১০:৫১ পি.এম
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের চিহ্নিতকরণ বা বিভাজনের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সমঅধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত। মানুষের পরিচয় ধর্মের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষ হিসেবে; এটি একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
রাজনীতি বা ভোটের রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার না করার আহ্বানও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি হওয়া উচিত সবার প্রতিশ্রুতি।
শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
মন্ত্রী বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজের ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, একজন মানুষের রক্তের রঙ ধর্মভেদে পরিবর্তন হয় না, ঠিক তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না।
মানুষ হিসেবে সবাইকে মূল্যায়ন ও সম্মান করতে পারলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে। দুর্গাপূজাসহ যেকোনো ধর্মীয় উৎসব পালন করতে বিশেষ নিরাপত্তা প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়—এতে তিনি মন্তব্য করেন। বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ অনুভব করবেন এবং নির্বিঘ्नে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।
মো. আসাদুজ্জামান আরো বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজের ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি বিভাজনের অনুভূতি সৃষ্টি করে—এভাবে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় মূলত বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয় ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় হলেও নাগরিক পরিচয় ও অধিকার সকলের জন্য সমান।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো দুর্বৃত্ত কারো বাড়িঘর, উপাসনালয় অথবা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর সাহস না পায়। নিরাপদ, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন