০৪:৪৭ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনাটির প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠনসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রায় ৮ ঘণ্টা ব্যাপী অবরোধের পর শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার কারণে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবে চালু হয়।
মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় প্রশাসনের, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সভায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর তদন্ত করবে এবং অপর এক কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে।
সভায় আরেকটি সিদ্ধান্ত ছিল, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হবে। তবে তিনি যদি চান, তাহলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এই ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস আমরা পেয়েছি। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান জানান, রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে আমরা পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন করেছিলাম অবরোধ তুলে নিতে। শিক্ষার্থীদের যে চার দফা দাবি ছিল, তার সবগুলোই মোটামুটিভাবে পূরণ করতে পেরেছি। যে ব্যক্তিটি মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি এবং রেলের জন্যও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়েছিল এবং বহু যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরে, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এমনকী, পরবর্তীতে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন