোঁট বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া লিপস্টিকে ব্যবহৃত বিভিন্ন সুগন্ধি ও রাসায়নিক রং থেকেও ঠোঁটে অস্বস্তি বা রঙের পরিবর্তন ঘটতে পারে। লিপস্টিক কেনার সময় উপকরণের তালিকায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, রেড ডাই ৪০ ও ইয়ালো লেক ৫ থাকলে সতর্ক থাকা উচিত। এসব উপাদান ত্বকের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে।

কম দামের লিপস্টিকেই বেশি ঝুঁকি?

শুধু কম দাম দেখেই লিপস্টিক কেনা উচিত নয়। বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে নিম্নমানের প্রসাধনী কিনলে তা ত্বক ও ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সুতরাং, লিপস্টিকের সংখ্যা বেশি রাখার চেয়ে মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।

কেনার আগে উপকরণের তালিকা পড়ুন

লিপস্টিক কেনার সময় শুধুমাত্র রং ও দাম দেখলেই হবে না। প্যাকেটের গায়ে দেওয়া উপকরণের তালিকাটিও দেখে নেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে উপরে উল্লেখ করা উপাদানগুলোর নাম থাকলে সেই পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এমন পণ্য বেছে নেওয়া উচিত, যা ব্যবহারে ঠোঁটে অস্বস্তি বা শুষ্কতা তৈরি করে না।

লিপস্টিক পরে ঘুম নয়

সারাদিন লিপস্টিক পরে রাতে সেটি না তুলে ঘুমিয়ে পড়া ঠোঁটের জন্য ভালো নয়।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে আলতো হাতে তেলভিত্তিক প্রসাধনী পরিষ্কার করার উপকরণ দিয়ে লিপস্টিক তুলে ফেলুন। এরপর ঠোঁটে ভালো মানের লিপ বাম ব্যবহার করে ঘুমাতে যেতে পারেন।

এতে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা কমবে।

ব্যবহারের আগে ঠোঁট সুরক্ষিত রাখুন

লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে লিপ প্রাইমার অথবা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

এতে লিপস্টিক সরাসরি ঠোঁটের ত্বকে লাগার মাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে ঠোঁটের আর্দ্রতাও ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করা খুব বেশি পরিমাণে ভালো নয়। ম্যাট ধরনের লিপস্টিক দীর্ঘ সময় ঠোঁটে স্থায়ী হয়। এ কারণে অনেকেই এটি পছন্দ করেন। তবে এসব লিপস্টিক ঠোঁটকে তুলনামূলক বেশি শুষ্ক করে দিতে পারে।

অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে ঠোঁটে অস্বস্তি ও রঙের পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন দীর্ঘ সময় খুব বেশি ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো।

সুন্দর ঠোঁটের জন্য একটু সচেতনতাই যথেষ্ট। লিপস্টিক সাজগোজের অংশ হলেও এটি সরাসরি ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে। তাই শুধুমাত্র পছন্দের রং নয়, পণ্যের মান ও উপকরণের তালিকার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

ভালো মানের পণ্য বেছে নেওয়া, ঘুমানোর আগে লিপস্টিক তুলে ফেলা, ঠোঁট আর্দ্র রাখা এবং অতিরিক্ত শুষ্ক করে এমন পণ্য কম ব্যবহার—এসব অভ্যাস ঠোঁটের যত্নে সহায়ক হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগর স্বাস্থ্যসেবায় ১৩ সিটিতে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


নগর স্বাস্থ্যসেবায় ১৩ সিটিতে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ

নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের জন্য মোট ২০ কোটি টাকা আবর্তক অনুদান হিসেবে বরাদ্দ করেছে সরকার।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নগর উন্নয়ন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালন বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বাবদ সিটি করপোরেশনের জন্য আবর্তক অনুদান খাতে মোট ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাবদ স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিশ্রুত ২৫ শতাংশ অর্থও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বরাদ্দের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পেয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এছাড়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ২ কোটি, বগুড়া সিটি করপোরেশন ১ কোটি ৭৫ লাখ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন ১ কোটি ২ লাখ টাকা পেয়েছে।

অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৭৩ লাখ, বরিশাল ৭২ লাখ, ময়মনসিংহ ৬৫ লাখ, খুলনা ৬০ লাখ, কুমিল্লা ৫২ লাখ, রংপুর ৫২ লাখ এবং সিলেট সিটি করপোরেশন ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরবর্তী অর্থের বিভাজন অনুমোদনের সময় সংশ্লিষ্ট সিজিএ ও সিএও অফিসের সঙ্গে সংগতি সাধন করে চলতি অর্থবছরের ব্যয় বিবরণী দাখিল করতে হবে।

এছাড়া, বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিল উত্তোলনকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুই শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুই শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগের কারণে তাসমিন (৪) নামের একটি শিশু এবং রাফসান নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮ জন।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ১ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৪ জন। আগস্ট মাসে নতুন করে ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ওই মাসে মৃত্যু ঘটে দুজনের।

সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাসের প্রথম ১৫ দিনে ১ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ মাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে চট্টগ্রামে ৫৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং মারা যান দুজন। জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২২ জন। মে মাসে ৩৭, এপ্রিলে ২৯, মার্চে ২০, ফেব্রুয়ারিতে ২২ এবং জানুয়ারিতে ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চলতি বছর সীতাকুণ্ড উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১৫ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫৬৪ জন, নারী ৮৫৪ জন এবং শিশু ৬৩০ জন। মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে চারজন পুরুষ, সাতজন নারী এবং তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জনের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%