ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাধবপুরের ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ


মাধবপুরের ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ

মাধবপুর উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য তুলে ধরেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, মাধবপুর উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। মাত্র দুজন সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে এত সংখ্যক শিক্ষককে নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ইনোভেশনের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করতে সামান্য বাজেটের প্রয়োজন হবে। তবে এর কার্যকারিতা হবে ব্যাপক। শিক্ষকদের উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা বলেন।

উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেনের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, "স্যারের প্রত্যেকটি ভালো কাজে আমরা সঙ্গে রয়েছি। তবে অনলাইন হাজিরার মাধ্যমে আমরা বর্তমানে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারছি। তাই বায়োমেট্রিক হাজিরার বিষয়টি আরও একটু চিন্তা করা উচিত।"

স্থানীয় জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমএম গউস মন্তব্য করেন, "বলা সহজ, বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি মাইলফলক হতে পারে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি দাতাদের অর্থায়নের জন্য আহ্বান জানাই।"

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, "আমি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তবে কাজটি বাস্তবায়নে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও জবাবদিহিতা বাড়াতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম জিল্লুর রহমান বদলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ পি.এম


হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম জিল্লুর রহমান বদলি

আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. জিল্লুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একটি অফিস আদেশে তাকে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জারি করা ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজের স্বার্থে ও জনস্বার্থে জিল্লুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর আরটিভিতে ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ- এই পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা’ শিরোনামে জিল্লুর রহমানের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা, গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা এবং মামলা মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জিএম জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। এছাড়া চারটি সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য ভূমি ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল আদায়ের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠে এসেছে।

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তার বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বদলি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়মিত কার্যক্রম; এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়।"

অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই আদেশে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ইসমাত কামালকেও হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বদলি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মঈনুল হাসানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জিল্লুর রহমানের বদলির আদেশ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন আইনে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ পি.এম


নতুন আইনে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন একটি আইন কার্যকর হওয়ার পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের (মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা- আইসিই) বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে সংশোধনী এনেছেন তিন মার্কিন নাগরিক। তাদের অভিযোগ, অভিবাসন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘নো কিংস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত নতুন আইনটিতে স্বাক্ষর করেছেন। সিনেটর স্কট ওয়েনারের প্রস্তাবিত এই আইনটির ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন, যদি তারা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। আইনটি ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

আইনটি কার্যকর হওয়ার পর লস অ্যাঞ্জেলেসের আইনজীবী মারিয়া গার্সিয়া বালদিজোন তিন মার্কিন নাগরিকের হয়ে করা মামলায় সংশোধনী আনেন। এসব মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এবং পরিচয় প্রকাশ না করা কয়েকজন ফেডারেল কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

তিন বাদীর একজন, পূর্ব লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা হাভিয়ের রামিরেজ, যিনি একজন মার্কিন নাগরিক। রামিরেজের অভিযোগ, ফেডারেল কর্মকর্তারা তার নিজ বাড়ির এলাকায় গিয়ে তাকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও মামলায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

রামিরেজের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তা তাকে দেখিয়ে বলেন, ‘ওকে ধরে ফেলো, সে মেক্সিকান।’ তিনি তখন নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রামিরেজ বলেন, তাকে কেন আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং ফেডারেল তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগে আটক করেছিলেন বলে জানান তিনি।

অন্য একটি মামলার বাদী ক্যারি লোপেজ। তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের দ্বারা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, ওই ঘটনার পর লোপেজকে আটক করা হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার মানসিক ও শারীরিক আঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তার সন্তান জন্ম নেয় বলে তিনি দাবি করেছেন।

তৃতীয় বাদীর অভিযোগ, কয়েকজন অভিবাসন কর্মকর্তাকে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তিনি ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনজীবীর দাবি, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তার হাত, কাঁধ ও পিঠে আঘাত লাগে।

বাদীদের আইনজীবী মারিয়া গার্সিয়া বালদিজোন বলেন, তার মক্কেলরা অপরাধী নন। তারা নিজেদের স্বাভাবিক কাজ করছিলেন এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার অভিযোগ, এরপরও তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নতুন আইনটির উদ্যোক্তা সিনেটর স্কট ওয়েনার বলেন, ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করার ক্ষেত্রে যে আইনি জটিলতা ছিল, নতুন আইনটি তা দূর করবে। তার মতে, যদি কোনো ফেডারেল কর্মকর্তা সংবিধান লঙ্ঘন করেন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতে গিয়ে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন।

তবে নতুন আইনটির সমালোচনাও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্রীয় জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বিল এসাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ফেডারেল নির্বাচনে জয়ী হতে হবে এবং ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের ওপর ফেডারেল কর্মকর্তাদের কোনো এখতিয়ার নেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের মাধ্যমে ফেডারেল কর্মকর্তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওয়ানি মামলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: ফক্স এলিভেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় পথশিশু দিবস আজ, পথেই কাটছে যাদের শৈশব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


জাতীয় পথশিশু দিবস আজ, পথেই কাটছে যাদের শৈশব

আজ ২ অক্টোবর জাতীয় পথশিশু দিবস। দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় জীবন কাটাচ্ছে বহু শিশু, যারা শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শৈশবের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন জরিপ ও প্রতিবেদনে তাদের কঠিন জীবনযাপন, শিশুশ্রম, নির্যাতন ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে পথশিশুর মোট সংখ্যা নিয়ে সরকারি নির্দিষ্ট হিসাব হালনাগাদ নেই। তবে ২০২৪ সালের ইউনিসেফের ‘চিলড্রেন লিভিং ইন স্ট্রিট সিচুয়েশনস ইন বাংলাদেশ ২০২৪’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩৪ লাখের বেশি শিশু মা-বাবার সরাসরি যত্ন ছাড়া পথের পরিস্থিতিতে রয়েছে। এই প্রতিবেদনটি ৪০০-এর বেশি শিশুর অভিজ্ঞতা ও দেশের বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

স্কুলের বদলে রাস্তায় শৈশব

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘পথশিশু জরিপ ২০২২’ অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগ ও ঢাকার বিভিন্ন পথশিশুদের হটস্পট থেকে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ শিশুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৪০ শতাংশ পথশিশু কখনো কোনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। স্কুলে যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণি শেষ করতে পারেনি। মাত্র ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণি শেষ করতে সক্ষম হয়েছে।

একই জরিপে দেখা যায়, ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ পথশিশু পড়তে বা লিখতে পারে না। অর্থাৎ, শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একটি বড় অংশ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে কাটছে।

জীবিকার জন্য শিশুশ্রম

‘পথশিশু জরিপ ২০২২’ অনুযায়ী, পথশিশুদের একটি বড় অংশ জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ছেলে পথশিশুদের ৯২ দশমিক ১ শতাংশ এবং মেয়ে পথশিশুদের ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো না কোনো কাজে যুক্ত রয়েছে।

কাজের ধরনেও বৈচিত্র্য রয়েছে। ২০ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু আবর্জনা সংগ্রহ করে, ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভিক্ষা বা ভিক্ষায় সহায়তা করে, ১৬ শতাংশ পরিবহন ও নির্মাণসংক্রান্ত কাজে যুক্ত এবং ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ দোকান, রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানে কাজ করে। এছাড়া ৫ শতাংশের কম শিশু ঝাড়ু দেওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত রয়েছে।

জরিপে আরও দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক কর্মজীবী পথশিশুকে নয় বছর বয়সের আগেই কাজে নামতে হয়েছে। বেশির ভাগ শিশু সপ্তাহে ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করে এবং তাদের বড় অংশ সপ্তাহে এক হাজার টাকারও কম আয় করে।

কেন পথে আসে শিশুরা

‘পথশিশু জরিপ ২০২২’-এ প্রায় ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দারিদ্র্যের কারণে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথে এসেছে। পরিবারে অশান্তি, খাদ্যসংকট, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও কাজের সন্ধানে অনেক শিশু রাস্তায় আসে। জরিপে প্রায় ১৩ শতাংশ শিশুকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং প্রায় ৬ শতাংশকে এতিম অথবা বাবা-মা জীবিত কি না সে বিষয়ে অনিশ্চিত হিসেবে পাওয়া যায়।

নিরাপদ ঘুমের জায়গাও নেই

পথশিশুদের একটি বড় অংশের স্থায়ী বা নিরাপদ আশ্রয় নেই। ‘পথশিশু জরিপ ২০২২’ অনুযায়ী, ৩০ শতাংশের বেশি শিশু জনসাধারণের খোলা জায়গায় বসবাস ও ঘুমায়। তাদের অনেকে ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, পার্ক ও অন্যান্য জনবহুল এলাকায় রাত কাটায়।

জরিপে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক শিশু মাটির ওপর চট, কার্টন, পলিথিন বা পাতলা কম্বল বিছিয়ে ঘুমায়। রাতে ঘুমানোর সময়ও তারা সহিংসতার শিকার হয়।

কাজের জায়গায় নির্যাতনের ঝুঁকি

পথে বসবাস ও কাজ করা শিশুদের জন্য নির্যাতনের ঝুঁকিও বড়। ‘পথশিশু জরিপ ২০২২’ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে প্রায় ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। পথচারীদের কাছ থেকেও হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।

এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন অসুস্থতার তথ্য পাওয়া গেছে। অনেক শিশুই অসুস্থ হলে সহজলভ্য স্থানীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে।

মেয়েশিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

মেয়েশিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। ‘পথশিশু জরিপ ২০২২’ অনুযায়ী, পথের ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েশিশুদের ৬৪ শতাংশ মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহার করে। ৭৩ শতাংশ একই পুরোনো কাপড় বারবার ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।

করোনায় আরও কঠিন হয়েছিল জীবন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় পথশিশুদের সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আগের একটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ৭২ শতাংশ পথশিশু খাদ্যসংকটে পড়েছিল, ৬৫ শতাংশ কাজ হারিয়েছিল এবং ৫৩ শতাংশ থাকার জায়গা হারিয়েছিল।

পথে থাকা শিশুর সংখ্যা নিয়ে নেই হালনাগাদ হিসাব।

পথশিশুদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হিসাব পাওয়া গেলেও এগুলোর মধ্যে সময় ও পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। ‘পথশিশু জরিপ ২০২২’ মোট পথশিশুর সংখ্যা নির্ধারণ করেনি। অন্যদিকে, ইউনিসেফের ‘চিলড্রেন লিভিং ইন স্ট্রিট সিচুয়েশনস ইন বাংলাদেশ ২০২৪’ প্রতিবেদনে ৩৪ লাখের বেশি শিশুর কথা বলা হয়েছে, যারা মা-বাবার সরাসরি যত্ন ছাড়া পথের পরিস্থিতিতে রয়েছে। তাই বিভিন্ন উৎসের সংখ্যাকে একই ধরনের হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জাতীয় পথশিশু দিবসে জরিপগুলোর তথ্য বলছে, পথশিশুদের জন্য শুধু সাময়িক আশ্রয় বা পুনর্বাসন নয়, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবারভিত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও শিশুশ্রমের মতো যে কারণগুলো শিশুদের পথে ঠেলে দেয়, সেগুলো মোকাবিলা না করলে নতুন করে পথশিশু তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পথশিশুদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। দারিদ্র্য ও খাবারের অভাবের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক নানা সংকট শিশুদের পথে আসার অন্যতম কারণ। তাই এসব কারণ দূর করার উদ্যোগ না নিলে নতুন করে পথশিশু তৈরির প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন হবে।

জাতীয় পথশিশু দিবস তাই শুধু পথে থাকা শিশুদের কথা মনে করার দিন নয়; বরং তাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নতুন করে স্মরণ ও তা বাস্তবায়ন করার দিন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আজ ২ অক্টোবর জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিবসটি প্রতি বছর দেশের শিল্প, কৃষি ও সেবাসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা হয়।

জাতীয় উৎপাদনশীলতা সংস্থা, যা শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, দিবসটি উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো— ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, "সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, টেকসই উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং টেকসই শিল্প অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে শিল্প ও সেবা খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, "এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি শিল্প ও সেবা খাতের সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।" প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল অর্থনীতি, উচ্চপ্রযুক্তির কর্মসংস্থান এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।

দিবসটি উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (২ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর-১ চিড়িয়াখানা রোডের বিসিআইসি কলেজ প্রাঙ্গণে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। একই স্থানে জাতীয় উৎপাদনশীলতা উদ্ভাবন মেলার উদ্বোধনও করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%