০৪:৩৬ পি.এম
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর কাদা ও পাথরের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে মঙ্গলবারও উদ্ধারকারীরা হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই বন্যায় এক প্রদেশজুড়ে তাণ্ডব চালানোর ফলে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবারের আকস্মিক বন্যার পরে প্রায় ১০০ জনের এখনো খোঁজ মেলেনি।
একইসাথে সরকারের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৩ জন বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের পারুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
এএফপি’র এক সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ করেছেন, নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী প্রত্যন্ত পারুনে তখন কিছু ডজন মানুষ কাঠের খুঁটি ও খালি হাতে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন।
৩৪ বছর বয়সী ওষুধ বিক্রেতা ফরিদ গুল জাহির বলেন, 'আমি জীবনে এত ভয়ংকর বন্যা কখনও দেখিনি।'
তিনি এএফপিকে আরও জানান, 'মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। চারদিকে শিশু ও মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।' পাহাড়ের দিকে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
মঙ্গলবার পারুনে ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটূ বুলডোজার ব্যবহার করা হলেও, তাতে খুব বেশি অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব হয়নি। বন্যায় বহু দোকান কাদার নিচে চাপা পড়ে গেছে।
বিশাল বড় পাথর গড়িয়ে এসে ভবনগুলোতেও আঘাত হেনেছে।
গভর্নরের কার্যালয় সোমবার জানিয়েছে, পারুনের মেয়র এবং সরকারের আরও কয়েকজন কর্মচারী নিখোজদের মধ্যে রয়েছেন।
স্পোগমাই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকিরুল্লাহ জাকি জানান, 'মনে হচ্ছিল আমাদের ওপর যেন খোদার গজব নেমে এসেছে।'
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
২৯ বছর বয়সী জাকি এএফপিকে বলেন, 'অন্য সব হোটেল, বাজার ও দোকানপাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।'
আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান জুমা খান নাইয়েল পরিস্থিতিকে 'ভয়াবহ' বলে মন্তব্য করে বলেন, পানির উচ্চতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
তিনি আরও জানান, সংস্থার কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবক কোদাল ও খালি হাতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, 'এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আমরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে তাদের জন্য তাঁবু সরবরাহ করছি।'
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।
বন্যা ও ভারী বৃষ্টির ফলে প্রতিবেশী পাকিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে সেখানে বন্যার দুর্যোগ বাড়ছে।
এ মাসে মাওলভি মতি-উল-হক খালিস বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো 'আফগান জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন